09/12/2025
নারীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস,মূল্যবোধ,
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা,
ভিন্নভাবে বিশ্লেষণের দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন সম্পর্কে উপলব্ধি/মূল্যায়ন, বৈষম্য কে চিহ্নিত করতে পারার দক্ষতা, প্রতিকূলের বিপরীতে মাথা উঁচু করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি,
এইসমস্ত আসলে কেন জরুরী ?
প্রস্তরযুগ,তাম্রযুগ,লৌহ যুগ পেরিয়ে ক্রমবিকাশমান মানবসভ্যতা আজকের যেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে,
সেই মানবসমাজের অর্ধেকটা অংশই হোলো নারী।
খুব সহজ সাধারণ সোজাসাপটা সত্যি কথা এটি। কোনো জটিল অংক নয়।
মানুষের বিকাশ শুধুমাত্র জৈবিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে নেই আর । জৈবিক ধারণার বাইরে গিয়ে আরো বৃহৎ পরিসরে মানুষের যে উন্নত প্রাণী হয়ে ওঠার গল্প,
সে গল্পে মানুষ জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, সামাজিক, শৈল্পিক এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন!
মানুষ বিমূর্ত চিন্তা করতে পারে!
জটিল সব সমস্যা নিয়ে বিশ্লেষণ,
আর সেসব থেকে উত্তরণের বিকল্প পন্থা,
এইসব কিছুই মানুষের মোটামুটি কয়েক লক্ষ বছরকার জার্নি। কয়েক লক্ষ বছরকার ফলাফল।
মানুষ আবিষ্কার করে ভাষা,
সে লিপিবদ্ধ করে তথ্য,
জ্ঞান-অভিজ্ঞতা-এবং ইতিহাস কে সংরক্ষণ করে,
এবং সেগুলোকে সঞ্চারিত করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সেই পাথরের হাতিয়ার থেকে শুরু করে, চাকা, আগুন,কৃষি,
বাষ্পীয় ইঞ্জিন কিংবা রকেট
শিল্প-সাহিত্য-চিত্রকর্ম
চিকিৎসা বিজ্ঞান কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
এই সমস্ত কিছুই মানুষের আবিষ্কার!
মানুষের! অর্থাৎ নারীর এবং পুরুষের।
নারী কেবল মা হবে, বোন হবে, কন্যা হবে, স্ত্রী হবে,
নাকি এর পাশাপাশি শ্রমিক হবে, চিকিৎসক হবে, শিল্পী হবে, রাজনীতিবিদ হবে,
নারীর চলন কেমন হবে (!), পোশাক কেমন হবে(!),
এইসমস্ত বাহ্যিক আলাপের পাশাপাশি
আরো একটু গভীরে গিয়ে এই আলাপ টা ও জরুরী যে,
নারী আসলে 'মানবসভ্যতার অর্ধেকটা অংশ'!
সুতরাং এই মহাবিশ্বের এক ক্রমবিকাশমান বুদ্ধিবৃত্তিক সত্ত্বা হিসেবে,
নারীর জ্ঞান, দক্ষতা, বিমূর্ত চিন্তা, যুক্তিবাদী ক্ষমতা, জটিল মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনের প্রায়োগিক ব্যাবহার,
তার শিল্প, সাহিত্য,জীবনবোধ,
তার গবেষণা, উদ্ভাবন, লিপিবদ্ধকরণ,
এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতে সেসবের স্থানান্তর করণ,
এই সব কিছুই মানুষ হিসেবে তার দায়বদ্ধতার ভেতর পরে।
মানুষ হিসেবে তার মূল্যায়নের ভেতরে পরে।
সুতরাং নারীর শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, আত্মিক, আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক বিকাশ,
ক্রমশ আলোচনা, মূল্যায়ন এবং চর্চিত হবার বিষয়।
এইসমস্ত গভীর আলাপ এর পাশ কাটায়ে,
শুধুমাত্র 'মা' হিসেবেও যদি
কোনো নারীকে মূল্যায়ন করা হয়,
তাহলেও শিশুর সর্বপ্রথম শিক্ষক এবং শিশুর ওপর সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী সত্তা হিসেবে,
নারীর শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পরিণত মূল্যবোধ,
এইসমস্ত এমনকি পুরুষের চেয়েও অধিক গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করতে পারাটা জরুরী।
কারণ আর যাই হোক, অন্তত মা হিসেবে হলেও,
নারী এবং পুরুষের প্রথম প্রশিক্ষক এবং প্রথম পরিচর্যাকারী সত্তাটি কিন্তু
একজন নারী!
সুতরাং,সকল প্রতিকূলতার বিপরীতে,
সকল ঔদ্ধত্য, উগ্রতা, আগ্রাসন,
ধর্মান্ধতা-সংকীর্ণতা-নিপীড়ন
এইসমস্ত কিছুর বিপরীতে দাঁড়িয়ে,
নারীর জন্য জ্ঞান, শিক্ষা, এবং পরিণত জীবনবোধ এর নিরলস চর্চা টা জরুরি।
নারী ভালো থাকুক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে
নারী চর্চিত হোক 'রোকেয়ায়' এবং 'নভেরায়'
রোকেয়া দিবস
৯ ই ডিসেম্বর, ২৫
বিদ্র: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার চমৎকার সব অনুপ্রেরনীয় অগ্রজ আপুদের উদ্যোগ,
এবং নারী সাইক্লিস্ট গ্রুপ নভেরা'র যৌথ অংশগ্রহণে,
গত ৫ ই ডিসেম্বর সকালে 'বেগম রোকেয়া'র স্বরণে,রোকেয়া দিবস কে সামনে রেখে, আমরা সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলাম।
এসময় নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অধিকার, রোকেয়ার আদর্শকে স্মরণ, এইসমস্তের পাশাপাশি, নারীর নিরাপদ ডিজিটাল স্পেসের দাবীকেও সামনে আনা হয়।