19/05/2021
° যে সব কিতাব গুলো পড়ে মুফতি হয়েছেন, আর ইচ্ছেমতন ফতোয়াবাজি করছেন সে সব কিতাবগুলোতেই ছেমা(ভালো কাজে বাদ্যযন্ত্র) জায়েজ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ভালো করে সম্পূর্ণ লিখা পড়ে দেখবেন দয়াকরে৷ আতায়ে রুসুল, হিন্দাল অলি খাজায়ে খাজেগান(রাঃ) এই বিষয়ে কি বলেছেন, চলুন পড়তে পড়তে জেনে আসি।
🚫কোন কারণে সুফিবাদের এই আমলকে আপনি/আপনারা খারাপ /হারাম বলছেন?
🌸 কিতাব থেকে কি দলিলগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে??
🌸 নাকি কিতাবগুলো রহিত হয়ে গেছে?
🌸 নাকি আবার নতুন করে হাদিসের জন্ম হইছে??
🌸 নাকি আল্লাহ ইলহামের মাধ্যমে আপনাকে/আপনাদেরকে জানিয়েছে??
সুতরাং সব যদি ঠিকই থাকে তাহলে তাদের ০২ ধরনের ভাষা দ্বারা কি রুপ প্রকাশ পায়??
✍️ পাঠক সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন জমা রইল।
# # # # # # # # # # # #ইসলামি_গানবাদ্য_জায়েজ # # # # # # # # # # # #
👥 জানিয়ে রাখিঃ-
সকলের পড়তে যাতে সুবিধা হয় & বুঝা আসে তাই আরবি ইবারত না লিখে সরাসরি ভাবে বাংলাতে অনুবাদ করা হয়েছে৷ যাদের প্রয়োজন হবে তারা দলিল গুলো নিয়ে কষ্ট করে নিজ দায়িত্বে কিতাবের আরবি ইবারত দেখে নিবেন। অযথা এটা লিখে নিজের মূর্খতার প্রমাণ করবেন না যে, আপনি তো আরবি দেন নি!
✍️ নিচে তার প্রমানাদি সহ উপস্থাপন করা হলঃ-
🟢 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-
★ প্রখ্যাত সুফীদের দৃষ্টিতে "সেমা গান"-->
° সেমা মাহফিল বা আধ্যাত্মিক গান বাজনা বা নির্দোষ গান বাজনা ইসলামের প্রারম্ভ হতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত & এটি একটি ইবাদতও বটে।
° সেই প্রারম্ভ হতে আজকের দিন পর্যন্ত এই সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা চলমান আছে, থাকবে। কোর'আন-হাদিস সম্মত এই সুস্থ সংস্কৃতি আল্লাহ্র প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে আমরাও পেয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ্।
° সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেমা মাহফিলের দালিলিক পোস্টের প্রয়োজনীয়তা আছে মনে করেছি বিধায় আজকেরএই দলিলনির্ভর পোস্ট। সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজযাদের অকপটে মানেন তাদেরই লিখিত বেশ কয়েকটি গ্রন্থের এবারতের অনুবাদ(বাংলা বুঝার জন্যে) দ্বারা সকলকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি "মাহফিলে সেমা" কোন ফাউ নাচ গানের অনুস্টান নয়।
° এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের জারী করা সম্পদ নয়, কোন দরবারের কেন্দ্রিক অনুস্টান নয়, কারো নিজস্ব সংস্কৃতি নয়- এটা আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত, তাদের প্রিয় গোলামদের একটি মুহাব্বতের সুন্নাত। সুতরাং এই নেয়ামতের অস্বীকার মুনাফিক ব্যতীত মু'মীন বান্দারা করবেন না।
° তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মাহফিলের আদব আখলাকের প্রতি বেশী মনোযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করি। যাতে তরতীবের বেহুরমতী না হয়। ইনশা আল্লাহ্, পরবর্তীতে সেমামাহফিলের আদব বা নিয়ম কানুন সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। যাই হোক, আশা করি এই পোস্ট পড়ে যারা "সেমা মাহফিল" এর বিরুধীতা করতেন, তাদের ভূল ধারণাটা দূর হবে।
*************************************************
° হযরত ইউনুছ ইবনে আব্দুল আলা (রহ:) বয়ান করেন, আমি ইমাম শাফেয়ী (রা:)'র কাছে মদীনাবাসীর ছেমা হালাল হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেন"হেজাজের কোন আলেম নাই যিনি ছেমা বা ভক্তিমূলক গান বাজনাকে মাকরুহ মনে করেন। নিশ্চয়ই আমি অবগত আছি, হেজাজবাসীরা ছেমার প্রসংশা করেছেন।"(মাদারেজুন নবুওয়াত শরীফ)
■ফতোয়ায়ে শামীর এবারতে এসেছে-"নিশ্চয়ই বাদ্যযন্ত্রসমুহ মুলত হারাম না। অসদুদ্দেশ্যে এটা শ্রোতা ও বাদকগণের জন্যে হারাম হয়ে যায়। বুঝা যায়, বাদ্যযন্ত্র হালাল বা হারাম হওয়ার বিষয়বস্তু শ্রোতা ও বাদকের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাদের নিয়তের উপর নির্ভর করে।"(ফতোয়ায়ে শামী, ৫ম খন্ড- ২৪৭ পৃষ্টা)
■ফতোয়ায়ে আলমগিরীর এবারত মতে-"দফ বাজানোর বিষয়ে ইমাম আবু ইউসুফ(রহ:) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বিবাহ উৎসব ও মহিলাদের কুউদ্দেশ্য ছাড়া নিজের সন্তানদের (আনন্দ দানের) জন্য দফ বাজানো তিনি মাকরুহ মনে করেন কিনা। ইমামসাহেব প্রতুত্তোরে বলেন, 'না, মাকরুহ মনে করি না।'কিন্তু অশ্লীল খেলা তামাশার জন্য দফ বা গান বাজনা করলে নিশ্চয়ই আমি তাকে মাকরুহ মনে করি।"(ফতোয়ায়ে আলমগিরী, ৪র্থ খন্ড- ১৪৪ পৃষ্টা)
■ইমাম ছারখুছী (রহ:) তার প্রশিদ্ধ "বাহরুর রায়েক" কিতাব মারফত বলেছেন-"বিবাহ অনুষ্ঠান, বিদেশ হতে দেশে আসার সময় এবং আল্লাহ'র প্রিয় বান্দাদের হৃদয়ের সান্তনা লাভেরজন্য নিশ্চয়ই গান বাজনা জায়েজ আছে। তা হানাফী মাযহাব অনুসারে হারাম নয়। ( বাহরুর রায়েক)।
■সুপ্রশিদ্ধ কিতাব "আমতা" গ্রন্থে সেমার প্রশংসা এভাবে করা হয়েছে -"নিশ্চয়ই গান বাদ্য দ্বারা হৃদয়ের কোমলতা, বিনয় নম্রতা, আল্লাহ পাকের দর্শনের অনুরাগ এবং তার অসন্তুষ্টি ও শাস্তির প্রতি ভয় ভীতি অর্জিত হয়।" (আমতা)।
■ইমাম বায়হাক্বী (রহ:) তার "দালায়েলুন নবুয়্যত"কিতাবে ও ইমাম গাজ্জালী (রহ:) তার বিখ্যাত"এহইয়াউল উলুম" কিতাবে লিখেছেন-"হযরত রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যখন তাবুকের যুদ্ধ হতে ফিরে আসতে ছিলেন তখন মদীনার রমনীগণ একটি কবিতা পড়ে দফ বাজিয়ে হাত তালিসহ গাইতে লাগল।"
■■হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহ:)'র মতামত-"যার অন্তরকে সেমায় আকৃষ্ট করে না সে অতি নীচাশয়ও পতিত স্বভাবের, রুহানিয়ত হতে বঞ্চিত এবং কুটচরিত্র বিশিস্ট কালিমাযুক্ত অন্তর এবং উট ও পাখি হতে নিকৃষ্ট, বরং যাবতীয় পশু হতেও ঘৃণিত। (এহইয়াউল উলুম, ২য় খন্ড- ২৪৩ পৃষ্টা)
■■ আল্লামা আব্দুল হক মোহাক্কেক দেহলভী (রহ:) তার বিখ্যাত "নোক্কাতুল হক্ব" কিতাবে সেমার মীমাংসার স্থলে লিখেছেন:-" যে ব্যক্তি সকল অবস্থায় সর্বপ্রকার সেমা বা সংগীতকে হারাম বলে বিশ্বাস কিরে, সে অন্ধ জাহেল এবং সকল প্রকার সংগীতকে সর্বাবস্থায় জায়েজ মনে করে, সে ফাসেক বা গুনাহগার।
■■হযরত আল্লামা আব্দুল হক মোহাদ্দেসে দেহলভী(রহ:) তার বিখ্যাত ও সর্বগ্রহণযোগ্য কিতাব"মাদারেজুন নবুওয়াত" কিতাবের ৫১২-৫১৭ পৃষ্টায় গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা দ্বারা সেমাকে মোবাহ বা হালাল সাব্যাস্থ করেছেন। শুধু তাই নয়, উক্ত কিতাবে তিনি চার ইমামগণের সেমা বা সংগীত শ্রবণের কথা প্রমাণ করেছেন।
■■হানাফী মাযহাবের চীফ জাস্টিস হিসেবে খ্যাতআল্লামা মোল্লা আলী কারী (রহ:) তার সেমা বা সংগীতগ্রন্থে বলেছেন,"নির্দোষ সংগীত শ্রবণ করার সিদ্ধতা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রা:) হতে প্রমাণিত আছে।
■■■রাসূলুল্লাহ(স) এঁর আওলাদ হুজুর গাউসুস সাক্বালাইন মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানী গাউসুল আযম বড়পীর সৈয়দুনা আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রা:) তার কিতাব "ছিররুল আছরার" কিতাবে ফরমাচ্ছেন-"আল গেনাও লিক্বাউমিন ফারজুন, ওয়ালি ক্বাউমিন ছুন্নাতুন, ওয়ালি ক্বাউমিন বেদয়াতুন, আল ফারজু লিল খাওয়াছে - ওয়া ছুন্নাতু লিল মুহিব্বিনা ওয়ালবেদয়াতু লিল গাফেলীন।"অর্থ- সংগীত এক সম্প্রদায়ের জন্য ফরজ, এক সম্প্রদায়ের জন্য ছুন্নাত, এক সম্প্রদায়ের হন্যবেদয়াত। ফরজ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য, ছুন্নাত প্রেমিকদের জন্য আর বেদয়াত গাফেল বা অলস লোকের জন্য।
■■নকশবন্দিয়া ত্বরীকার প্রবর্তক খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দী (রা:)'র মতে,"আমি ভক্তিমূলক গান বাজনা করি না কেননা উহা সুন্নাত না, তবে আমি তা অস্বীকারও করি না।" (মালাবুদ্দা মিনহু)।
■■■খাজা গরীব নেওয়াজ, আতাউর রাসুল, সুলতানুলহিন্দ হযরত খাজা মঈন উদ্দীন হাসান সাঞ্জিরী (রহ:) বাদ্যযন্ত্র সহ সেমায় আসক্ত ছিলেন। তৎকালীন আলেম ফকীহগণের মধ্যে কেউই তার এই সেমা মাহফিল বা গান বাজনার বিরুধী কিংবা অস্বীকারকারী ছিলেন না। 📗"ছিয়ারুল আকতাব" গ্রন্থের বর্ণনা মতে-"সুলতানুল আরেফিন গরীব নেওয়াজ খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী আজমীরী।
🟢হযরত আয়শা রাদিয়ল্লাহু আনহা থেকে বর্নিত রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামার আদেশ, তোমরা বিবাহ প্রচার কর ০২ এর অধিক দফ বাজাইয়া ও বিবাহের কাজ মসজিদে সম্পন্নন কর। ( তিরমিজি)
💮আল্লামা পানিপতি রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনার কিতাব ""📗রেসালাতে ছেমা "" কিতাবে ৭০ টা বাদ্যযন্ত্র কে জায়েজ বলেছেন।
অর্থাৎ ভাল উদ্দেশ্যে সব বাদ্যযন্ত্র হালাল ও খারাপ উদ্দেশ্যে সব হারাম।
বিঃদ্রঃ
🚫 এরপরও যদি কারো কিছু বলার থাকে তবে কমেন্টে ভদ্রভাবে জানান। আমি ভদ্রভাবে উত্তর লিখেবো ইনশাআল্লাহ্ । খারাপ মন্তব্য করলে ব্লক হয়ে যেতে পারেন। তখন পরবর্তী পোষ্ট গুলো দেখতে পারবেন না।
Salam Sarkar