টিকিটাকায় ভ্যারিয়েশন, মর্ডান গেইমের এডাপ্টেশন প্পাস স্টাইলে ইনোভেশন না থাকলে একটা সময় বোরিং পাসিং পাসিং স্লো বিল্ডাপের প্রেডিকটাবল এক বিচ্ছিরি ফুটবলে পরিনত হয়। এক্সামপল জাভির প্রথম সিজন এন্ড দ্বিতীয় সিজন। লেটেস্ট এক্সামপল আর্সেনাল। আর এই টাইপ ফুটবল খেলা দল লো ব্লকের সামনে এত বেশি করে ভোগে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। পুরা খেলায় মাত্র একটা অন টার্গেট শট। আর ঐদিকে পজেশনাল ফুটবলে ওয়ান টাচ এটাকিং ভ্যারিয়েশন এড করে ফ্লিকের বার্সা এই মুহূর্তে ইউরোপের সবচেয়ে ডেডলি এটাকিং এন্ড এন্টারটেইনিং ফুটবল খেলছে।
ফুটবল ফ্রিক
ফুটবল ফ্রিকে আপনাকে স্বাগতম।
28/10/2024
My Boy should have been White!
Fu¢k marketing, VINI winning the UCL once again , thats too by scoring in the Final. Written in the stars.
Vini Jr, The BEST in the World.
আজ হ্যান্সি ফ্লিকের একটা মাস্টার স্ট্রোকে পুরা গেইম সিনারিও একেবারেই বদলে যায়। মিডফিল্ডে প্রথমার্ধের সেইফ এটাকিং এপ্রোচে মাদ্রিদকে বোকা বানানোর জন্যে হাই লাইন স্ট্রাটেজিতে ইনভাইটেশন দিয়ে গেছে পুরো ৪৫ মিনিট আসো আমার এরিয়াতে লং বল খেলো। এত পার্ফেক্ট অফসাইড ট্র্যাপ সেটাপ দিয়েছে মাদ্রিদকে যাষ্ট বরশির টোপ দিয়েছে বার্সস্র ব্যাকলাইনের পেছনে দৌড়াতে। এবং সুড়সুড় করে সেই ফাঁদে পা ও দিয়েছে মাদ্রিদ যার কারনে খেলায় ইনভলমেন্ট বা দিয়ে অতি লোভে মিডে আউট নাম্বার বা এক্সট্রা বডি পুশ না করে এম্বাপ্পে ভিনিকে অলওয়েজ উপরে রেখে লং বল খেলতে গেছে। শুরুতে এটাকিং নাম্বার ১০ ফেরমিন কে রেখে পেদ্রীকে কিছুটা ডিপে ক্যাসাদোর সাথে রেখেছিলো যখন মাদ্রিদকে টোপ দিয়েছিলো। যেই না টোপ গিলেছে এম্বাপ্পে ভিনি হাই লাইনে স্টিক থেকেছে সেই সময়ে যাষ্ট ফেরমিন কে উঠায়ে ফ্রাংকিকে সুইচ করেছে। কিন্তু ফ্রাংকির সাবে পুরা মিডের স্ট্যাবিলিটি ক্লামনেস নিয়িন্ত্রন চলে আসে বার্সার কাছে কারন পেদ্রীকে উপরে পুশ করে নাম্বার ১০ রোলে লামিন, লেওয়া, রাফিনিয়ার কাছে দিয়ে ডীপ ডাউনে নামায়ে দিয়েছে ক্যাসাদো ব্যাস খেল খতম।
প্রথম গোলে ক্যাসাদোর ডীপ প্লে মেইকিং লং বল খেল খতম। ছাদবন্ধ বার্নাবু স্তব্ধ। কি হইছে বুঝে উঠার আগেই বল জালে। কারিশমা এইখানেই শেষ না। গোল খেয়ে আগের গেলা টোপে আবারো প্রেস করতে চেয়ে পেছনে কয়েক একর যায়গা দিয়ে রাখছে মাদ্রিদ। ব্যাস বল ক্যারিয়ার পিভট ফ্রাংকির আয়াক্স মুড অন। মিডে ছোট্ট একিটা ক্যারি করে একটা ডায়াগনাল পাস টু বালদে , বালদে ক্লিয়ার এহেড এন্ড ক্রস লেওয়ার গোল। বার্সার আরো দুইটা কাউন্টারে ইনিশিয়েটিভ বল ক্যারি এসেছে ফ্রাংকি থেকে। যে ফ্রাংকিকে আমরা হারিয়ে খুঁজেছিলাম আজ ফ্লিক যেন তার বিষ্ট মুড অন করে দিলেন। শুরু থেকে ফ্রাংকি স্টার্ট করলে প্রথমার্ধেই প্লান ডিকোড হয়ে যেতো।
এই একটা ম্যাচে বার্সেলোনা নিজেদের এবিলিটির সম্পর্কে একটা মেসেজ দিয়ে রাখলো যে, "ফ্রম নাউ অন ইউ কান্ট আন্ডারস্টিমেট বার্সেলোন, নট ইভেন ইন ইয়োর ইমাজিনেশন।"
আফটার ২০০৯ মেসি যুগে মাদ্রিদ অবশ্যই বার্সার চেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জীতেছে। কিন্তু লীগায় এক চেটিয়া আধিপত্য চলে গেছে বার্সেলোনার কাছে। গ্রেটেস্ট ক্লাব ফুটবল টিম হিসেবে বিবেচিত বার্সার ঐ গোল্ডেন জেনারেশনের সাথে পেরে উঠে নাই মাদ্রিদের গ্যালাক্টিকো! রিতিমত হিউমিলেশন ও হয়েছে বেশ কিছু!
বার্সেলোনা ফেভারিট থাকলেও গ্যাল্কটিকো হাইপ, মৌরিনহো-ভার্সাস গার্দিওলা, মেসি-ভার্সাস রোনালদো হাইপে সেসব ক্লাসিকোগুলো ছিলো আমাদের মত ফুটবল ফ্যানদের কাছে ঈদের মত! এত বেশি উত্তেজনা থাকতো ম্যাচের আগে যে একদিন আগে থেকে ম্যাচ টাইম পর্যন্ত অপেক্ষা, এনালাইসিস , প্রেডিকশন কত কি যে হইতো! সোস্যাল মিডীয়ায় বেশ তর্ক বিতর্ক নিয়ে একটা আমেজ থাকতো! ক্লাসিকো মানেই ছিলো ফুটবল দুনিইয়ার বিগেস্ট ফেস্টিভাল!
রোনালদো গেলো মাদ্রিদ রিবিল্ডে একচেটিয়া ম্যাড়ম্যাড়ে ক্লাসিকো দেখা গেলো! এরপর মেসিও গেলো ক্লাসিকো হাইপ পুরোপুরি শেষ হলো। আফটার মেসি ভাঙ্গাচোরা বার্সেলোনার উপর মাদ্রিদ একপেশে ক্লাসিকো হাইপ খতম!
কিন্তু আবারো গ্যালাক্টিকো গঠন করলো মাদ্রিদ! কে নাই তাদের? কি নাই তাদের? দুনিয়ার বাঘা বাঘা সব ট্যালেন্ট আর বেস্ট বেস্ট খেলোয়াড় এনে ভয়ংকর এক দলে ইতিমধ্যেই পরিনত হয়েছে! ডর্টমুন্ডের সাথে ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ৫ গলের কামব্যাক করে জানান দিয়ে দিয়েছে যে তারা যে কাউকে কতটা ব্যাপক হারে ডমিনেট করতে পারে!
এদিকে গ্যালাক্টিকোর বিপরীতে বার্সেলোনার সেই পুরোনো স্ট্রাটেজি! একাডেমি থেকে একে একে তুলে এনে লাইন আপ ভর্তি! সেকালে এসেছিলো জাভি, ইনিয়েস্তা, পেদ্রো, ফ্যাব্রিগাস, বুস্কেটস, মেসিরা! একালে উঠে এলো পেদ্রী, গাবি, লামিন ইয়ামাল, ক্যাসাদো, ফেরমিন, বালদে, কুবার্সি, মার্ক বেরনালরা! আবারো একই রাস্তায় মাদ্রিদ আবারো সেই একই রুপে ফিরতে শুরু করেছে বার্সেলোনা!
এই নিয়ে মাদ্রিদের তিনটা গ্যলাক্টিকো দেখা হচ্ছে! প্রথম জিদান-বেকহাম-রবার্তো কার্লোস, ক্যানাভারোদের উপর ভারী পড়েছিলো এক রোনালদিনহো, এরপর মাদ্রিদ ইতিহাসের সবচেয়ে সাকসেসফুল গ্যালাক্টিকো দ্বিতীয় গ্যালাক্টিকোর উপর স্বর্নাক্ষরে নিজের স্টিকার চিপকায়ে গেছে সর্বকালের সর্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি!
আর এখন ভিনি, এম্বাপ্পে, বেলিঙ্ঘাম, রড্রিগো, এন্ড্রিকদের সমন্বয়ে গড়া সেই গ্যলাক্টিকোর উপর আবারো ভারী পড়তে যাচ্ছে ফ্রেশ লা মাসিয়া ওয়ান্ডার লামিন ইয়ামাল!
একটা প্যাটার্ন ফলো করলে দেখবেন রোনালদিনহোর সাথে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তারা ইয়াং ট্যালেন্ট হিসেবে মাঠে ছিলো। মেসির সাথে ছিলো তার সাথে উঠে আসা লা মাসিয়ার গ্রেটেস্ট এভার কন্সিডারড হওয়া পুরো ব্যাচ!
এবার লামিনের সাথে উঠে আসছে লা মাসিয়ার আরো একটা ব্রাইটেস্ট ব্যাচ!
হিস্টোরি বারবার রিপিট হচ্ছে! গ্যালাক্টিকোর এন্টী গ্যালাক্টিকো জিনিসটা কিভাবে জানি বার্সার হাতে লেগে যায়! কথায় আছে ন্যাচার হ্যাজ ইটস ওউন ব্যালেন্স!
আজকে প্রেশার দিলে ৮ টাও দেয়া যাইতো।সামনে ক্লাসিকো তাই হুদাই আর এনার্জি নষ্ট করে নাই। ৪ গোলের পর বার্সা খেলা স্লো করে দিয়ে সেইফ খেলা স্টার্ট করেছে। এই খেলায় কুন্দে, মার্ক কাসাদো, পাউ কুবার্সি, ইনিগো মার্টিনেজদের যে নিয়ন্ত্রণ ছিলো তা আমার চোখে লেগে আছে এখনো। উইদাউট ইনিগো মার্টিনেজ ইনাকি পেনার কোন গ্যারান্টি নাই। ম্যাচের মধ্যে অন্তত চারবার পেনাকে পজিশনিং ঠিক করাইছে ইনিগো। আর পাউ কুবার্সি ইউরোপের বেস্ট ইয়াং ডিফেন্ডার না বরং ইমপ্যাক্টফুল ডিফেন্ডারদের লিস্ট করলে পাউ কুবার্সি সবার উপরে। ব্যাক লাইনের প্লে মেকার। হোয়াট এ ট্যালেন্ট। ওর একটা পাসে পুরো খেলার মোমেন্টাম ঘুরে যায়। গার্দিওলা পাইলে হয়তো বুস্কেটস পজিশনে খেলানো শুরু করতো কিনা কে জানে? সিজনের শুরুতে কাসাদোকে ১-২ ম্যাচে শেইকি লাগলেও আজকের কাসাদোকে স্টার্টিং ইলেভেন থেকে ট্যাকনিক্যাল কারন ছাড়া কেউ সরাতে পারবেনা। মার্ক বের্নাল ইঞ্জুরড না হলে সেও ফাস্ট ইলেভেনে আসন নিতো। ফেরমিন যা খেললো ফেরান তরেসের স্কোয়াডে ফিরে আসা টাফ।
এই সিজন ইটস অল এবাউট বার্সেলোনা মিডফিল্ড। আর সেখানে চিট কোড পেদ্রী। এমনকি আজকের ম্যাচেও বার্সেলোনা মিডের কাছে পুরোপুরি আউটক্লাস হয়েছে বায়ার্ন মিড। হাইলাইন ডিফেন্সের মেইন ব্যাটেলটাই হইলো মিড। ক্লাসিকোতে দানি ওলমোর স্টার্ট করা ফরজ।
আর ভাই লামিন ইয়ামাল মুলত ফুটবলটা এঞ্জয়মেন্ট এর জন্যে খেলে। এখনো বাচ্চা, মন চায় খেলে মজা পায়, ফান করে। হি ইজ ডুয়িং এভ্রিথিং ফর ফান। ওয় জানেও না কতবিশাল ফুটবলিং আইকিউ তার। বার্সেলোনায় ইয়াংদের মধ্যে একমাত্র লামিন ইয়ামালের ইঞ্জুরি নিয়ে আমি ভয় পাই না। কারন ও এতটাই ট্যাকনিক্যাল আর এতটাই ট্যালেন্ট যে কখনো ইঞ্জুরিতে ম্যাচ মিস করলে যে ফর্মে যাবে ঠিক সেই ফর্মেই ফেরত আসবে। ফুটবল আই কিউ জিনিসটা গিফটেড। THIS GUY IS A GENIUS, AND HE DOESN'T know what he is. What is he doing. He is still a school kid. Let him enjoy the moments. What a talent man.
আজকের বার্সার হাই লাইন ডিফেন্স কে এরিয়ালি ভাঙতে গিয়ে উল্টা নিজেদের পেছনে বিশাল বিশাল ইয়ার্ড ছেড়েগেছে। একুরেট লং পাস- পেদ্রী সহ লামিনের কম্বিনেশনে রাফিনিয়ার হ্যাট্রিক।
কোপায় এক্সট্রা টাইম থাকলে ইকুয়েডরের রিজার্ভ এনার্জির কাছে আর্জেন্টিনাকে অসহায় লাগতো। এক্সট্রা টাইমে ইকুয়েডর ম্যাচ বের করে নিতো। শেষ মুহুর্তে গোল খাইয়া মেসির মোরাল ডাউন ছিলো। ইজি পেনাল্টি যাষ্ট হাইট বেশি দিয়ে ফেলছে।
যাই হউক রাতে স্পেইন-জার্মানি, ফ্রান্স-পর্তুগালের অপেক্ষায় থাকলাম।
কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বের উত্তেজনা তুঙ্গে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের চার খেলোয়াড় - ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এডার মিলিতাও, লুকাস পাকেতা এবং ওয়েন্ডেল - হলুদ কার্ডের বিপদে ঘিরে আছেন। যদি তারা কলম্বিয়ার বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখেন এবং ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে, তাহলে তারা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে পরবর্তী ম্যাচটি মিস করবেন।
এই চারজন খেলোয়াড়ই টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোয় একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোন খেলোয়াড় যদি টুর্নামেন্টের কোনো পর্যায়ে দুটি হলুদ কার্ড পান, তাহলে তাকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
এই পরিস্থিতি ব্রাজিলের কোচ ডরিভাল জুনিয়রকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। কারণ, এই চারজন খেলোয়াড়ই তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং লুকাস পাকেতা আক্রমণভাগের মূল হাতিয়ার, এদের মিলিতাও এবং ওয়েন্ডেল দুজন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার। তাদের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলতে পারে।
তাই, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এই চারজন খেলোয়াড়কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তাদের আগ্রাসী খেলা ছেড়ে দিতে হবে না, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউল এড়িয়ে চলতে হবে। নয়তো, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের দলের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে এই হলুদ কার্ডের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রাজিল কি তাদের সকল তারকা খেলোয়াড়কে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামাতে পারবে, নাকি কাউকে হলুদ কার্ডের কারণে বাইরে বসে থাকতে হবে, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ম্যাচের।
ফুটবল বিশ্বে এমন কিছু কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের উপস্থিতিই যেন জয়ের নিশ্চয়তা বয়ে আনে। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে যখন এনগোলো কান্তে মাঠে নামেন, তখন মনে হয় জয় যেন তাদের ঝুলিতে। কারণ, মেজর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কান্তে মাঠে থাকাকালীন ফ্রান্স কখনো হারে নি!
১৩ জয় ও ৬ ড্র - এই অসাধারণ পরিসংখ্যান বলে দেয় কান্তের প্রভাব কতটা। তিনি কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি ফ্রান্সের জয়ের প্রতীক।
মাঠের মিডফিল্ড এলাকায় অদম্য কান্তে যেন একা একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বল ছিনিয়ে নেওয়া, প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়া, সঠিক পাস দেওয়া - সবকিছুতেই তার পারদর্শিতা অসাধারণ।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ও ২০১৬ সালে ইউরোতে রানার-আপ হওয়া ফ্রান্স দলের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি ছিলেন কান্তে। তার অবদান ছাড়া এই অর্জন অসম্ভব ছিল। কান্তে - একজন যোদ্ধা, একজন নায়ক, ফ্রান্সের অপরাজিত রণসঙ্গী!
ডি ব্রুইনার ন্যাশনাল টিম ক্যারিয়ার হয়তো এখানেই শেষ হতে পারে। বিশ্বকাপ পর্যন্ত নাও চালিয়ে যেতে পারেন কেভিন ডি ব্রুইনা।
বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশনের নেতা, বিশ্বমাতানো একজন ফুটবলিং লেজেন্ড। এই কেভিন ডি ব্রুইনাই বেলজিয়ান জেনারেশনের গোল্ডেন বয়, বা এখন বলতে পারেন ম্যান! বয়স ত্রিশ পারি দিয়েছে। খেলায়ও হয়তো আগের সেই ধার নেই। আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে গোলবারে একটি শট নিয়েও রক্ষা করতে পারলেন না দলকে। পুরো টুর্নামেন্টে লুকাকুকে অজস্র বল সর্বরাহ করেও তা কাজে লাগানো যায়নি। কপাল পোড়া, নাকি বিধাতার অভিশাপ, জানা নেই!
ডি ব্রুইনা হয়তো থেকেও যেতে পারেন বেলজিয়াম টিমে। হয়তো বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করে শেষ এক সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবেন। তবে বেলজিয়ামের এ টিমে তার ঔজ্জ্বল্য ছড়াবে কিনা, তা বলা বড়ই মুশকিল। এক গোল্ডেন জেনারেশন যে নষ্ট হলো পুরোপুরিভাবে!
২০২২ বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের কথা কোলো মুয়ানি কোনোদিন ভুলবে না, ভুলবো না আমরাও। যদি আরেকটু মনোযোগ দিয়ে শট টা নিতো, গোল হয়ে যেতো। ম্যাচ জেতানো হয়ে যেতো। সেদিন সেটা তিনি পারেনি।
আজ আবারও ফলাফল সমতায়। কোলো মুয়ানি সুযোগ পেলো। এই সুযোগ আর হাতছাড়া করলো না। গোল, ফ্রান্স ১-০ এর লিডে। এবং সব ঠিকঠাক থাকলে এই গোলটাই হয়ে যাবে ম্যাচ উইনিং গোল।
যদিও গোলটা ওউন গোল হয়েছে। তবুও, কোলো মুয়ানিকে সেই গোলের জন্য ক্রেডিট দিতেই হবে।
জীবন এমনই। আপনাকে ভিলেন বানাবে। কিন্তু আবার হিরো হওয়ার সুযোগ দিবে। একবার না, বারবার দিবে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যতো তাড়াতাড়ি কাজে লাগাতে পারবেন, ভাগ্য ততো তাড়াতাড়ি ঘুরবে। পরিবর্তন হবে অবস্থানেরও।
একটা টুর্নামেন্ট জিততে গেলে সব বড় দলকে হারিয়েই জিততে হয়। হার জিত থাকে। কিন্তু নিজেদের ক্যাপবিলিটি অনুযায়ী ফাইট দিয়ে হারলে প্লেয়ার থেকে শুরু করে ফ্যান কারোরেই আপসোস থাকে না। যেটা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচে দেখা গিয়েছে।
তিতে থাকাকালীন ব্রাজিলের অ্যাটাকিং রোল প্লে-তে মেইন ক্যারেক্টার ছিলো নেইমার। তাকে মার্ক করতে অন্যরা স্পেস পেয়ে যেতো। আবার নেইমার নিজেই অনেক বেশি অপনেন্ট কে ধরাশয়ী করে গোল করতো। কিন্তু তিতে তখনেই এক্সপোজ হয় যখন বড় দল গুলোর বিরুদ্ধে তার ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটিজি সামনে আসে।
বড় দলগুলো যখন নেইমারকে ফাউল করে হোক কিংবা প্ল্যান করে আটকিয়ে দেয়। অন্যরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারে নাই তখনেই মেইনলি তিতের ট্যাকটিক্সের লিমিটেশনে ব্রাজিল হেরে গেছে। এমন না যে ডমিনেটেড হয়ে হেরে গেছে। ১৮ তে বেলজিয়াম, ২১ এ আর্জেন্টিনা, ২২ এ ক্রোয়েশিয়া সব ম্যাচেই ক্লোজ টু রেজাল্ট ছিলো।
তিতে যাওয়ার পর কোচ ছাড়া খেলা, অস্থায়ী কোচ হিসাবে রামন মেনোজেস এর অপরিপক্কতায় দলে এনাফ রিসোর্স থাকার পরেও কিংবা ফার্নাদো দিনিজের খেলার ধরণ অনুযায়ী সেরকম প্রোফাইলের প্লেয়ার না থাকায় ম্যাচ হাত থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো।
তিতে পরবর্তী থেকে ডোরিভালের মতো স্থায়ী কাউকে আনলে আজ উরুগুয়ের মতো দলকে সমীচীন করতে হতো না।
এখানে অনেকে বলতে পারেন উরুগুয়ে বর্তমানে ভালো টিম। ভালো প্লেয়ার আছে তাদের। তো ব্রাজিলের কি ভালো প্লেয়ার নেই? কোচের অবর্তমানে একে পর এক হারে প্লেয়ারদের মাইন্ড সেটাপ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোয়ালিফায়ার অনেক ম্যাচ বের হয়ে গিয়েছে।
মনস্তাত্ত্বিক বিষয় ফুটবল ট্যাকটিক্সের থেকেও বেশি কিছু। হালের চেলসির দিকে তাকান। এনাফ প্লেয়ার থাকার পরেও বার বার ম্যানেজার বদলের কারণে টিমটা বেহাল দশা।
আবার রিয়াল মাদ্রিদের দিকে তাকান। লীগে ছোট দলের সাথে হেরে যায় কিন্তু চ্যাম্পিয়ন লীগ আসলেই কিভাবে খেলে?
আবার সময়ের সেরা দল পেপের সিটি প্রিমিয়ার লিগকে এক মুখী নিজেদের লীগ বানায় চ্যাম্পিয়নস লিগে কত টা নার্ভাস থাকে?
আই রিপিট দলের হার জিত থাকবেই। কিন্তু উরুগুয়ের সাথে দেখা না হোক এই কথা অন্তত ব্রাজিলের ল্যাগেসির সাথে যায় না।
ট্রানজিসন পিরিয়ডে প্রতি টা টিম সাফার করে কিন্তু এলিট টিমের ফ্যানদের মেন্টালিটি এলিট লেভেলের হতে হয়। এই "উরুগুয়ের সাথে দেখা না পড়ুক" কথা যদি স্বীয় ব্যক্তিত্বে গরজ না উঠে বুঝে নিবেন আপনি হিস্টোরিক্যাল স্পোর্টস ন্যাশন, সর্বকালের সেরা দল ব্রাজিলের সাপোর্টার হওয়ার জন্য এনাফ যোগ্য নন।
এবারের ব্যালন ডি' অর কে জিতবে, সেটা অনেকাংশে নির্ভর করছে ইউরো এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন কে হবে সেটার উপরে।
চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং লা লীগা জেতায় ভিনিসিয়াস, বেলিংহাম ইতিমধ্যেই হাইপড দুইটা নাম ব্যালন ডি অরের জন্য। আবার লাস্ট সিজনে ওভারল পারফরম্যান্সের জন্য এম্বাপ্পে, অথবা লাউতারোকে পিছায় রাখা যায় না।
ব্রাজিল কোপা জিতলে ভিনিসিয়াস, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড ইউরো জিতলে এম্বাপ্পে বা বেলিংহাম রেসে আগায় যাবে।
কিন্তু, টনি ক্রুসের নামটা সেভাবে মেনশন হচ্ছে না কেনো?
রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা আর লা লীগা জেতাতে তার অবদান অনেক বেশি। আলোচনায় আসেননি নতুন করে, কারণ এই কাজ তো তিনি প্রতিনিয়তই করেন। ৬ বার চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা তো আর মুখের কথা না।
আবার এবার জার্মানিও ইউরো জেতার জন্য ফেভারিট। এই জার্মান দলের ব্যাকবোনও এই টনি ক্রুস। ক্রুস চলে যাওয়ার পর স্ট্রাগল করা জার্মানি আর বর্তমান জার্মানির খেলার মধ্যকার পার্থক্যই ক্রুসের অবদান লক্ষ্য করার জন্য যথেষ্ট।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তো লা লীগা, ইউসিএল জিতছেই। যদি জার্মানিও ইউরো জিতে, তাহলে ব্যালন ডি' অরের একজন যোগ্য ক্যান্ডিডেট হিসেবে টনি ক্রুসকে কন্সিডার করাই লাগবে।
অবশ্য, ক্রুস ব্যালন জিতবে কি জিতবে না, সেটা পরের হিসাব। না জিতলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ এসব এওয়ার্ডের ক্ষেত্রে বরাবরই খেলায় অবদানের চাইতে গোল এসিস্টের সংখ্যা বেশি ম্যাটার করে।
ক্রুস একবার বলেছিল, "আমি আমার সেরা পর্যায়ে থেকেই অবসরে যেতে চাই।" আসলেই, অবসরে যাচ্ছেন, এরকম এক সিজনে তার পারফরম্যান্স ব্যালন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য করেছে। এরকম কয়জন ফুটবলারের ক্ষেত্রেই বা হয়েছে?
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Address
Rajshahi