30/07/2026
"জেলখানা" নয়, আমাদের প্রাণের মাঠ বাঁচান!
------------------------------------------------------------------
বিয়ানীবাজার পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।
এই জনপদের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় প্রাণকেন্দ্র। 🏟️
এই মাঠেই আমাদের পূর্বসূরিরা তাদের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখিয়েছেন। এই মাঠই ছিল এই এলাকার মানুষের একমাত্র বিনোদনের জায়গা।
কোনো টুর্নামেন্ট হলেই হাজার হাজার দর্শকের উপচেপড়া ভিড় শহরের বড় বড় স্টেডিয়ামকেও হার মানায়। 👏
এই মাটিতেই দেশসেরা জাতীয় দলের সাবেক-বর্তমান প্রায় সকল খেলোয়াড় তাদের ক্রীড়াশৈলী দেখিয়েছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশি খেলোয়াড়রাও এই মাঠে খেলে গেছেন।
আজও উপজেলার খেলোয়াড়রা এখানে প্রতিদিন অনুশীলন করে। সারা বছর এই মাঠ ব্যস্ত থাকে টুর্নামেন্ট, ওয়াজ মাহফিল, রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে।
কিন্তু আজ আমাদের প্রাণের এই মাঠটি হুমকির মুখে।😔
একমাত্র বিনোদনের এই মাঠের পশ্চিম পাশের "ন্যাচারাল গ্যালারি" - যাকে আমরা *ভদ্রটিলা* বলে চিনি, সেই ঐতিহ্যবাহী টিলাটি আজ ধ্বংসের পথে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ কাউকে কিছু না জানিয়ে উত্তর-পশ্চিম কর্নার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নার (ভদ্রটিলার শেষ প্রান্ত) পর্যন্ত এবং উত্তর-পূর্ব কর্নার থেকে উত্তর-পশ্চিম কর্নার পর্যন্ত *৮ ফুট উঁচু দেয়াল* নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
বেইসের গর্ত খুঁড়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। 🧱
এটা কিসের দেয়াল?এটা তো "জেলখানার" দেয়াল!
গ্যালারির সামনে এত উঁচু দেয়াল হলে মানুষ খেলা দেখবে কিভাবে? বড় টুর্নামেন্টের সময় ভদ্রটিলাকে যে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হতো, সেই জায়গাতেও গাছ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্যালারিই যদি না থাকে, তাহলে মাঠের প্রাণ থাকবে কিভাবে?
তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার সচেতন মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়বৃন্দ বিষয়টি *সিলেট-০৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা এডভোকেট জনাব এমরান আহমদ চৌধুরী মহোদয়কে* অবহিত করেন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা উনাকে ধন্যবাদ জানাই। 🙏
আমাদের দাবি একটাই:
বাউন্ডারি দিতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা হতে হবে পরিকল্পিত। গ্যালারির পরিবেশ নষ্ট না করে, মানুষের খেলা দেখার স্বার্থ রক্ষা করে এবং পূর্ব পাশের দেয়ালের মতো একই উচ্চতায় দেয়াল নির্মাণ করতে হবে। ভদ্রটিলার ঐতিহ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। 🌳
কালের বিবর্তনে স্কুলের পুরাতন ভবন যেভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে, ঠিক সেভাবে যেন আমাদের শতবর্ষী প্রিয় মাঠটির ঐতিহ্য নষ্ট না হয়।
প্রথমে দরকার ছিল মাঠ সংস্কার, দেয়াল না।
তাই এখনই সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলার। আমাদের মাঠ, আমাদের ঐতিহ্য - আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
"মাঠ বাঁচান,খেলা বাঁচান,বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্য বাঁচান"। 🇧🇩