04/06/2026
সুপার এক্সক্লুসিভ: প্রুফ রিডার থেকে তায়কোয়ানডোর ‘ভাগ্যবিধাতা’! কে এই ভয়াবহ ব্ল্যাকমেইলার স্বপন?
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
ক্রীড়াঙ্গনের গল্পকেও হার মানায় এই বাস্তব অপরাধের চিত্রনাট্য। প্রিন্টিং প্রেসের এক সাধারণ প্রুফ রিডার, যার কাজ ছিল অন্যের লেখার ভুল ধরা—তিনিই কি না গলায় অন্যের ক্যামেরা ঝুলিয়ে বনে গেলেন ‘ফটোগ্রাফার’! আর সেই ক্যামেরার লেন্সকে অস্ত্র বানিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ভাগ্যবিধাতা। তিনি আর কেউ নন—স্বৈরাচারের ‘ল্যাসপেন্সার’ সাইদুর রহমান স্বপন। তায়কোয়ানডোর ‘ত’ অক্ষরের সাথে যার পরিচয় নেই, তিনি এখন ফেডারেশনের হর্তাকর্তা। স্বৈরাচারের পতনের পরও ভোল পাল্টে জাতীয়তাবাদী খোলস পরে বহাল তবিয়তে থাকা এই অপরাধীর থাবায় এখনো জিম্মি ক্রীড়াঙ্গন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সব প্রতিপক্ষকে মাঠ খালী করে দিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা ওরফে রণজিত দাস যখন টাকা, নারী, গাড়ি, বাড়ি আর কিশোরী নিয়ে বিলাসী মদমত্ত জীবনযাপনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন এই চতুর প্রুফ রিডার কাম ফটোগ্রাফার। তার লেন্সে ধরা পড়ে রানার চরম আপত্তিকর কিছু গোপন ছবি ও ভিডিও।
ব্যাস, এই ‘ব্ল্যাকমেইল’ ফর্মুলাতেই রানাকে আজীবনের জন্য জিম্মি করে ফেলেন স্বপন। মুখ বন্ধ রাখার চড়া মূল্য হিসেবে রানা ফেডারেশনের তহবিল থেকে তাকে পাইয়ে দেন:
• লাখ লাখ টাকার অনৈতিক ক্যাশ বাউন্টি।
• নিজের সন্তানের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রিতে তায়কোয়ানডো প্র্যাকটিসের রাজকীয় সুবিধা।
• কোনো যোগ্যতা বা ট্র্যাক রেকর্ড ছাড়াই সরাসরি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের চেয়ার!
• ফ্রি বোনাস হিসেবে একের পর এক বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণ এবং অবারিত নারীসঙ্গের অনৈতিক লাইসেন্স।
ফেডারেশনে বসার পর এই স্বপন হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী মহলের সাথে রানা সিন্ডিকেটের মূল লিয়াজোঁ কর্মকর্তা। তবে তার ক্ষুধা এখানেই থামেনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ব্ল্যাকমেইলের জাল আরও বিস্তার করেন। রানা সিন্ডিকেটের অন্যান্য সক্রিয় সদস্য—মোসলেম, পলাশ, উত্তম, নূরুদ্দিন, লুবাবা, রোমানা, সুস্মিতা, রুমকি, দর্জি বাবুল এবং নোমানসহ প্রায় সবারই ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি গোপনে ক্যামেরাবন্দী করেন তিনি। ফলাফল? পুরো সিন্ডিকেট এখন স্বপনের হাতের পুতুল, আর ফেডারেশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক খাত তার ব্যক্তিগত আয়ের উৎস।
তায়কোয়ানডো অঙ্গনের মানুষেরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই স্বপনকে আজ পর্যন্ত দেশের কোনো জিমনেসিয়াম বা ক্লাবে এক মিনিটের জন্যও প্র্যাকটিস করতে বা করাতে দেখা যায়নি। না আছে তার নিজের কোন ক্লাব। অথচ পুরো ফেডারেশনকে জিম্মি করে তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের ‘ড্যান (Dan) সার্টিফিকেট’। মাঠের সাথে দূরতম সম্পর্ক না থাকা এই ব্যক্তির মূল তায়কোয়ানডো চর্চা ছিল কেবল ফেসবুকেই। তবে ৫ আগস্টের পর ভয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বিতর্কিত সব পোস্ট ও ছবি ডিলিট করে প্রমাণ নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। অথচ ব্লাক মেইলিং করে রানার বঙ্গবন্ধু নামের তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা বানিজ্যের সকল অনিয়ম পাশ করিয়ে নিয়েছেন নির্বাহী কমিটিতে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও দুদকে তদন্তাধীন আছে।
স্বৈরাচারের পতনের পর আসল গডফাদার রানা আত্মগোপনে গেলেও এই ধূর্ত প্রুফ রিডার রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলেন। তারপর আবারো শুরু ম্যানেজ বানিজ্য এবং রানাকে প্রকাশ্যে আনতে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্য করেন। এখন নিজেকে কট্টর ‘জাতীয়তাবাদী’ দাবি করে নতুন বোতলে পুরাতন মদ ঢেলে রানা সিন্ডিকেটের স্বার্থ ও সম্পদ পাহারা দিচ্ছেন। এই অপরাধ, অনিয়ম আর ব্ল্যাকমেইলের অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ্যে অঅসতে শুরু করেছে। নুরুদ্দিন, লুবাবা, নোমানের পর এখন আলোচিত চরিত্র সাইদুর রহমান স্বপন।
ক্রীড়াঙ্গনকে এই কলঙ্কিত সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করতে, এই ব্ল্যাকমেইলার ও ভুয়া জাতীয়তাবাদী সাইদুর রহমান স্বপনের মুখোশ পুরোপুরি খুলে ফেলা এখন সময়ের দাবি। এই ধূর্ত অপরাধীর ব্যাপারে আপনার কাছে আর কী কী গোপন তথ্য আছে? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান!
13/04/2026
22/01/2026
15/01/2026