02/10/2026
জাতীয় দলের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ভালো সময়টাকেও বাংলাদেশ ফুটবল সর্মথকদের একটি অংশ স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়নি। মিতুলের সিন্ডিকেটের কারণে নাকি জাতীয় দল থেকে আনিসুর রহমান জিকুকে বাদ দেয়া হয়েছে।
ম্যাচে, মিতুল ভুল করলে সব দোষ যেন মিতুলের উপর! দেখা গেছে ম্যাচ চলাকালীন কিছু উগ্র বাংগালী গ্যালারির ভিতরে ডুকে মিতুলকে গালাগাল করতে। অন্যদিকে শ্রাবণ ভুল করলে ডিফেন্স এবং দলের প্লেয়াদের নিয়ে সমালোচনা হয়।
#যাইহোক,মিতুলের সাফল্য আমাদের কিছু কথা,যারা দেশের ফুটবলকে অনুসরণ করেন না,আপনারা দূরে থাকুন 👊 🇧🇩
বাংলাদেশ ফুটবলের গোলবারে নিচে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে একটি মিতুল মারমা। মিতুলকে নিয়ে কথা বলতে গেলে তার আগে আনিসুর রহমান জিকোর কথা অবশ্যই আসবেই। একটা সময় জিকো ছিলেন লাল-সবুজের গোলবারের অন্যতম নির্ভরতার নাম। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়ার পর সেই জায়গায় মিতুল ধীরে ধীরে নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন।
আর সেই স্বাক্ষরটা মোটেও হঠাৎ করে আসেনি।
মালদ্বীপ, ভারত, ভুটান, হংকং, অস্ট্রলিয়া, নেপাল সিঙ্গাপুরের মতো কঠিন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে মিতুলকে আমরা দেখেছি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে, ম্যাচে নিজেকে উজার করে দিতে। কখনো একা দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সামনে দেয়াল হয়ে, কখনো আবার দুর্দান্ত পজিশনিং ও দুই পায়ে বল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডিফেন্সকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মিতুলের পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। ১৫ ম্যাচে ১১টি ক্লিনশিট; অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ ম্যাচে গোল হজম না করে ম্যাচ শেষ করেছিলেন তিনি। লিগে ক্লিনশিটের হিসেবে মিতুল ছিলেন সবার ওপরে। একই সময়ে গোলরক্ষকদের পরিসংখ্যানে মিতুলের ৭ গোল হজমের বিপরীতে ১৬ ম্যাচের রেকর্ডও তার ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।
জাতীয় দলেও তার ওপর আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৬ সালে মিতুল ৯টি ম্যাচেই শুরু থেকে গোলবার সামলেছেন এবং মোট ৭৫৮ মিনিট মাঠে ছিলেন।
#তবুও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মিতুলের ভালো সময়টাকেও বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মাঠের গ্যালারি; বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কিংবা চাপ তৈরি করা হয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, মিতুলের কারণেই নাকি আনিসুর রহমান জিকো জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন না।
কিন্তু ফুটবলে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাও দেখতে হয়।
একজন গোলরক্ষককে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোচের। আর জিকো ক্লাব পর্যায়েই যখন নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছিলেন না, তখন জাতীয় দলের একাদশে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে মিতুলকে দায়ী করার কোনোভাবে যুক্তি নেই। আমরা আবারও বলছি মিতুল কারও জায়গা কেড়ে নেয়নি। মিতুল নিজের জায়গা নিজের মেধা এবং পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে সে তৈরি করেছে।
#এবার আসি শ্রাবণের কথায়....!
মেহেদী হাসান শ্রাবণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান ও উদীয়মান গোলরক্ষক। বসুন্ধরা কিংসের মতো দলের গোলবার সামলানো সহজ কাজ নয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণের মান, শটের গতি এবং ম্যাচের চাপ-সবকিছু বিবেচনায় নিলে শ্রাবণের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ নেই।
কিন্তু প্রতিভা আর অভিজ্ঞতা এক জিনিস নয়।
মিতুলের বয়স কম হলেও জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলে তার যে ম্যাচ-অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, পজিশনিং, বলের গতি বোঝা, দুই পায়ে খেলা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতার একটা আলাদা মূল্য আছে।
তাই শ্রাবণকে সমর্থন করা যেমন জরুরি, তেমনি মিতুলকেও তার প্রাপ্য সমর্থন দেওয়া আমাদের জরুরি।
আমি শ্রাবণকে গালি দেওয়ার পক্ষে নই। আমরা কোনো খেলোয়াড়কে হেয় করার পক্ষেও নই। শ্রাবণ আমাদেরই খেলোয়াড়, মিতুলও আমাদেরই খেলোয়াড়। তারা জিতলে বাংলাদেশ জিতে যায়। তারা হারলে আমাদেরই মন খারাপ হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো; একজন খেলোয়াড় যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তখন আমরা কি তাকে আরও ভেঙে দেব, নাকি তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেব?
মিতুলের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য।
একজন গোলরক্ষকের জন্য আত্মবিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ফুটবল বোঝা মানুষ নিশ্চয়ই জানেন। গোলরক্ষকের একটি ভুল পুরো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। আবার একই গোলরক্ষক পরের ম্যাচেই তিন-চারটি অবিশ্বাস্য সেভ করে দলকে জয় এনে দিতে পারে।
মিতুলের সাম্প্রতিক কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু সেই সমালোচনা যেন একজন তরুণ খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার অস্ত্র না হয়ে যায়।
#কারণ আমরা ভুলে গেলে চলবে না;
এই মিতুলই একসময় বাংলাদেশের গোলবারে দাঁড়িয়ে অসংখ্যবার দলকে বাঁচিয়েছে। এই মিতুলই কঠিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছে।
এই মিতুলই ১৫ ম্যাচে ১১টি ক্লিনশিট রেখে প্রিমিয়ার লিগের সেরা ক্লিনশিট রেকর্ড গড়েছেন।
মিতুল, তোমাকে ফিরতেই হবে। কারণ তোমার সেরা সময় আমরা দেখেছি। তোমার সামর্থ্য আমরা জানি। তোমার সেই দুর্দান্ত সেভগুলো অসভ্য ফুটবল ফ্যান্সরা ভুলে গেলেও আমরা এখনও ভুলিনি।
তুমি আবারও ছন্দে ফিরবে! এই বিশ্বাসটা তোমার নিজের ওপর রাখিও 🙏🌼🥀
কারণ
তুমি জিতলে শুধু ১১ জন খেলোয়াড় জেতে না,
জিতে লাল-সবুজের ১৮ কোটি হৃদয় 🇧🇩💚💐🦿
লিখেছেনঃ রাঙামাটির ফুটবল সংগঠক (অতুল চাকমা) সার্বিক সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মের অ্যাডমিন।