Contai Quiz Forum

Call Directions

Contai Quiz Forum An entertaining intellectual quiz group with smart digitalization. Contact us for any kind of QUIZ COMPETITION..

কোনো আশা ছিল না। ভাল ফুটবল খেলতেন। অভিনয় জানতেন। এটুকু বুঝেছিলেন মুম্বাইয়ের এই কঠিন জগতে বাবা-কাকা ছাড়া বাঁচা মুশকিল। আর...
02/11/2026

কোনো আশা ছিল না। ভাল ফুটবল খেলতেন। অভিনয় জানতেন। এটুকু বুঝেছিলেন মুম্বাইয়ের এই কঠিন জগতে বাবা-কাকা ছাড়া বাঁচা মুশকিল। আর তাই ভদ্রলোক ঠিক সেটাই করেছিলেন যেটা ছাড়া টিঁকে থাকা অসম্ভব। অন্যের হেলায় ফেলে দেওয়া ভূমিকায় একের পর এক অভিনয় করে গেছেন, আর নিজের একশো শতাংশ ঢেলে দিয়েছেন তাতে। শাহরুখ খানের উত্থান এক নায়কের উত্থানের গল্প,রক্ত ঘাম ঝরানো পারফরমেন্সের গল্প, আবার একই সঙ্গে পপার টু প্রিন্সের গল্প, স্টুডিও ঘরানার শেষ মহানায়কের গল্প।

বলিউড সিনেমার ইতিহাস লেখা হলে আশির দশক এক অদ্ভুত টালমাটাল জায়গায় থাকবে। এই দশকের মাঝামাঝি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মেন স্ট্রিম নায়করা বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন, তবু মেনে নিতে চাইছেন না। একের পর এক সিনেমায় কলেজ বয় সাজছেন আর ডুবাচ্ছেন। কোম্ফোর্ট জোন থেকে বেড়িয়ে আসার বিন্দুমাত্র চেষ্টাটুকু করছেন না। অন্যদিকে এই দশকে উঠে আসা তরুণ নায়করা, আমীর খান, সলমন খান, কুমার গৌরব, অনিল কাপুর-ও একেবারে ছকে বাঁধা হিরোর বাইরে বেরোচ্ছেন না। ফলতঃ গোটা বলিউড একটা আবদ্ধ কুয়োতে ঘুরপাক খাচ্ছে। যেন একতু অন্য রকম হলেই ফ্যানরা মুখ ঘুড়িয়ে নেবেন। আর এখানেই একেবারে বহিরাগত হয়ে শাহরুখের আবির্ভাব। দিল্লী থেকে আসা, সিরিয়ালে অভিনয়, In Which Annie Gives It Those Ones এর মত অন্যধারার ছবিতে অভিনয়, হাতে আসা যে কোন কাজের জন্য হাপিত্যেশ- এই সবকটাই তার বিরুদ্ধে ছিল হয়তো। আর সেই অভিশাপই আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছিল তার জীবনে। জানতেন তার চেহারায় হিরো হতে পারবেন না। তাই অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন মনেপ্রাণে। সেই পথেই প্রায় এক দশক ধরে অস্থির প্রেম, পাগলামো আর প্রতিশোধের মুখ হয়ে উঠলেন একেবারে সাধারণ চেহারার এই ছেলেটি, যে আপনি আমি যে কেউ হতে পারে।

গোটা বাজিগর ছবিতে তার জীবনের ওয়ান পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা। যে মদন চোপড়া তার পরিবারের দুর্দশার জন্য দায়ী, তাকে ধ্বংস করা। যেন তেন প্রকারে। মদন চোপড়ার জন্যেই তার মা আজ পাগল, বোন আর বাবা মৃত। এই ধরনের প্রতিশোধের ছবি আগেও বলিউড দেখেছে। দিওয়ার, জঞ্জির কিংবা ইয়াদো কি বারাত- তো এই ধরনের প্রতিশোধেরই ছবি। তাহলে বাজিগর আলাদা কোথায়? এই প্রথমবার হিন্দি ছবির কোন হিরো প্রতিশোধের জন্য একেবারে নির্দোষ কাউকে খুন করল। মদন চোপড়ার মেয়ে সীমাকে সে শুধু খুনই করে না, খুন করে অদ্ভুত স্যাডিস্টিক প্লেজার-ও পায়। এ জিনিস দর্শক আগে কখনও দেখে নি। হিরো যে একেবারে বিবেকশূন্য খুনিও হতে পারে, তা ভেবে দর্শকের শিরদাঁড়ায় যে শীতল স্রোত বয়ে যায়। শুধু তাই নয়, সীমার দুই বন্ধু যারা অজয়রূপী শাহরুখকে সন্দেহ করে, দুইজনকেই নৃশংসভাবে খুন করে সে। একেবারে বিবেকশূন্যতার চরমে গিয়ে। গীতার সেই “জানামি ধর্ম ন চ মে প্রবৃত্তি/ জানাম অধর্ম ন চ মে নিবৃত্তি”-র মত অজয় জানে ঠিক কি, ভুলই বা কি। কিন্তু সে অন্যায় না করে পারে না। আর এই পাগলামোকে কি নিখুঁত ফুটিয়ে তোলেন শাহরুখ। সীমার পার্টির যে ছবিতে তাকে দেখা গেছিল, সেই ফটোকে পুড়িয়ে না ফেলে সে গিলে ফেলে। সাইকোপ্যাথ হিরোর অবতারণা হিন্দি ছবিতে এইভাবে আগে কোনদিন দেখা যায় নি। কিন্তু তার পরেই ছবি কিছুটা জাস্টিফিকেশান আর প্রিচিং-এর দিকে ঝুঁকে যায়। সিনেমার সবচেয়ে দুর্বল অংশ সেইটাই। অনন্ত মহাদেবন (যিনি ছবিতে শাহরুখের বাবা) এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন আব্বাস- মস্তান সিনেমা শেষের পর আবিষ্কার করেন, তার হিরো প্রায় অকারণেই একের পর এক খুন করে যাচ্ছে। তখনই নাকি অজয়ের বাবা- মা ইত্যাদির ক্যারেক্টার আর্কগুলো নিয়ে আসা হয়। শেষে মদন চোপড়াকে খুন করে মায়ের কোলে মাথা রেখে অজয় মারা যায়। অপরাধী, সে যদি নায়কও হয়, তবুও শাস্তি পায়। আর শাহরুখ পান সেই বছরের সেরা অভিনেতার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার।

বাজিগরের ঠিক পরে পরেই শাহরুখ একই ধরনের দুটো নেগেটিভ রোল করলেন। ডর ছবির রাহুল মেহরা আর আঞ্জামের বিজয় অগ্নিহোত্রী। এখানে আর প্রতিশোধ না, বরং অবসেশন। দুটো ছবিতেই চরিত্ররা নায়িকার প্রতি অবসেশড আর সেই অবসেশন এই পর্যায়ে যায়, যে সে ধীরে ধীরে সাইকোপ্যাথ হয়ে ওঠে। ডর-এ তার চরিত্রের মালটিপল পারসোনালিটি ডিজর্ডার আছে। আমি না, সিনেমায় ডাক্তারই বলেছেন। সে নিজের মরা মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে, মায়ের মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করে, আর নিজেই ভেবে নেয় কলেজের সহপাঠী কিরণ (জুহি চাওলা) তাকে ভালবাসে। এই ছবিতে সে সুইসাইডাল, সে স্যাডিস্টিক। বুক চিরে কিরণ লিখতে তার হাত বিন্দুমাত্র কাঁপে না। যেমন অনায়াসে সে ভাবতে পারে কিরণের প্রেমিক সুনীলকে (সানি দেওল) খুনের কথা। এই পাগল মা-হারা ছেলেটার প্রতি ভয়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করুণাও হয়। কিন্তু ওই যে। সে অপরাধী। তাকে মরতেই হবে শেষে। এখানে একটা কথাই বলার। আগে শাহরুখের রোলটা সানিকে অফার করা হয়েছিল। তিনি নেন নি। হিরো নাকি নেগেটিভ রোলে মানায় না। ভাগ্যিস!!!
আনজাম ছবিটা এই ধারার শেষ ছবি। আর তিনটের মধ্যে সবচেয়ে ডার্ক-ও বটে। বিবেকের মধ্যে অদ্ভুত এক শয়তানী খেলা করে, যার সে অর্থে কোন কারণ নেই। সে যেন এক দুরন্ত শিশু, যে সুন্দর কোন খেলনাকে ভেঙেই স্যাডিস্টিক প্লেজার পায়। শুধু অপরাধের আনন্দেই অপরাধ। ব্যাটম্যানের জোকারের সঙ্গে এই জায়গায় বিজয়ের অদ্ভুত মিল। নায়িকা শিবানীকে (মাধুরী দীক্ষিত) সে পেতে চেষ্টা করে। যখন বোঝে পাবে না, তখন প্রথমে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করতে চায়, বিফল হয়ে খুনের এক অদ্ভুত খেলায় মেতে ওঠে। সত্যি বলতে শিবানীর স্বামীকে হত্যা, শিবানীকে সেই হত্যার জন্য ফাঁসানো, তার দুনিয়াকে একেবারে শেষ করে দেবার পিছনে আপাত কোন মোটিভই নেই। এই ছবিতে শাহরুখ আদ্যন্ত এক বলি-মেগালোম্যানিয়াক ভিলেন। একমাত্র এই ছবিতেই দর্শকদের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি সে পায় না। এই প্রথম দর্শক মনে প্রাণে চায় শাহরুখ মরুক।

এই তিনটে সিনেমা করে শাহরুখ খান বলিউডি নায়কের চিরাচরিত ধারণাকে একেবারে চুলের মুঠি ধরে নেড়ে দিলেন। জানি না, তার দেখাদেখি কিনা, কাজল-ও গুপ্ত ছবিতে আদ্যন্ত এক ভিলেনের ভূমিকায় চমকে দিলেন দর্শককে। শুধু ভেবে দেখুন আগের তিনটে ছবি বাদেও জীবনের শুরুর দিকে কি সব ভূমিকায় অভিনয় করছেন শাহরুখ! রাম জানের চরম ম্যানারিজম, মায়া মেমসাবের অস্থির তরুণ, কভি হাঁ কভি না-তে হতাশ একপেশে প্রেমিক। শাহরুখ খান মানেই তখন নিত্য নতুন চমক। এক একটা ছবি, এক এক ঘরানার, এক এক স্বাদের। কোন বলিউড অভিনেতা জীবনের শুরুতেই প্রায় সব জঁরের সিনেমায় অভিনয় করেছেন, এমন উদাহরণ আর দুটি নেই।

তারপর কোথা থেকে কি হইয়া গেল, দিলওয়ালে দুলহনিয়া রিলিজ হইল।
আমার মতে অভিনেতা শাহরুখ ঠিক এখানেই দশ গোল খেয়ে গেলেন নায়ক, রোম্যান্টিক হিরো শারুক খানের কাছে। জানি না, কে বা কারা তাঁকে বুঝিয়ে দিল এবার এতদিনে তুমি তোমার জায়গা খুঁজে পেয়েছ। কম্ফোর্ট জোন চিনে নিয়েছ। এবার সেই কম্ফোর্টেই খেলে যাও। শাহরুখের বয়স বাড়ছিল। আমার বিশ্বাস তিনিও ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলেন নিজেকে প্রমাণ করতে করতে। থিতু হবার জন্যে এবার চলল লাইন ধরে একই রকম ছবি একই ম্যানারিজমে বানিয়ে চলা। স্বদেশ কিংবা চক দে- যতবার তাঁর জীবনে এসেছে, আমরা ভেবেছি এই তো পুরোনো ছন্দে ফিরছেন শাহরুখ। আমাদের একেবারে ভ্রান্ত প্রমাণ করে আবার তিনি ফিরে গেছেন মন্নতের আরামদায়ক ওমে। উদাহরণ তাঁর সামনে ছিল। ছিল বিরাট লম্বা একদা সব হারানো অমিতাভ বচ্চন, যিনি এই বয়সেও নিজের আগের ইমেজকে পর্দায় ধ্বংস করছেন নিজের হাতে।
একমাত্র শাহরুখ খান এটা পারেন। জানি না কেন করেন না। তিনি এই অভাগা দেশের শেষ সুপারহিরো। এই মিডিওকারদের দলের শেষ গলিয়াথ। প্রায় ষাটের কোঠায় চলে এসেছেন তিনি। বিজয় সেথুপথি, পঙ্কজ ত্রিপাঠিরা এর অনেক কম বয়েসেই ভারতীয় সিনেমাকে সেরা কিছু প্রৌঢ় উপহার দিয়েছেন। শাহরুখ এখনও পাঠান বানিয়ে হল কাঁপাচ্ছেন, যেখানে আমরা সেই পুরোনো শাহরুখের চর্বিত চর্বন করছি। নতুন কাউকে পাচ্ছি না।

উত্তমকুমার একবার সৌমিত্রকে বলেছিলেন "বুড়ো হলে চুটিয়ে সিনেমা করব, বুঝলি পুলু। তুই আর আমি। এখানে ভাল বুড়ো নেই"। উত্তম নিজে পারেন নি।জীবন তাঁকে পারতে দেয় নি; যদিও শেষদিকে মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। সিনেমায় ভাল বুড়োদের দরকার।

চিৎকার করে সবাই বলতে চাইল হিরো না...আবার অভিনেতা শাহরুখের জন্ম হোক। শাহরুখ হাসলেন। কে বলেছে দুটোই একসঙ্গে হয় না!! জওয়ান এল। শাহরুখ এলেন। দেখলেন। জয় করলেন।

বাকিটা আবার নতুন করে ইতিহাস লেখা শুরু। লোকটা এত্তবার সবাইকে বোকা বানায় কি বলব... জন্মদিনে ভাল থেকো শাহরুখ।

Courtesy- koushik majumdaar

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন ইংল্যান্ডের...
27/10/2026

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার —

হ্যারি কেন

২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলমেশিন এক অসাধারণ মরশুমের স্বীকৃতি পেলেন।

বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ অভিযান এই সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছে। গোল করার দক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং ধারাবাহিকতার সুবাদে তিনি ফুটবলবিশ্বে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এখানেই শেষ নয় ! কেন একই বছরে ব্যালন ডি’অর এবং গার্ড মুলার ট্রফি জিতে ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেছেন। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে তিনি ব্যালন ডি’অর জিতলেন। পাশাপাশি, ১৯৮১ সালে কার্ল - হাইনৎস রুমেনিগের পর প্রথম বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে এই সম্মান পেলেন।

হ্যারি কেনের এই সাফল্য তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অসাধারণ প্রতিভার যথার্থ স্বীকৃতি।

🙏⚽ অভিনন্দন, Harry Kane ⚽🙏

© Avishek Halder

#টনি

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো অনেকেই সরায় করেন। আমাদের বাড়িতেই সরা পুজো হয়। আগে ১৩ রকমের সরা তৈরি হত। এখন তা ৬ রকমে ঠেকেছে। একলক্ষ...
25/10/2026

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো অনেকেই সরায় করেন। আমাদের বাড়িতেই সরা পুজো হয়। আগে ১৩ রকমের সরা তৈরি হত। এখন তা ৬ রকমে ঠেকেছে।

একলক্ষ্মী সরায় থাকে লক্ষ্মীর দুপাশে পদ্ম, নীচে প্যাঁচা। সে আবার উড়ছে। তিন পুতুল সরাতে লক্ষ্মীর দুপাশে দুজন সখী থাকে। এটাতেও নীচে থাকে প্যাঁচা। ঢাকাই সরা নানা রকমের হয়। কোনওটাতে জোড়া লক্ষ্মী থাকে, কোনওটাতে পাঁচ লক্ষ্মী, কোনওটাতে আবার লক্ষ্মীর সঙ্গে থাকেন চার সখী কিংবা রাধাকৃষ্ণ। দুর্গা সরাকে আড়াআড়ি দুভাগে ভাগ করা হয়। ওপরে সপরিবারে মা দুর্গা, তার ওপরে শিবের মুখ, নীচে প্যাঁচা–সহ লক্ষ্মী, আলাদা করে। এই দুর্গা সরার আর একটি রকম বা প্রকার হল গণকা বা আচার্যি সরা। সুরেশ্বরী সরায় আবার দুর্গার পরিবারের প্রত্যেকের ছবি আলাদা আলাদা করে আঁকা থাকে।

দীপঙ্কর পাড়ুই লিখছেন "চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ শতকের মঙ্গলকাব্যেও লক্ষ্মীপূজা ও প্রতিমার নানা প্রসঙ্গ ধরা পড়েছে। সরায় লক্ষ্মীপূজা মূলত পূর্ববঙ্গে অনুষ্ঠিত হতো কিন্তু দেশভাগ, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে পূর্ববঙ্গের বহু শিল্পী এপার বাংলায় চলে আসেন। ফলত এই বঙ্গেও সরাপট নির্মাণ ও পূজা শুরু হয়। শিল্পীরা সরাপটের ঐতিহ্য এপার বঙ্গে নিয়ে আসেন, ফলে সেইসঙ্গে এপার বঙ্গের বেশ কিছু আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও চালচিত্রের শৈলীও সরাচিত্রে মিশে যায়।

পূর্ববঙ্গে প্রধানত চাররকমের সরা নির্মিত হতো, যথা—(১) ফরিদপুরী, (২) সুরেশ্বরী, (৩) আচার্যী বা গণকা ও (৪) ঢাকাই সরা। কিন্তু লক্ষ্মীসরা অঙ্কনের ক্ষেত্রে শিল্পীদের নিজস্ব ভাষায় কিছু ধরণ রয়েছে। যথা— একলক্ষ্মী সরা বা একপুতলা সরা, দুইপুতলি সরা বা জোড়া লক্ষ্মী সরা, তিনপুতলা বা পুতলি সরা, চারপুতলি বা যুগল সরা, পাঁচপুতলি লক্ষ্মী বা পাঁচপুতলি সরা, গজলক্ষ্মী সরা, সাতপুতলি লক্ষ্মীসরা, আটপূজারিনি-সহ লক্ষ্মী ইত্যাদি।

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার তাহেরপুরের তিনপুতলি সরা সাদা, নীল ও লাল পার্শ্বদৃশ্যের (ব্যাকগ্রাউন্ড) ওপর উপস্থাপিত হয়, লক্ষ্মীদেবী পদ্মের ওপর সুখাসনে বসে থাকেন। মুখের আকার থ্রি-কোয়ার্টারস্ ভঙ্গিতে আঁকা হয়। দুই পাশে দুই সখীর মুখ কখনো প্রোফাইল (পার্শ্বমুখ) বা ফ্রন্টাল (সামনাসামনি) ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়। প্রোফাইল ভাবে আঁকাটিকে শিল্পীরা আদি ফর্ম বা পুরানো ধারা বলে থাকেন।

সরাকে আবার কখনো দুটি ভাগ করে নিয়ে ওপরে দুই সখীসহ লক্ষ্মীদেবী এবং নিচে লক্ষ্মীদেবীর বাহন পেঁচাকে আঁকা হয়। কলকাতার কুমারটুলিতে তিনপুতলি একটু অন্যরকম, সরার পার্শ্বদৃশ্য লাল (কখনো নীল) রঙের। উপরিভাগে চাঁদোয়া টাঙানো, মাঝে মুঘল অনুচিত্রের মতো ফুলকারী নকশা, লক্ষ্মীদেবী পদ্মফুলের ওপর ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাপড় পরার শৈলীটি বাংলার পাড়াগাঁয়ের মহিলাদের মতো আটপৌরেভাবে অঙ্কিত।

এই সরাটি সাতপুতলি লক্ষ্মীসরা। সাতপুতুল অর্থে দুর্গা, সিংহ, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিক। এটি দুর্গাসরা হলেও একে লক্ষ্মীসরাই বলা হয়। কারণ নীচের দিকে লক্ষ্মীদেবী অবশ্যই আঁকতে হবে। সরাটি দুর্গা ও লক্ষ্মী দুই পূজাতেই ব্যবহৃত হয়। সাতপুতলি এই সরায় দুর্গার দুই রকম প্রতিকৃতি দেখা যায়। শিল্পীদের ভাষায়— (ক) একচোখো দুর্গা, অর্থাৎ দুর্গার মুখাবয়বটি একদিকে পাশ ফেরানো, ইংরেজিতে বলে ‘প্রোফাইল' ভঙ্গিতে আঁকা। লক্ষ্মীদেবীর মুখাবয়বও এই ভঙ্গিতে আঁকা হয় অনেক সময়। (খ) দু-চোখো দুর্গা : সামনাসামনিভাবে তাকিয়ে থাকা দুর্গার প্রতিকৃতিও শিল্পীরা এঁকে থাকেন। এটিতে এক- তৃতীয়াংশভাবে দুর্গার মুখাবয়ব আঁকা থাকে। এই ভঙ্গিকে ‘সামনাসামনি' বলা যায়। যেহেতু সামনে থেকে দুটো চোখই দেখা যায়, তাই শিল্পীরা বলে থাকেন ‘দু- চোখো দুর্গা'। ইংরেজিতে বলে 'ফ্রন্টাল ফেস'। এরকম মূর্তি শিল্পীরা আঁকেন, কারণ যাঁরা সরা কিনে থাকেন তাঁদের পারিবারিক বিধান বা ঐতিহ্য রয়েছে একচোখো বা দু-চোখো পূজা করার। তাই শিল্পী তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এমনটা এঁকে থাকেন"

এখন কথা হল, কেন এই সরায় পুজো?

সম্ভাব্য কারণ দুটো। এক, সরা গর্ভবতী নারীর প্রতীক। এর সঙ্গে উৎপাদনশীলতা আর সমৃদ্ধির যোগ আছে। দুই, সরা হল পৃথিবীর পিঠ। বসুন্ধরার পুজোই লক্ষ্মীপুজো, সেজন্যও এই আয়োজন।

উৎস-
১। ধন্য কলকেতা সহর। কৌশিক মজুমদার। আখরকথা
২। বাংলার লক্ষ্মীসরা- দীপংকর পাড়ুই। উদ্বোধন

Courtesy- koushik majumdaar...

Get ready students.... Just after the Kaali puja❤
25/10/2026

Get ready students.... Just after the Kaali puja❤

🙏🙏
21/10/2026

🙏🙏

৯ দিন বসা নিষেধ, মাটিতে শোয়াও নিষেধ: সাতারার এক গ্রামের অনন্য নবরাত্রি-প্রথামহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার এক গ্রামে ৩৫০ বছর...
18/10/2026

৯ দিন বসা নিষেধ, মাটিতে শোয়াও নিষেধ: সাতারার এক গ্রামের অনন্য নবরাত্রি-প্রথা

মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার এক গ্রামে ৩৫০ বছরের প্রাচীন ‘উভয়া নবরাত্রি’ প্রথা আজও পালিত হয়। এই প্রথায় প্রায় ১০০ জন পুরুষ টানা নয় দিন ও রাত দাঁড়িয়ে থেকে দেবতার প্রতি তাঁদের মানত পালন করেন।

মানত পূরণের জন্য কঠোর ব্রত

মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার ওয়াই তালুকার পাণ্ডে গ্রামে নবরাত্রির সবচেয়ে কঠিন ব্রতটি হল—বসে না থাকা। নয় দিন ও রাত ধরে প্রায় ১০০ জন পুরুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রয়োজনে তাঁরা কোনও কিছুর উপর শরীর ঠেকিয়ে বিশ্রাম নেন, কিন্তু তাঁদের অন্তত একটি পা সর্বদা মাটিতে রাখতে হয়। কালভৈরবনাথ মন্দিরে পালিত এই ৩৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের নাম ‘উভ্যাচি নবরাত্র’, অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নবরাত্রি পালন।

গ্রামবাসীরা তাঁদের ইচ্ছাপূরণের আশায় অথবা গ্রামের আরাধ্য দেবতা ভগবান কালভৈরবনাথের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই ব্রত গ্রহণ করেন। অন্তত প্রতিটি অংশগ্রহণকারী পরিবারের একজন সদস্য সাধারণত এই প্রথায় যোগ দেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি হেমন্ত যাদব জানিয়েছেন, ভক্তরা প্রতিজ্ঞা করেন যে তাঁরা ৩, ৫, ৭, ১০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে এই ব্রত পালন করবেন।

‘নবরাত্রকারি’ নামে পরিচিত এই ব্রতীরা সাধারণত ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি। গ্রামের বাইরে কর্মরত বাসিন্দারা, এমনকি সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

বসা ও মাটিতে শোয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

এই ব্রতের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। ভক্তরা মাটিতে বসতে বা শুতে পারেন না। বিশ্রামের জন্য মন্দিরের ভিতরে বিশেষভাবে ঝোলানো ‘চৌফালা’ নামের দোলনার মতো ব্যবস্থায় বুক ঠেকিয়ে শরীরের ভার রাখেন। তবে একটি পা অবশ্যই মাটিতে রাখতে হয় এবং অন্য পা তোলা যেতে পারে।

হেমন্ত যাদবের কথায়, “এই প্রথার মূল ভাবনা হল, পায়ের মাধ্যমে মাটির সঙ্গে সংযোগ যেন কোনওভাবেই বিচ্ছিন্ন না হয়।”

এই কারণেই লাফানো, দ্রুত হাঁটা ও দৌড়ানো নিষিদ্ধ।

গ্রামের প্রাক্তন সরপঞ্চ মধুকর যাদব জানান, আরতির সময় ব্রতীরা সাদা পোশাক পরেন, খালি পায়ে থাকেন এবং ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য হাতে একটি কাঠের লাঠি রাখেন।

ব্রত চলাকালীন তাঁরা তেল, নুন ও লঙ্কা খাওয়া ছেড়ে দেন। তাঁদের খাদ্যতালিকায় থাকে দুধ, ফল এবং সাবুদানার ক্ষীর।

এ ছাড়া বিজয়াদশমী বা দশেরা পর্যন্ত তাঁরা গ্রামের সীমানা অতিক্রম করতে পারেন না।

কোনও ব্রতী ভুলবশত বসে পড়লে তাঁকে মন্দিরের পুরোহিতের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে আবার শুরু থেকে ব্রত পালন করতে হয়। গ্রামবাসী রাহুল যাদবের দাবি, তাঁদের অভিজ্ঞতায় কেউ ভুল লুকিয়ে রাখলে পরে পায়ে ব্যথা বা অসুস্থতার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

তাঁর মতে, পাণ্ডে গ্রামের এই নবরাত্রি পালনের রীতি প্রচলিত শারদীয়া নবরাত্রির থেকে আলাদা।

দিন কাটে মন্দিরেই

এই নয় দিন ব্রতীদের দৈনন্দিন জীবন চলে নির্দিষ্ট নিয়মে।

রাত তাঁরা মন্দির চত্বরেই কাটান। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বাড়িতে গিয়ে প্রাতঃকৃত্য সারেন। এরপর সকালের আরতি ও প্রাতরাশের জন্য আবার মন্দিরে ফিরে আসেন।

দিনের বাকি সময় তাঁরা ধর্মীয় বই পড়েন, ধ্যান করেন এবং সহব্রতীদের সঙ্গে গল্প করেন। অল্পবয়সিদের কেউ কেউ মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন।

বিকেল পাঁচটার পর তাঁরা গ্রামের মধ্যে হাঁটতে বের হন। তারপর মন্দিরে ফিরে সন্ধ্যার আরতিতে যোগ দেন। খাওয়া ও প্রাতঃকৃত্য সারার সময়টুকু বাদ দিলে তাঁদের বেশির ভাগ সময় মন্দিরেই কাটে।

নবরাত্রির টানে দূরদেশ থেকেও বাড়ি ফেরা

এই প্রথার প্রতি মানুষের আকর্ষণ এতটাই প্রবল যে, অনেকে দূরবর্তী কর্মস্থল থেকেও গ্রামে ফিরে আসেন।

মেঘালয়ের শিলংয়ে কর্মরত বিএসএফ কমান্ডো কিশোর যাদব গত চার বছর ধরে এই ব্রত পালনের জন্য বাড়ি ফিরছেন।

তাঁর কথায়, “দীপাবলির সময় ছুটি না পেলেও আমার অসুবিধা নেই। কিন্তু আমাদের কাছে নবরাত্রি অনেক বড় উৎসব।”

ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

এই প্রথার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও এখানে একই সঙ্গে ব্রত পালন করেন।

গ্রামের বাসিন্দা হারুন ইনামদার গত ২৬ বছর ধরে এই প্রথায় অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামে কোনও ধর্মীয় বৈষম্য নেই। সহগ্রামবাসীদের সঙ্গে থাকতে আমার ভালো লাগে। কোনও প্রতিদানের আশা না করেই আমি নয় দিন ধরে সমস্ত নিয়ম পালন করি।”

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রামের মানুষের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রথাটিকে এক বিশেষ সামাজিক তাৎপর্য দিয়েছে।

প্রথার একটি বিতর্কিত দিক

তবে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে এমন একটি প্রথাও যুক্ত রয়েছে, যা অনেকের কাছে পশ্চাৎপদ বলে মনে হতে পারে।

হেমন্ত যাদব জানান, নবরাত্রির নয় দিনের মধ্যে কোনও নবরাত্রকারির পরিবারের কোনও মহিলার ঋতুস্রাব শুরু হলে, দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী তাঁকে আলাদা ঘরে থাকতে হয় অথবা সাময়িকভাবে গ্রামের বাইরে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যেতে হয়।

পাণ্ডে গ্রামের সরপঞ্চ চেতনা যাদব এই ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এর উদ্দেশ্য মহিলাদের উপর কাজের চাপ কমানো।

তাঁর বক্তব্য, “একজন ব্রতীর দেখাশোনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। আলাদা খাবার তৈরি করা-সহ নানা কাজ থাকে। ঋতুস্রাবের সময় মহিলারা এমনিতেই শারীরিক অসুবিধার মধ্যে দিয়ে যেতে পারেন। তাঁদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার জন্যই অন্য ঘরে, বাড়ির উপরের তলায় অথবা গ্রামের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।”

তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও ঋতুস্রাবের কারণে মহিলাদের আলাদা করে রাখার প্রথাটি ঐতিহ্য, নারীস্বাধীনতা ও সামাজিক সমতার প্রশ্নে বিতর্কের অবকাশ রাখে।

উপসংহার

মহারাষ্ট্রের পাণ্ডে গ্রামের ‘উভয়া নবরাত্রি’ একদিকে যেমন প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য, কঠোর আত্মসংযম ও বিশ্বাসের প্রতীক, অন্যদিকে এটি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতিরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই সঙ্গে এর কিছু প্রথা আধুনিক সমাজে সমতা ও নারীর মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে ধরে।

সূত্র: The Indian Express — প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদিত উপস্থাপনা।

হিন্দু বাঙালীরা যে সময়ে তাদের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করেন, সেই সময়েই শোক পালন করেন অসুর বংশীয় আদিবাসীরা।তা...
16/10/2026

হিন্দু বাঙালীরা যে সময়ে তাদের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করেন, সেই সময়েই শোক পালন করেন অসুর বংশীয় আদিবাসীরা।

তাদের লোককথা অনুযায়ী, আর্যদের দেবী দুর্গা এই সময়েই তাদের রাজা মহিষাসুরকে ছলনার মাধ্যমে হত্যা করেছিলেন। রাজাকে হারানোর শোক হাজার হাজার বছর ধরেও ভুলতে পারেননি আদিবাসী সমাজ।

'অসুর' ভারতের একটি বিশেষ আদিবাসী উপজাতি। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড আর বিহার - এই তিন রাজ্যের সরকারি তপশিলী উপজাতিদের তালিকার একেবারে প্রথম নামটিই হল অসুর।

তবে এখন 'অসুর' ছাড়া অন্য আদিবাসী সমাজও মহিষাসুর স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে 'মহান অসুর সম্রাট হুদুড় দুর্গা স্মরণ সভা'র আয়োজন প্রতিবছরই বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন আদিবাসী সমাজ-গবেষকরা।

"২০১১ সালে গোটা পশ্চিমবঙ্গে ২০০-র কিছু বেশি এরকম স্মরণসভা হয়েছিল, ২০১৮ সালে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০০-র কিছু বেশি," বলছিলেন মহিষাসুর তথা ভারতের আদিবাসীদের উৎস সন্ধানে এক নির্মীয়মাণ তথ্যচিত্রের পরিচালক সুমিত চৌধুরী।

আর এবছর পশ্চিমবঙ্গের শুধু তিনটি জেলা - মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেই সাড়ে ৩৫০০ জায়গায় এই স্মরণ সভা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন আদিবাসীদের সামাজিক সংগঠন মাঝি পারগানা গাঁওতার নেতা চরন বেসরা।

মহিষাসুরের নাম হুদুড় দুর্গা কেন
হিন্দুদের বিশ্বাস মতে, তাদের দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। আবার আদিবাসী সমাজ মনে করে, দুর্গা আসলে তাদের 'সম্রাট মহিষাসুর'-এর নাম, যেখানে তিনি পরিচিত হুদুড় দুর্গা বলে।

গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপনের ব্যাখ্যা, "হুদুড় শব্দটার অর্থ হল ঝঞ্ঝা, বিদ্যুৎ বা বজ্রের ধ্বনি। এক্ষেত্রে মহিষাসুরের প্রভাব আর শক্তি ছিল বজ্রের মতো। আর দুর্গা শব্দটা দুর্গের রক্ষক অর্থে ব্যবহৃত। এটা পুংলিঙ্গ। প্রবল শক্তিশালী এক দুর্গের রক্ষক, অর্থাৎ রাজাই ছিলেন মহিষাসুর বা হুদুড় দুর্গা।"

বুন্দেলখণ্ডে এই মন্দিরে মহিষাসুরের পূজা হয় থাকে।ছবির উৎস,Promod Ronjon
ছবির ক্যাপশান,বুন্দেলখণ্ডে এই মন্দিরে মহিষাসুরের পূজা হয় থাকে।
"তিনি ছিলেন অত্যন্ত বলশালী এবং প্রজাবৎসল এক রাজা। আদিবাসীদের প্রচলিত লোকগাথা অনুযায়ী এক গৌরবর্ণা নারীকে দিয়ে তাদের রাজাকে হত্যা করা হয়েছিল।"

"এক গৌরবর্ণা নারীই যে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন, তা হিন্দু পুরাণেও আছে। দেবী দুর্গার যে প্রতিমা গড়া হয়, সেখানে দুর্গা গৌরবর্ণা, টিকলো নাক, যেগুলি আর্যদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য। দুর্গার আরেক নাম সেজন্যই গৌরী। অন্যদিকে মহিষাসুরের যে মূর্তি গড়া হয় দুর্গাপূজায়, সেখান তার গায়ের রঙ কালো, কোঁকড়ানো চুল, পুরু ঠোঁট। এগুলো সবই অনার্যদের বৈশিষ্ট্য," ব্যাখ্যা তথ্যচিত্র নির্মাতা সুমিত চৌধুরীর।

মি. উদ্দীপন আরও বলছিলেন যে আর্যরা ভারতে আসার পরে তারা কোনোভাবেই মহিষাসুরকে পরাজিত করতে পারছিল না। তাই তারা একটা কৌশল নেন, যাতে এক নারীকে তারা ব্যবহার করেন মহিষাসুরকে বধ করার জন্য।

মহিষাসুর বধের দুই বিপরীত কাহিনী
মহিষাসুরকে স্মরণ করছে আদিবাসী সম্প্রদায়।ছবির উৎস,Charan Besra
ছবির ক্যাপশান,মহিষাসুরকে স্মরণ করছে আদিবাসী সম্প্রদায়।
হিন্দু পুরাণে যেমন মহিষাসুর আর দেবী দুর্গার যুদ্ধের কাহিনী আছে, আদিবাসী লোকগাথাতেও সেই কাহিনী রয়েছে, কিন্তু দুটি কাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বিপরীত।

"রাজা মহিষাসুরের সময়ে নারীদের অত্যন্ত সম্মান দেওয়া হত। এবং এরকম একজন রাজা কোনও নারীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন না, বা তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবেন না, এরকমটাই ধারণা ছিল আর্যদের। তাই তারা দুর্গাকে এই কাজে ব্যবহার করেছিলেন বলেই আদিবাসী সমাজ মনে করে," বলছিলেন শরদিন্দু উদ্দীপন।

আর হিন্দুদের পুরাণে মহিষাসুরকে একজন 'ভিলেন' হিসাবে উপস্থাপন করা হয়।

উনবিংশ শতকে প্রথম পৌরাণিক কাহিনীগুলির বিশ্লেষণ ও সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করেছিলেন সামাজিক কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদ জ্যোতিরাও ফুলে। হিন্দুদের অবতার ও দেবদেবীদের আলোকে তিনি বিশ্লেষণ করেছিলেন ভারতের আদিবাসীদের লোকগাথা ও ইতিহাস।

তারপরে মি. ফুলের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান ভারতের সংবিধান রচয়িতা বি. আর. আম্বেদকর। পুরাণ ও লোককথার ওপরে ভিত্তি করে তিনি আর্য ও অনার্যদের সংঘাতকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তার লেখাতেই প্রথম বলা হয় দানব, রাক্ষস, দৈত্য, কিন্নর, নাগ, যক্ষ এরা সব মিলে যে 'অসুর' সম্প্রদায়, তারা আসলে মানুষই ছিলেন। তিনিই প্রথম এই অসুর সম্প্রদায়ের লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন।

কীভাবে মহিষাসুরের জন্য শোক পালন করা হয়
খাজুরাহোর মন্দিরে মহিষাসুরের মূর্তি।
,খাজুরাহোর মন্দিরে মহিষাসুরের মূর্তি।
চিরাচরিত ভাবে দুর্গাপূজার সময়টাতেই মহিষাসুরের জন্য শোক পালন করে থাকে আদিবাসী সমাজ। কোথাও অরন্ধন পালন করা হয়, কোথাও জানলা-দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকেন আদিবাসীরা, যাতে দুর্গাপূজার যে উৎসব, সেই মন্ত্র বা ঢাকের শব্দ যাতে তাদের কানে না যায়।

দুর্গাপূজার এই সময়ে তারা অশৌচ পালন করেন এবং ভুয়াং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নাচ হয়। দাসাই নাচ করেন তারা, যেখানে পুরুষরা নারী যোদ্ধার ছদ্মবেশ ধারণ করে কান্নার সুরে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘোরেন।

"তাদের গানটা এরকম : 'ওকার এদম ভুয়াং এদম জনম লেনা রে, ওকার এদম ভুয়াং এদম বছর লেনা রে'। তারা বিশ্বাস করে এই গানের মধ্যে যে প্রশ্ন আছে, তার উত্তর একমাত্র জানে হুদুড় দুর্গা। সে যদি এই গান শুনতে পায়, তাহলে জবাব দেবে এবং হুদুড় দুর্গাকে তারা চিহ্নিত করতে পারবে," বলছিলেন শরদিন্দু উদ্দীপন।

"তারা 'বিন্দি বা মাকড়সাকে বলে, 'ও বিন্দি, তোমরা কি কেউ আমার রাজাকে দেখেছ? আমাদের রাজাকে কোনও এক গৌরবর্ণা নারী চুরি করে নিয়ে গেছে'," আদিবাসী সমাজের লোকগাথা বিশ্লেষণ করে বলছিলেন শরদিন্দু উদ্দীপন।

মহিষাসুর স্মরণের ধরণ পাল্টাচ্ছে
আদিবাসী সমাজের নেতা চরন বেসরা জানাচ্ছেন, এবছর করোনা মহামারির কারণে তাদের মূল কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানটি হয় দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পরের দিন। কিন্তু গ্রামে গ্রামে মানুষ মহিষাসুর স্মরণ করছেন নিজেদের মতো করে।

"ষষ্ঠী, সপ্তমী থেকেই শুরু হয় শোক পালন। দাসাই, ভুয়াং এগুলো চলতে থাকে পাড়ায় পাড়ায়। আর দশমীর দিন হয় বড় অনুষ্ঠান। আমরা এগুলো করতে শুরু করেছি ২০১২ সাল থেকে। আর প্রতিবছরই সংখ্যাটা বাড়ছে।

"আমরা চেষ্টা করছি আর্য সভ্যতা-সংস্কৃতির বিপরীতে ভারতের আদি বাসিন্দাদের সংস্কৃতি পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে," বলছিলেন চরণ বেসরা।

বছর দশেক আগে থেকে সংগঠিতভাবে মহিষাসুর স্মরণ অনুষ্ঠান করা হলেও আদিবাসী সমাজ কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে তাদের রাজার জন্য শোক ব্যক্ত করে আসছে।

নতুন করে যেভাবে শোক পালন অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে, তার সঙ্গে চিরাচরিত প্রথায় শোক পালনের একটা ফারাক আছে বলে মনে করেন মহিষাসুর গবেষক প্রমোদ রঞ্জন।

মি. রঞ্জন এখন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন, কিন্তু তার বড় পরিচয় হল ভারতের নানা জায়গায় ঘুরে মহিষাসুর সম্বন্ধীয় ঐতিহাসিক প্রমাণ যোগাড় করেছেন তিনি।

"তফাৎটা হল যে চিরাচরিত প্রথায় যেভাবে শোক পালন হত, তার ভিত্তি ছিল লোকগাথা আর এখন যেটা হচ্ছে সেটা একটা ইতিবাচক সাংস্কৃতিক রাজনীতি। যেটা একদিকে মনুবাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজের রুখে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা অন্যদিকে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস," বলছিলেন মি. রঞ্জন।

মহিষাসুরের খোঁজে
গবেষকদের মতে মহিষাসুর সংক্রান্ত যে লোকগাঁথা রয়েছে, তা প্রায় ৩০০০ বছর পুরনো, যখন আর্যরা ভারতবর্ষে আসেননি। এমন কি বুদ্ধেরও আগের যুগের ইতিহাস এটা।

আর মহিষাসুর সম্বন্ধীয় লোকগাঁথা গোটা দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই পাওয়া যায়। উত্তর ভারত থেকে শুরু করে দাক্ষিণাত্য, বর্তমানের নেপাল - বাংলাদেশেরও নানা জায়গায়।

প্রমোদ রঞ্জনের কথায়, "বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এই অসুর জাতির ইতিহাস আর্যদের পূর্ববর্তী যুগের ইতিহাস। আমরা যেমন মহিষাসুরকে খুঁজে পেয়েছি বর্তমান উত্তর প্রদেশের বুন্দেলখন্ডে, আবার এখনকার যে মহীশুর বা মাইসোর শহর, সেই অঞ্চলেও মহিষাসুরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আবার খাজুরাহোর যে বিশ্বখ্যাত মন্দির, সেখানেও মহিষাসুরের মূর্তি পেয়েছি আমরা। অর্থাৎ শুধু যে লোকগাঁথায় মহিষাসুর আছেন, তা নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও খুঁজে পেয়েছি আমরা।"

'অসুর' নামের যে জনজাতি, তারা ছাড়াও ভারতের আদিমতম আদিবাসী বলে পরিচিত ছত্তিশগড়ের গোন্ড সম্প্রদায়ের মধ্যেও মহিষাসুরের লোকগাঁথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত বলে জানাচ্ছিলেন মি. রঞ্জন।

দু'হাজার চৌদ্দ সালে তার কাছে কতগুলি ছবি আসে, যেগুলি ছিল উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখন্ড এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মহিষাসুরের কয়েকটি প্রত্ন নিদর্শনের ছবি।

প্রমোদ রঞ্জন সেই সময়ে দিল্লির ফরোয়ার্ড প্রেস নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা, যারা মূলত দলিত সম্প্রদায়ের সাহিত্য নিয়ে কাজ করে, সেটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

তার মধ্যে এমন একটি ছবি ছিল, যেটি ভারত সরকারের আর্কিওলজিকাল সার্ভের সংরক্ষিত একটি নিদর্শন, যার নাম মহিষাসুর স্মারক।

প্রমোদ রঞ্জনের কথায়, "শুধুমাত্র ওই কয়েকটি ছবি সম্বল করে আমি এবং আমার এক সহকর্মী ট্রেনে চেপে দিল্লি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে মাহোবা রেল স্টেশনে নেমেছিলাম এক রাতে। স্টেশনের আশেপাশে অনেককে দেখিয়েছিলাম ছবিগুলো। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি যে ওই জায়গাগুলো কোথায়।"

দিন দুয়েক পরে তারা খুঁজে পেয়েছিলেন মহিষাসুর স্মারক।

"একজন আমাদের পাঠায় কুলাপাহাড় নামের এক জায়গায়, কিন্তু সেখানেও কিছু পাইনি আমরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে কুলাপাহাড় থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে চাউকা নামের একটা জায়গার কথা বলে একজন। সেখানে পৌঁছিয়ে আমরা নিশ্চিত হলাম যে সঠিক জায়গায় এসেছি। পুরাতত্ত্ব বিভাগের একটি বোর্ড দেখতে পেলাম," বলছিলেন প্রমোদ রঞ্জন।

ওই স্মারকটি ভারত সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করে রেখেছে। পরে মি. রঞ্জনের এক প্রশ্নের জবাবে পুরাতত্ত্ব বিভাগ জানায় যে ওই স্মারকটি একাদশ শতকের।

দিন দুয়েক পরে মাহোবায় ফিরে এসে কাছাকাছি মহিষাসুরের আরও নিদর্শন খুঁজতে থাকেন তারা।

গোখর পাহাড়ে আলাপ হওয়া এক সাধুর কাছে তাঁরা জানতে পারেন যে ওই অঞ্চলে মহিষাসুর ব্যাপকভাবে পূজিত হন। কোথাও ভৈঁসাসুর, কোথাও মাইকাসুর আবার কোথাও মহিষাসুর নামে তাঁর পুজা দেন দলিত শ্রেণীর যাদব আর পাল বংশীয় মানুষ। মহিষাসুরকে তাঁরা গরু, মোষের মতো গৃহপালিত পশুর রক্ষাকর্তা বলে মনে করেন।

মি. রঞ্জন বলছেন, গ্রামগুলিতে মহিষাসুরের মন্দির থাকে না, তবে বাঁধানো চাতাল মতো একটা জায়গায় পূজা করেন স্থানীয় মানুষ।

আবার খাজুরাহোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটেও তিনি মহিষাসুরের মূর্তি দেখতে পেয়েছেন।

গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপন বলছিলেন, সম্রাট অশোকের আমলে মহিষাসুরকে বর্তমানের মহিশুর বা মাইসোর অঞ্চলটি শাসন করতে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

সব নিদর্শনগুলি দেখে প্রমোদ রঞ্জনের মত হল, "মহিষাসুর নানা যুগেই ছড়িয়ে ছিলেন। তাই এটা সম্ভবত কোনও এক ব্যক্তি নন, এটা একটা উপাধি। যার পরম্পরা দক্ষিণ এশিয়ার নানা এলাকায় ছড়িয়ে আছে। যে পরম্পরা হাজার হাজার বছর ধরে বয়ে আসছেন আদিবাসীরা।"
Courtesy- BBC

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:চিকিৎসাবিজ্ঞান (Physiology or Medicine)• বিজয়ী: কার...
09/10/2026

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

চিকিৎসাবিজ্ঞান (Physiology or Medicine)

• বিজয়ী: কার্ল ডেইসেরথ (Karl Deisseroth) [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র], পিটার হেগেমান (Peter Hegemann) [জার্মানি] এবং গেয়র্গ নাগেল (Georg Nagel) [জার্মানি]।
• অবদান: আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং 'অপটোজেনেটিক্স' (optogenetics) আবিষ্কারের জন্য, যা জীবিত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

পদার্থবিজ্ঞান (Physics)

• বিজয়ী: ফ্রান্সিস হ্যালজেন (Francis Halzen) [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র/বেলজিয়াম]।
• অবদান: আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে (IceCube Neutrino Observatory) অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের জন্য।

রসায়ন (Chemistry)

• বিজয়ী: হেনরি বি. কাগান (Henri B. Kagan) [ফ্রান্স] এবং কিনসুস ওয়াই (Kenso Soai) [জ জাপান]।
• অবদান: অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে (asymmetric organic synthesis) নন-লিয়ার প্রভাব এবং অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য।

সাহিত্য (Literature)

• বিজয়ী: অ্যান কার্সন (Anne Carson) [কানাডা]।
• অবদান: তাঁর সাহসী এবং উদ্ভাবনী রচনার জন্য, যা ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সাথে কৌতুকপূর্ণ সংলাপে সমসাময়িক সাহিত্যের জন্য নতুন ফর্ম তৈরি করেছে।

শান্তি (Peace)

• বিজয়ী: নাভি পিল্লাই (Navanethem "Navi" Pillay) [দক্ষিণ আফ্রিকা]।
• অবদান: আন্তর্জাতিক আইন ও বিচার ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের জন্য।
(অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা পরবর্তীতে সম্পন্ন হবে)

RIPPoster courtesy- Ananda Bangla
08/10/2026

RIP
Poster courtesy- Ananda Bangla

।।মাউন্ট এভারেস্টের আসল নাম মাউন্ট রাধানাথ।।আজকে যারা জানেন মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তারা একটা মস্ত বড় ভু...
05/10/2026

।।মাউন্ট এভারেস্টের আসল নাম মাউন্ট রাধানাথ।।

আজকে যারা জানেন মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তারা একটা মস্ত বড় ভুল করছেন। আসলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম মাউন্ট রাধানাথ। হ্যাঁ ঠিকই পড়লেন, আসলে এক ভারতীয় বাঙালি ভদ্রলোক সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের উচ্চতা ত্রিকোণমিতির আর বিজ্ঞানের সাহায্যে নির্ণয় করেন। আজ সেই রাধানাথ শিকদারের জন্মদিন।

সময়টা ১৮৫২ সাল। দেরাদুনের ‘গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র অফিস। উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে তৎকালীন সার্ভেয়ার জেনারেল অ্যান্ড্রু ওয়াহ্‌-এর ঘরে ঢুকে এক বাঙালি যুবক বলে উঠলেন— “স্যার, আই হ্যাভ ডিসকভার্ড দ্য হাইয়েস্ট মাউন্টেন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড!”

যুবকের নাম রাধানাথ শিকদার। হিন্দু কলেজের ডিরোজিওর ভাবশিষ্য (Young Bengal), যাঁর মাথার ভেতরে খেলা করত জটিল সব গাণিতিক সমীকরণ।
তখন শৃঙ্গটির কোনো নাম ছিল না, সার্ভের খাতায় পরিচয় ছিল শুধুই ‘পিক ফিফটিন’ (Peak XV)। কোনো অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট বা কম্পিউটার ছাড়া, হিমালয়ের সেই দুর্গম শিখরে এক পা না রেখেও— শত মাইল দূর থেকে কেবল জটিল স্ফেরিক্যাল ট্রিগোনোমেট্রি (Spherical Trigonometry) আর আলোর প্রতিসরণের হিসেব কষে তিনি মেপে বের করলেন উচ্চতা: ঠিক ২৯,০০০ ফুট!
পরবর্তীকালে ব্রিটিশ রাজের ঔপনিবেশিক অহংকার সেই কৃতিত্ব কেড়ে নিল। শৃঙ্গটির নাম রাখা হলো অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সার্ভেয়ার স্যার জর্জ এভারেস্টের নামে— যিনি জীবনে কোনোদিন সেই শৃঙ্গটি স্বচক্ষে দেখেনওনি! আর আড়ালেই ঢাকা পড়ে রইল এক বাঙালির অক্লান্ত মেধা ও রক্ত-ঘামের গল্প।

শুধু গণিতবিদই নন, রাধানাথ ছিলেন ব্রিটিশদের দাসত্ব অস্বীকার করা এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বিদ্রোহী বাঙালি। নারীদের সহজ ভাষায় পড়াশোনার জন্য প্যারিচাঁদ মিত্রের সঙ্গে যৌথভাবে বের করেছিলেন ‘মাসিক পত্রিকা’।

বিশ্ব যাকে ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ বলে চেনে, ইতিহাসের আয়নায় তার নাম আসলে ‘মাউন্ট রাধানাথ’। ১৮১৩ সালের ৫ই অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই বঙ্গসন্তানকে তাঁর জন্মদিনে সশ্রদ্ধ প্রণাম।

@চিত্র-গুপ্ত

Address

Contai

Telephone

+917001074114

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Contai Quiz Forum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Nearby gyms & sports facilities