24/05/2026
অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন— “আপনি কি ধ্যান শেখান?”
আমি তাদের বলি, ধ্যান আসলে শেখানোর বিষয় নয়। ধ্যান কোনো কৌশল বা শুধুমাত্র একটি প্র্যাকটিস নয়, ধ্যান হলো একটি অবস্থা।
প্রত্যাহার ও ধারণার অভ্যাস করা যায়, কিন্তু ধ্যানকে জোর করে করা যায় না। যখন প্রত্যাহার ও ধারণার অভ্যাসে মন ধীরে ধীরে স্থিত, সংহত ও শান্ত হয়, তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধ্যানের অবস্থা প্রকাশ পায়।
তাই ধ্যান আপনাকে কেউ “করিয়ে” দিতে পারবে না। ধ্যান হলো নিজের অন্তরে অর্জিত একটি অবস্থা, যা নিজের সাধনা ও অন্তর্মুখীতার মাধ্যমে লাভ করতে হয়।
অনেকেই মনে করেন, “মন শান্ত করার জন্য ধ্যান করতে হয়।” কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিষয়টি উল্টো।
মন শান্ত করার জন্য ধ্যান নয়; বরং মন যখন শান্ত ও স্থির হয়, তখনই ধ্যান সম্ভব হয়। আর সেই মনকে শান্ত ও সংহত করার পথ হলো প্রত্যাহার ও ধারণার নিয়মিত অভ্যাস।
অর্থাৎ, প্রত্যাহার মনকে বাহ্যবিষয় থেকে ফিরিয়ে আনে, ধারণা মনকে একাগ্র করে, আর সেই একাগ্র ও শান্ত মনের স্বাভাবিক পরিণতিই হলো ধ্যান।--- নয়ন🪷
20/05/2026
যোগ শুধু দিনে আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আসনে বসে ধ্যান করার নাম নয়। তুমি আধঘণ্টা যোগধ্যান করলে খুব ভালো, কিন্তু দিনের বাকি সময় যদি অচেতনভাবে কাটাও—নিজের শরীর, শ্বাস-প্রশ্বাস, চলাফেরা, খাদ্যগ্রহণ, জলপান কিংবা মানুষের সঙ্গে ব্যবহার সম্পর্কে যদি কোনো সচেতনতা না থাকে, তবে সেটি প্রকৃত যোগাভ্যাস নয়।
যোগ আমাদের শেখায় প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকার অভ্যাস।
কীভাবে হাঁটছো, কীভাবে কথা বলছো, কীভাবে খাচ্ছো, কীভাবে শ্বাস নিচ্ছো—জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র কর্মকাণ্ডে চেতনার উপস্থিতি আনা, এটাই যোগের মূল সাধনা।
সবাই চিত্তের বৃত্তিগুলি দমনের কথা বলেছেন, কিন্তু খুব কম মানুষই বলছেন—তার আগে চিত্তের বৃত্তিগুলি সম্বন্ধে সচেতন হওয়ার কথা। তুমি যদি নিজের সম্বন্ধেই সচেতন না হও, তাহলে তোমার ভিতর থেকে কী ঢেউ উঠছে, কোন চিন্তা, কোন আসক্তি, কোন রাগ, কোন ভয় তোমাকে পরিচালিত করছে, তা তুমি জানতেই পারবে না।
তাই প্রথমে দরকার সচেতনতার অভ্যাস।
তারপর নিজের মন, নিজের চিত্তের বৃত্তিগুলিকে প্রত্যক্ষ করা।
আর সেই বৃত্তিগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বা নিরোধ করার যে অভ্যাস—সেটাই প্রকৃত যোগসাধনা।
শুধু চোখ বন্ধ করে বসে থাকাই ধ্যান নয়, বরং চোখ খুলে জীবনকে সচেতনভাবে দেখা—এটাই প্রকৃত ধ্যান।
ধীরে ধীরে তুমি বুঝতে পারবে, এই সচেতনতার মধ্যেই এক গভীর আনন্দ লুকিয়ে আছে। কারণ ঈশ্বরের যে তিনটি গুণ বলা হয়—সৎ, চিত, আনন্দ—
সৎ অর্থাৎ চিরসত্য অস্তিত্ব
চিত অর্থাৎ চৈতন্য বা সর্বব্যাপী সচেতনতা
আনন্দ অর্থাৎ সেই চৈতন্যের স্বাভাবিক পরিতৃপ্তি
এই “চিত” বা চৈতন্য সর্বদা সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু সেই সর্বব্যাপী চেতনাকে উপলব্ধি করতে হলে প্রথমে তোমাকে নিজের শরীর, নিজের অস্তিত্ব, নিজের ভিতরের চলমান প্রাণপ্রবাহ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
নিজের মধ্যেই যদি জাগ্রত না হও, তবে সর্বব্যাপী ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সেই Ever-Existing, Omnipresent Nature অনুভব করা সম্ভব নয়।
যোগ তাই কোনো এক ঘণ্টার অনুশীলন নয়—
যোগ হলো প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি মুহূর্তে জেগে থাকার কৌশল।----- নয়ন।
10/05/2026
স্থূল থেকে সূক্ষ্মের যাত্রা🧘
এই যাত্রা ধীরে ধীরে স্থূল থেকে সূক্ষ্মের দিকে—
এই কারণেই এই শরীর তোমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এই শরীরই প্রথম দ্বার।
এই শরীর থেকেই তুমি অনুভব করবে প্রাণকে,
প্রাণ থেকে প্রবেশ করবে মনে,
মন থেকে বুদ্ধিতে,
আর বুদ্ধির সীমা অতিক্রম করে—
এক এক করে স্তর ভেদ করে তুমি পৌঁছে যাবে নিজের স্বরূপে।
দেখো, আদি শঙ্করাচার্য তাঁর নির্বাণ ষটকমে লিখছেন—
“আমি মন নই, বুদ্ধি নই, অহংকার নই…”
কিন্তু এটা কি শুধু গাওয়ার গান?
না কি মুখস্থ করার মন্ত্র?
না—এটা সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধির বিষয়।
“আমি নই, আমি নই”— বলার আগে
একবার অন্তত জেনে নাও—
মন কী?
বুদ্ধি কী?
অহংকারই বা কী?
এগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে?
যখন জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে,
সবকিছু নিজেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
তখন আর কাউকে কিছু দেখাতে হয় না—
নিজেই দেখতে পাও।
যেমন সূর্য উঠলে
কাউকে আলোর পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না—
সবাই নিজেই দেখতে পায়।
তেমনি,
যখন তোমার মধ্যে জ্ঞান উদিত হবে,
তখন তোমাকে আর জানাতে হবে না—
তুমি নিজেই জেনে যাবে তুমি কে।---নয়ন 🪷
03/05/2026
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি প্রতিযোগিতার জন্য যোগ শেখান না কেন?”
আমি তাদের একটাই কথা বলি—যোগ কোনো প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, যোগ হলো আত্মউপলব্ধির পথ।
হাজার হাজার বছর আগে যোগীরা এই সাধনার পথ নির্মাণ করেছিলেন মানুষের শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য। এই যাত্রা ধীরে ধীরে স্থূল থেকে সূক্ষ্মের দিকে এগিয়ে যায়—শরীর থেকে প্রাণ, প্রাণ থেকে মন, আর মন থেকে আত্ম উপলব্ধির পৌঁছানোর জন্য।
এখানে কারোর সঙ্গে কোনো প্রতিযোগিতা নেই, নেই জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন।
এখানে আছে শুধুই নিজের সঙ্গে নিজের পরিচয়, নিজের ভেতরের গভীরে প্রবেশের সাধনা।
এই কারণেই আমি যোগকে প্রতিযোগিতার মধ্যে বাঁধতে চাই না।
আমি যোগ শেখাই নিজেকে জানার জন্য, নিজেকে উপলব্ধি করার জন্য।
30/04/2026
“যাহা আছে দেহ ভাণ্ডে, তাই আছে ব্রহ্মাণ্ডে”—মানুষ আর মহাবিশ্ব আলাদা কিছু নয়। আমাদের এই ক্ষুদ্র দেহটাই আসলে সেই অসীম সৃষ্টির প্রতিফলন।
আমাদের শরীরে যেমন আছে— শ্বাস (প্রাণ), চিন্তা (মন), চেতনা (চৈতন্য), ঠিক তেমনই এই ব্রহ্মাণ্ডেও আছে গতি, শক্তি, আর এক অদৃশ্য বুদ্ধিমত্তা যা সবকিছুকে চালনা করছে।
যখন তুমি নিজের ভিতরে প্রবেশ করো,ধ্যানস্থ হও নিজের চেতনাকে অনুভব করো— তখন তুমি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে পারো, তুমি আলাদা কেউ নও। তুমি সেই একই শক্তির অংশ, যেখান থেকে এই গোটা সৃষ্টি উদ্ভূত।
তুমি একটা ক্ষুদ্র দেহ নও, তুমি একটা চলমান ব্রহ্মাণ্ড। নিজের ভিতরে তাকানো মানেই পুরো সৃষ্টির দিকে তাকানো।
এই উপলব্ধিই যোগের আসল পথ— বাইরে নয়, ভিতরেই সবকিছু খুঁজে পাওয়া। ------- নয়ন।
#যোগ
18/04/2026
শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না এলে প্রাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আসে না,
প্রাণে নিয়ন্ত্রণ না এলে মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ শুধু কল্পনা।
আমরা অনেক সময় সরাসরি মনকে শান্ত করতে চাই—ধ্যান, কনসেন্ট্রেশন, পজিটিভ চিন্তা… কিন্তু ভিতরের পথটা উল্টো দিক থেকে শুরু হয়।
প্রথমে শরীর।
আসন আমাদের শরীরকে স্থির, শক্তিশালী ও সচেতন করে। যখন শরীর স্থির হয়, তখন শ্বাস—প্রাণ—স্বাভাবিকভাবে গভীর ও নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে।
তারপর প্রাণ।
প্রাণায়াম শুধু শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম নয়, এটি আমাদের শক্তির প্রবাহকে সুষম করে। প্রাণ শান্ত হলে মনও ধীরে ধীরে স্থির হতে শুরু করে।
শেষে মন।
মনকে জোর করে থামানো যায় না। কিন্তু শরীর ও প্রাণকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে মন নিজে থেকেই শান্ত হয়ে আসে।
যোগের পথ তাই ধাপে ধাপে—
শরীর → প্রাণ → মন
যারা সত্যিকারের মানসিক শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ভিত্তিটা বোঝা খুব জরুরি।----নয়ন
🧘♂️ আসন দিয়ে শুরু করুন
🌿 প্রাণায়াম দিয়ে গভীর করুন
🧠 ধ্যান দিয়ে উপলব্ধি করুন
14/04/2026
🌿 প্রাণায়াম – শ্বাসই জীবন 🌿
আপনার শ্বাসই শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে সেতুবন্ধন।
প্রাণায়াম হল সচেতনভাবে শ্বাস নিয়ন্ত্রণের এক যোগিক প্রক্রিয়া, যা আমাদের প্রাণশক্তি (Life Energy)-কে জাগ্রত ও সমতাবস্থায় রাখে।
নিয়মিত প্রাণায়াম অভ্যাসে আপনি পাবেন—
✨ মন শান্ত ও চাপমুক্ত
✨ একাগ্রতা ও মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
✨ ফুসফুসের ক্ষমতা ও শারীরিক সুস্থতা উন্নত
✨ আবেগের ভারসাম্য ও অন্তর্গত স্থিরতা
প্রতিদিন অল্প সময় প্রাণায়াম করলে আপনার ভিতরের জগতে আসবে শান্তি, স্থিতি ও সচেতনতা।
🧘♂️ সঠিকভাবে শ্বাস নিন, সুস্থভাবে বাঁচুন।
যোগ দিন Om Yoga Institute-এ এবং অনুভব করুন আপনার শ্বাসের প্রকৃত শক্তি।
#প্রাণায়াম #যোগ
12/04/2026
Sunday morning hatha yoga session 🪷
10/04/2026
হঠযোগের আসন
সঠিক আসন অভ্যাসে গড়ে ওঠে—
শক্তি: আসন ধরে রাখলে শরীরের পেশী মজবুত হয়।
ভারসাম্য: শরীর ও মনের স্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
একাগ্রতা: ভঙ্গি ও শ্বাসে মনোযোগ দিলে মন শান্ত ও কেন্দ্রীভূত হয়।
প্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়: শরীরের নাড়ীগুলিতে (নাড়ী) প্রাণশক্তির সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়।
ব্লকেজ দূর হয়: দেহের জড়তা ও শক্তির বাধা ধীরে ধীরে মুক্ত হয়।
জীবনীশক্তি বাড়ে: শরীর হালকা, সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভূত হয়।
ধ্যানের প্রস্তুতি: প্রাণ স্থির হলে মনও স্থির হয়, ফলে ধ্যান সহজ হয়।
সহজ, স্থির ও সচেতন অনুশীলনই আসনের প্রকৃত সাধনা। 🙏
01/03/2026
Hatha yoga special sirsasana class