The Reserve Bench

The Reserve Bench

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Reserve Bench, Sport & recreation, KOLKATA.

18/10/2020

্পর্ধার_রূপকথা

‌‌ সাল ১৯০৪ , উরুগুয়ের মন্টেভিডিও চিরকালই শান্ত প্রকৃতির শহর। নদীর উপকূলবর্তী শহরে চাষাবাদের সঙ্গে গড়ে উঠেছে কিছুসংখ্যক কলকারখানা। এক গরীব কৃষকের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান , তার নাম রাখা হয় হেক্টর কাস্ত্রো।

ছেলেটি যত বড় হতে থাকে ততই বাড়তে থাকে ফুটবলের প্রতি অদম্য জেদ ও ভালোবাসা। বল পায়ে ছুটে বেড়াতে বেড়াতে একদিন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকে ছেলেটি। কিন্তু অভাবে পেটের দায়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ করতে হয় এক বৈদ্যুতিক কর্ণের কারখানাতে । কিন্তু অদৃষ্ট হয়তো কিছু অন‍্য কথাই লিখে রেখেছিলেন তাঁর জন্যে । একদিন এক র্দুঘটনায় তাঁর ডান হাতটি বাদ যায় । দলের একজন স্ট্রাইকার পজিশনে খেলার স্বপ্ন দেখা ছেলেটিকে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণার মুখে পড়তে হয়। এক হাত নিয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে দৌড়ানো যেকোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তাঁর কাছে কেবল দুটো রাস্তা খোলা ছিল ,এক সারাজীবনের মত অন্ধকারে ডিপ্রেশনে চলে যাওয়া আর অন্যটি হলো নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকা। কিন্তু রূপকথার গল্প লেখার জন্যে যার জন্যে যার জন্ম , পরিস্থিতির কাছে এত সহজে সে হার মানতে নারাজ। শুরু হল এক হাত নিয়েই ফুটবলের মহড়া ।

সাল ১৯২১ , প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা হয়ে গিয়েছে , জার্মানির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ভার্সাই সন্ধি । এমনই অশান্ত রাজনৈতিক পরিবেশে হেক্টর নামের একহাত বিহীন যুবকটি সুযোগ পায় অ‍্যাথলেটিক লিটো ক্লাবে । ১৯২১-২৩ পর্যন্ত এই ক্লাবের হয়েই খেলেছেন তিনি । ১৯২৩ এ সিনিয়র সদস্য হিসেবে যুক্ত হন নাসিওনাল ক্লাবে । জীবনের স্বপ্নের দৌড় দৌড়াতে দৌড়াতে অবশেষে এল তাঁর স্বপ্ন পূরণের পালা ।১৯২৬ সালে জাতীয় দলে দেশের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় তাঁর ।

সালটা ১৯৩০ , জার্মানি পেয়েছে অ‍্যাডলফ হিটলার এর মতো নেতাকে , মুসোলিনির উত্থান শুরু হয়েছে ইতালিতে । এহেন পরিস্থিতিতে মূলত আমেরিকার দেশগুলোর উদ‍্যোগে ১৩ টি দেশ নিয়ে শুরু হল এক বিশ্বফুটবল প্রতিযোগিতা । যার আয়োজক দেশ হিসেবে বেছে নেওয়া হলো উরুগুয়েকে । একের পর এক দলকে হারিয়ে কাস্ত্রোর দল চলে যায় ফাইনালে , প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। রূপকথা হয়তো ইতিহাস হয়েই চিরকাল থেকে যেতো যদি না টুর্নামেন্টে পায়ে চোট পেয়েও হেক্টর কাস্ত্রো ফাইনালে খেলার স্পর্ধা না দেখাতেন । ম্যাচটি উরুগুয়ে ৪-২ গোলে জয় পায় ।

শুধু এখানেই থামেনি হেক্টর কাস্ত্রো । জিতেছেন দুবার আমেরিকান চ‍্যাম্পিয়নশিপ ও একবার রানার্স ও একবার তৃতীয় হতে হয় তাঁর দলকে। খেলোয়াড় হিসাবে অবসর নেওয়ার পরে, ক্যাস্ত্রো ন্যাসিওনালের সাথে ফুটবল কোচ হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি উরুগুয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ১৯৪০-'৪১-'৪২-'৪৩ এবং আবার ১৯৫২ সালে জিতেছিলেন। কিন্তু ১৯৬০ সালে মাত্র ৫৫ বছর বয়সেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

আমরা জীবনে ব্যর্থ হলে নানা অজুহাতে নিজেদের ঘামতি ঢাকার চেষ্টা করি । কাস্ত্রোর কাছে হাজার একটা অজুহাত ছিল কিন্তু সেসব ন্যসাৎ করে তিনি মাঠে নামেন এবং চ্যাম্পিয়ন হন কারণ সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের কাছে কোনো অজুহাত থাকে না । বিশ্ব ফুটবলের কাছে যেন তিনি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার কটা পংক্তির মতো -

' তুমি গেছ , স্পর্ধা গেছে , বিনয় এসেছে '

কলমে : কুশল ( Admin )

14/10/2020

‘ জন-গণ-পথ-পরিচায়ক জয় হে, ভারত-ভাগ্য-বিধাতা! ’

নয় বছর আগের ভারতবর্ষ একমুহুর্তে হঠাৎ থমকে গেছে । ছেলে বুড়ো সবাই উঠে দাঁড়িয়েছে ছেলেটার সেঞ্চুরি দেখবে বলে । মুম্বাইয়ের সমুদ্রের পাড়ে ভারত যখন একটার পর একটা উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে , সেই সময় মাটি কাঁমড়ে , দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির একখন্ড ভারতবর্ষ । বীরেন্দ্র সেওয়াগ , শচীন তেন্ডুলকর , বিরাট কোহলির উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও ১৩০ কোটি স্বপ্ন দেখতে ভোলেনি । আজও বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ভারতবর্ষকে ধুঁকতে দেখলে মনে হয় গৌতম গম্ভীর রঙ্গমঞ্চের এক কোণে থাকা সেই লোকটা, যে নাটক শেষ না হওয়া অবধি মঞ্চ ছাড়তে নারাজ । সেই মঞ্চ ওয়াংখেড়ে হোক কিংবা জোহানেসবার্গ , লড়াইয়ের নায়ক একজনই। ছেলেটার ব্যাটিংয়ে ছিল না গাঙ্গুলীর আগ্রাসী মেজাজ , ছিল না শচীনের লেগ্যাসি , ছিল না সেওয়াগের সংহার রূপ , ছিল না যুবরাজের স্টাইল তাহলে কি ছিল গম্ভীরের ব্যাটিংয়ে ? ভরসা ! বিশ্বাস ! আর মাটি কাঁমড়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করার ক্ষমতা ।

নয় বছর আগে সেবারই শেষবার , তারপর থেকে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে কাছাকাছি পৌঁছেও বিশ্বকাপের দরজা খোলেনি ভারতের জন্য । আজও তাই সঙ্কটে পড়লে ভারতবাসী চোখ বুজে বোধহয় সেই পাঁচ নম্বর জার্সি পড়া বাঁ হাতি ছেলেটাকেই খোঁজে । শান্ত মুখ , চেনা সেই দাঁতে কামড়ে ধরা ঠোঁট , চেনা ব্যাটিং স্টান্স , লেগ স্টাম্পে বুট ঘষে নেওয়া , চেনা সেই ব্যাটফুটে গিয়ে কভার এক্সটা কভার দিয়ে পুস করে বের করা সিঙ্গেল সবই এখনও যেন মিস করে যায় বাইশ গজ। ভারতীয় ক্রিকেটের সাইলেন্ট কিলারের নাম গৌতম গম্ভীর । ভারতীয় ব্যাটিংয়ের শেষ তুরুপের তাসের নাম গৌতম গম্ভীর । কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজে মাটি কাঁমড়ে পড়ে থেকে পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচের রং পাল্টে দেওয়ার নাম গৌতম গম্ভীর ।

তাই বোধহয় , ২০১১ ফাইনালে ধোনির ঔজ্জ্বল্যও কমাতে পারেনি তোমার ধূলো - ঘাম - কাদা মাখা নীল জার্সিটার লড়াইয়ের জৌলুস কিংবা ২০০৭ এর টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজের তেজস্বী ইনিংসের সামনেও ভুলতে পারিনি মাটি কাঁমড়ে ধরে ফাইনালের লড়াইটা । শচীন - সেওয়াগের পাশে চিরকাল ছায়ায় মতো সাপোর্ট কোনদিনও ভোলার নয় ।

আজ এতবছর পরে বাইশ গজের লড়াইয়ের মঞ্চে হয়তো তুমি নেই কিন্তু পড়ে রয়েছে তোমার চেনা মেজাজ , সেই চেনা শটগুলো , সেই চেনা ব্যাটিংয়ের মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্যতা পাওয়ার লড়াই , মাটি কাঁমড়ে ধরে আর ও একটা বলের জন্য অপেক্ষারত সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি । ভারতবর্ষ যতবার বিপদের মুখে পড়েছে ততবার তুমি নিজের কঠিন পরিশ্রমের বিনিময়ে বিপক্ষের চক্রবূহ্য ভেদ করে উড়িয়ে দিয়েছো তেরঙ্গা । ভবিষ্যত প্রজন্মকে আজ ও তুমি নির্ভরযোগ্যতাটা শিখিয়ে দিও । ওদের শিখিয়ে দিও কিভাবে তুমি নিজের কাদামাখা শরীরটাকে বর্ম বানিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছিলে তেরঙ্গাটার জন্য । ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অলিখিত যোদ্ধার নাম গৌতম গম্ভীর , ভারতীয় ক্রিকেটের এক পথ পরিচায়কের নাম গৌতম গম্ভীর ।

শুভ জন্মদিন যোদ্ধা , শুধু ন' বছর নয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে তোমার ধূলো কাদামাখা জার্সিটা । ওটার সন্মান ভারতীয় ক্রিকেটের পূণ্যতীর্থে ঈশ্বরের সমান । ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে জার্সি এবং পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির একখন্ড ভারতবর্ষের লড়াইয়ের কাহিনী ।

কলমে : কুশল ( Admin )

11/10/2020

্যাজিশিয়ানের_গল্প

উত্তর কলকাতার সাবেকি মেজাজে সেদিন নেমে এসেছিল অকালবসন্ত । চাটুজ্জে , বারুজ্জে , মিত্তির বাড়ির দালানগুলো সেদিন ঢেকে গেছিল সবুজ মেরুন আবীরে । ক্লাবের ছেলেরা সন্ধ্যায় ক্যারাম বোর্ড ছেড়ে মেতেছে সেলিব্রেশনে । তারিখটা একবার মনে করিয়ে দি , ৩১ শে মে , ২০১৫ । সাবেকিআনার আঁতুড়ঘরে কারা যেন একটুকরো সাদা পায়রা এনে দিয়েছিল সেদিন , যাতে মোহন আকাশে অনেকটা জায়গা নিয়ে সে নিজেকে মেলে ধরতে পারে । ক্ষুধার্ত , কাঙালের ঘরে সেদিনের ফ্যারিস্তার নামই ছিল সনি নর্ডি । তেরোটা রংবিহীন বসন্তের পর আবার নতুন করে ভারতসেরার শিরোপা , নস্টালজিয়া সেদিন যেন আবেগে ফেটে পড়েছিল ।
সাবেকিয়ানার পর্দা ছিঁড়ে ফ্রি কিকটাকে জালে জড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চুম্বন করে সতীর্থদের মাঝখান থেকে বেরিয়ে আসছে সোনালি চুলের ষোলো নম্বর জার্সি পড়া প্লেয়ারটা । অভিমানী , রগচটা , হার না জাতির অহংকার হয়ে সেদিন ময়দানে স্টেইগান চালানোর বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছিল কত শত বুলেটপ্রুফ ডিফেন্স । সনি একটা আবেগের নাম , সনি একটা ভালোবাসার নাম , সনি একটা স্পর্ধার নাম , সনি একটা অহংকারের নাম , সনি একটা বিশ্বাসের নাম । এক্সট্রা টাইমে চলে যাওয়া ম্যাচেও মোহনজনতা এই আশায় বুক বাঁধতো , সনি তো আছে , তাহলেই হবে । আর আপনি আর আমি কিনা প্লেয়ারের প্রফেশনালিজম বিচার করবো ?

হাইতির অখ্যাত গ্রাম থেকে যখন একটা ছেলে দারিদ্র্যকে ড্রিবিল করে এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল দুনিয়াকে তাঁর প্রতিভায় মোহিত করার জন্য । আর্জেন্টিনা , মেক্সিকো , বাংলাদেশ হয়ে ছেলেটি এসে পড়ল নস্টালজিয়ার আঁতুড়ঘর বনেদি কলকাতা ময়দানে। মোহনজনতার অনেকেই তাঁকে ব্যারেটো কিংবা ওডাফার ধারের কাছে রাখতে নারাজ ‌কিন্তু তাতে কি ছেলেটা লড়ে নিতে জানে । শেখ জামাল ধানমন্ডি থেকে যেই ফ্যারিস্তা এসেছিল কলকাতা ময়দানে সে একযুগ পড়েও মেরুদন্ড সোজা রেখে লড়াই করা যায় । আসলে সনি‌ কোনোদিনই ইতিহাস লিখতে চায়নি , চায়নি ময়দানে অমর হতে শুধু চেয়েছিল ম্যাজিক দেখাতে , যেই মোহে আট থেকে আশি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে কিন্তু কলকাতা ময়দান বড়ই নিষ্ঠুর একলহমায় জিরো থেকে হিরো বানিয়ে দেয় আবার এক লহমায় ‘ গো ব্যাক ’ স্লোগান দিতেও পিছপা হয় না । আই এস এলের মতো ক্লাবের লোভনীয় অফার যে ফিরিয়ে দিয়েছিল সমর্থকদের ভালোবাসার টানে , অন্ধকারের সময়ে তারাই পাশ কাটিয়ে চলে গেছিল । হাঁটুর চোটে ধুঁকতে থাকা সনি বুঝে গিয়েছিল কলকাতা ম্যাজিক মঞ্চে এবার ইতি টানবার সময় এসে গেছে ।

নাই হলো চিরস্থায়ী সম্পর্ক , ম্যাজিশিয়ানকে বেঁধে রাখার ম্যাজিক মনে হয় কলকাতা ময়দান এখনও রপ্ত করতে পারেনি । সনি নাই বা থাকলো , স্মৃতির সরণীতে না হয় পড়ে থাকলো অসাধারণ কিছু ড্রিবলিং আর চোখজুড়ানো কিছু গোল । আর সনি নর্ডি না হয় রয়ে গেলে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব মোহনবাগানের এক ক্ষণস্থায়ী বিপ্লবী হয়ে । কখনো মনে হয় লড়াই ভুলতে বসা ক্লাবটাকে পুনরায় লড়াই করা শেখানোর জন্যই হয়তো সনির আগমন । আজ কলকাতার ময়দান থেকে অনেক দূরে গিয়েও সনি হয়তো মিস করে সেই কলকাতা ময়দানটাকেই , হয়তো মিস করে সমর্থকের ‘ সনি সনি ’ রবটাকেই । কোনো এক দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় আজও আবছা অবয়ব আসে বিপ্লবী ম্যাজিশিয়ানের ,হয়তো তিনি দূর থেকে দেখতে পান তাঁর উত্তরসূরীকে , তখনই হয়তো সনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলবেন ,
‘ তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে। ’

কলমে : কুশল ( Admin )
ছবি : Google

07/10/2020

#ঘূর্ণির_রাজপুত্র

সাল ২০০৫ , এজব্যাস্টনে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে ইংল্যান্ড। সামনে ওপেনার অ্যান্ডু স্ট্রস , এমন সময় অজি ক্যাপ্টেন রিকি পন্টিং এর আস্থাভাজন হলেন শেন ওয়ার্ন । জীবন ঘূর্ণির পিচে শেনের ডেলিভারি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থেকে টার্ন নিয়ে , ব্যাটসম্যানের ফ্রনফুট ডিফেন্সকে নাস্তানাবুদ করে আঁচড়ে পড়ল লেগ স্টাম্পে । উল্লাসে ফেটে পড়লো অজি প্লেয়ারেরা । সাময়িকভাবে মাথায় হাত পড়ে গেলেও উঠে দাঁড়িয়ে হাততালির মাধ্যমে অভিবাদন জানালো ইংল্যান্ড দর্শক ও । সাহস , প্রতিভা , জেদ জীবনের এই তিনটি অংশকে হয়তো বারবার তিনটে স্টাম্পেই দেখতে পেতেন শেন ওয়ার্ন ‌, আর বারংবার আঘাত হানতেন তাদের উপর যাতে জীবনযুদ্ধের প্রতি ময়দানে আরও প্রখর থেকে প্রখরতর হয়ে ওঠা যায় । রূপকথা কখনও সত্যি হয় কিনা জানিনা , তবে হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার সুর যেমন লালিত্য ঝংকারে বেঁধে দিত তার বাঁশি তেমনি , ওয়ার্নের হাতের ঘূর্ণির সুর তাল একাধিকবার বাইশ গজে বেঁধে দিয়েছে ক্রিকেট বলটা ।

সাল ৮৩-৮৪ হবে , মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডের বাইরে ম্যাচ জেতার আনন্দে বাকি ক্রিকেটারদের নিয়ে পার্টিতে মজে আছে জুনিয়র টিমের বছর ষোলোর ব্রাউন চুলের এক যুবক । সেই নাকি দলের অধিনায়ক , স্থানীয় ছেলে তবে আশ্চর্য এটা নয় ছেলেটি স্পিন বোলিং করে এবং বোলিং এরকমের ভ্যারিয়েশনটাই বিস্ময়কর । লেগ স্পিন , অফ স্পিন দুটোতেই সমান পারদর্শী । অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং এর পিচে স্পিনের এরকম প্রতিভা থাকাটাই দুঃস্কর । তখন হয়তো বিশ্বক্রিক্রেট জানতো না , ক্যাঙারুদের দেশে সবার অলক্ষ্যেই বেড়ে উঠছে ঘূর্ণির জাদুকর । সেদিনের সেই পার্টিতে উদ্দাম নাচতে থাকা ছেলেটাই আজকের কিংবদন্তি স্পিনার শেন কিথ ওয়ার্ন ।

এরপর একটার পর একটা প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে থাকেন তিনি , পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য না হলেও পাতে রাখার মতন । তাছাড়া এর আগেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডে তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে । ১৯৯২ তে ইন্ডিয়া ট্যুর ঘোষিত হলে , দলে ব্যাটিং এবং বোলিং এর ভারসাম্য রক্ষার জন্য নাম ঘোষনা করা হয় তরুণ স্পিনার শেন ওয়ার্নের । অভিজ্ঞতার ঝুলি এমন কিছুই ছিল না তার সাথে , সঙ্গে ছিল একমুঠো প্রতিভা আর এক পৃথিবী স্বপ্ন আর তাকেই পুঁজি করে অভিষেক হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে । পারফরম্যান্স মনে রাখার মতন নয় , তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম শিকার ছিল রবি শাস্ত্রী । বোলিং ফিগার ১৫০/১ । এরপরও সুযোগ এল অ্যাডিলেডের চতুর্থ টেস্টের জন্য কিন্তু আবারও সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স , পেলেন না একটিও উইকেট । সিরিজের পঞ্চম টেস্টের আগে তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ২২৮/১ । আশাতীত খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়লেন পার্থ টেস্ট থেকে । ওয়ার্ন বুঝতে পেরেছিলেন , হঠাৎ করে চলে আসা সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে ব্যর্থ , এরপরের পথে তাঁর জন্য আরোও কাঁটা ছড়িয়ে রাখা হবে । হতাশা তাকে চারপাশে ঘিরে ফেললেও গ্রাস করতে পারেনি কোনোদিন , তিনি এতটাই খোশমেজাজে থাকার চেষ্টা করতেন সবসময় । আবার ফিরে গেলেন প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে , এবার পরিশ্রম করলেন কঠোরভাবে , পারফরম্যান্স করলেন ভালো এবং আবার এলো সেই মোক্ষম সুযোগ '৯২ এর শেষের দিকে শ্রীলঙ্কা ট্যুরের জন্য উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ওয়ার্নকে । আবারও এলো খেলার সুযোগ কলোম্বো টেস্টে । কিন্তু আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছিল , উইকেটের দেখা নেই , তাঁর বোলিং ফিগার হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১০৭/০ । কিন্তু নাটকীয় মুহূর্ত ঘটে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান না দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ঝুলিতে তিনটি উইকেট এনে দেন ওয়ার্ন , সেই সঙ্গে অবদান রাখেন টিমের ১৬ রানের জয়তেও ‌। ম্যাচের শেষে শ্রীলঙ্কার তৎকালীন অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গা বলেই বসলেন , 'A bowler with Test average of more than 300 came and snatched the victory from our hands'. সফলতার ক্ষীণ আলো জন্মালেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী , এই কথাটা বুঝতে দেরী হয়নি ওয়ার্নের । শ্রীলঙ্কায় পরের দুটি টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য আবারও দল থেকে বাদ পড়লেন তিনি । ৯২-৯৩ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট থেকেও বাদ দেওয়া হয় ওয়ার্নকে । কিন্তু হঠাৎ ই মেলবোর্নে দ্বিতীয় টেস্টে ফের খেলার সুযোগ আসে তাঁর কাছে , চড়াই উতরাইয়ের টালমাটাল ক্যারিয়ারে এবার সুযোগকে সফলতায় পরিণত করলেন ওয়ার্ন , নিলেন সাতটি উইকেট এবং সেইসঙ্গে একটি মসৃণ জয় এনে দিলেন দলকে । সঙ্গে সঙ্গে শুধুমাত্র মেলবোর্ন কিংবা অস্ট্রেলিয়া নয় গোটা ক্রিকেট বিশ্বও বুঝে গেল , ‘ A star is born today ’ .

এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ওয়ার্নকে , আসতে থাকে একের পর এক সুযোগ এবং তার সদ্বব্যবহার ও করেণ তিনি । সাল ১৯৯৪ , গাব্বায় ইংল্যান্ডের সামনে চাপের মুখে পড়ে যায় অজিরা । একক দক্ষতায় আট উইকেট দখল করে জয় ছিনিয়ে আনেন ওয়ার্ন । সাল ১৯৯৬ , ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে পাঁচ উইকেট দখল করে জয়ের রাস্তা সুদৃঢ় করে দেন ওয়ার্ন । এরপর ১৯৯৯ এ অ্যাসেজ সিরিজের পর অবসর ঘোষণা করেন তৎকালীন অজি অধিনায়ক মার্ক টেলর এবং তাঁর বদলি হিসেবে নতুন অধিনায়ক নির্বাচিত হয় স্টিভ ওয়াক এবং দলের সহ অধিনায়ক নির্বাচিত হন শেন ওয়ার্ন । আসে ১৯৯৯ এর ক্রিকেট বিশ্বকাপ , সেমি ফাইনালে অজিদের মুখোমুখি হল সাউথ আফ্রিকা , ওয়ার্ন নিজের বিস্ময়কর ঘূর্ণিতে ফেরালেন হারসেল গিভস , গ্যারি কাস্টেন , হ্যানসে ক্রনজে এবং জ্যাক ক্যালিসকে এবং সেমিফাইনালের ম্যান অফ দি ম্যাচও তিনিই নির্বাচিত হন । ফাইনালে মুখোমুখি হন পাকিস্তানের । পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যান , বোলিং এর সিংহভাগ কৃতিত্ব , শেন ওয়ার্নের নিলেন ৩৩/৪ ‌। সেইসঙ্গে মসৃণ জয় উপহার দিলেন অস্ট্রেলিয়াকে সাথে নিজেও প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন ।

সাল ২০০২ , সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিনম্যাচের সিরিজে ওয়ার্ন আবারও প্রমাণ করলেন নিজের দক্ষতা । অজিদের জয়ের মূলকান্ডারী হয়ে থাকলেন তিনি । ওই সালেই পালাবদল হল অজি ক্রিকেটে , স্টিভ ওয়াকের বদলি হিসেবে এক দিবসীয় ক্রিকেটের অধিনায়ক নির্বাচিত হন রিকি পন্টিং কিন্তু এর সাথে সাথে খারাপ খবর ও আসে অজি ক্রিকেটে , শেন ওয়ার্নের গুরতর চোট , আসন্ন অ্যাসেজ তো বটেই এমনকি আগামী বিশ্বকাপেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েন ওয়ার্ন । ২০০৩ বিশ্বকাপের একদিন আগে নিষিদ্ধ ড্রাগ ব্যবহারের জন্যে ওয়ার্নের উপর অভিযোগ ওঠে । এরপর ওয়ার্নের বয়ান শোনার পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে এক বছর সমস্ত রকম ক্রিকেট থেকে ব্যান করেণ । শাস্তি কাটিয়ে ২০০৪ এর ফেব্রুয়ারীতে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন শেন ওয়ার্ন এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দখল করেণ নিজের ৫০০তম উইকেট এবং পাঁচশো উইকেট দখলকারীদের তালিকায় কোর্টনি ওয়ালেশের পর নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান ।

জীবন বড় অদ্ভুত , যেখান থেকে আমাদের মধ্যবিত্তি সকাল শুরু হয় দিনের শেষে আবার সেখানেই ফিরিয়ে দেয় । শেন ওয়ার্নের জীবনটাও অনেকটা সেইরকম , বছর পনেরো আগে যেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রবি শাস্ত্রীকে ফিরিয়ে জীবনে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট দখল করেছিলেন ২০০৬ এ সেই গ্রাউন্ডেই ইংলিশ স্পিনার মন্টি পানেসরকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দখল করেন ক্যারিয়ারের ১০০০ তম উইকেট । ১৪৫ টেস্টে তাঁর শিকার ৭০৮টি উইকেট এবং ১৯৪ টি এক দিবসীয় ক্রিকেটে তাঁর শিকার ২৯৩টি উইকেট ।

ক্রিকেট জীবনের এত সাফল্য অভাবনীয় হলেও তাঁর ক্যারিয়ার কখনোই কলঙ্কমুক্ত ছিল না । নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়া , একজন সেবিকার সাথে সেক্স চ্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার সহ অধিনায়কের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া , একাধিকবার বিভিন্ন মডেল , অভিনেত্রীদের সাথে সম্পর্কে জড়ানো ওয়ার্নের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে কালো দাগের মতো । আসলে জীবন এইরকমই যতই রূপকথার নায়কেরা বইয়ের পাতায় ঈশ্বর হন না কেন বাস্তবের মাটিতে নামলে বেশিরভাগই ধূসর । এত বিতর্ককে নিমেষে উড়িয়ে দেয় যখন মেলবোর্নের পড়ন্ত বিকেলে পুরোনো লাল কোকাবুরার বল হাত একজন স্পিনার দাঁড়িয়ে থাকে তাঁর সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার জন্য , জেনো রেখো ওটাই শেন ওয়ার্ন । আর বলগুলো কখনও কখনও লেগ থেকে অফে এবং অফ থেকে লেগে বাঁক নিয়েছে পরিস্থিতির মতন কিন্তু ওই বাইশ গজটাই জীবন , যেখানে তিনি সবসময়ই নায়ক । আসলে শেন ওয়ার্ন মানেই পুরোনো হয়ে যাওয়া লাল বলটা , ওটাই লড়াইয়ের অস্ত্র আর ওটাই ভালোবাসা তাছাড়া কথাতেই তো আছে -

‘ Everything is fair in love and war '

কলমে : কুশল ( Admin )

06/10/2020

#ঘূর্ণির_রাজপুত্র

সাহস , প্রতিভা , জেদ জীবনের এই তিনটি অংশকে হয়তো বারবার তিনটে স্টাম্পেই দেখতে পেতেন শেন ওয়ার্ন ‌, আর বারংবার আঘাত হানতেন তাদের উপর যাতে জীবনযুদ্ধের প্রতি ময়দানে আরও প্রখর থেকে প্রখরতর হয়ে ওঠা যায় । রূপকথা কখনও সত্যি হয় কিনা জানিনা , তবে হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার সুর যেমন লালিত্য ঝংকারে বেঁধে দিত তার বাঁশি তেমনি , ওয়ার্নের হাতের ঘূর্ণির সুর তাল একাধিকবার বাইশ গজে বেঁধে দিয়েছে ক্রিকেট বলটা ।

ক্রিকেট জীবনে পেয়েছেন একাধিক সাফল্য , ব্যর্থতা , বিতর্ক এইসব নিয়েই কাল আসছে শেন ওয়ার্নের ‘ ঘূর্ণির রাজপুত্র' ।

05/10/2020

#একটা_রূপকথার_নায়কের_গল্প

আমেরিকান ঔপন্যাসিক জন কেলভিন ম্যাক্সওয়েলের একটা বিখ্যাত উক্তি -

“ A leader is one who knows the way, goes the way, and shows the way.”

কার্লোস পুওল সাফরকাডা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সেই রকমই একটা নাম । তিকি-তাকা ফুটবলের মোহময়ী নক্ষত্রে এক কালজয়ী জ্যোতিষ্ক হয়ে থাকবেন চিরটা কাল। পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির ঝাঁকড়া চুলের মাথাটা ঘুম কেড়ে নিয়েছিল বিশ্বের তাবড় তাবড় স্ট্রাইকারদের । ২০১০ এর বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে শেষ মুহূর্তে জাবির করা কর্ণার পিছন থেকে এসে যেভাবে উচ্চকায় জার্মান ডিফেন্সকে পরাস্ত করেছিল , তা আজীবন মনে রাখা মতো। আজও যতবার বার্সালোনা পরাজিত হয় , নিভৃতে বার্সা ডিফেন্স ততবার হয়তো ঝাঁকড়া চুলের পাঁচ নম্বর জার্সিটাকেই খুঁজে বেড়ায় । ডিফেন্স লাইনে বল ক্লিয়ার করবার জন্যে নিজেকে পর্যন্ত সঁপে দিতে পিছপা হননি কোনোদিন। যেইরকম অসাধারণ ফুটবল শৈলী সেইরকম আগ্রাসী অধিনায়কত্বের নিদর্শন রেখেছেন সারা বিশ্বে। দল যতবারই পিছিয়ে থেকেছে ততবারই পিছন থেকে উদ্ধুদ্ধ করে গেছেন দলকে , হার না মানা মানসিকতা নিয়ে। স্পেন কিংবা বার্সার মিডফিল্ডকে বিধ্বস্ত করে বিপক্ষের অতর্কিত আক্রমণের সামনে একা দাঁড়িয়ে গ্রিক রূপকথার রাজা স্পার্টা লিওনডাসের মতো বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন শত শতবার, শুধু তাঁর মর্মস্পর্শী বর্ণনা হয়তো কোনো থার্মোপিলের যুদ্ধ দেবে না ঠিকই, কিন্তু ফুটবলের ডিফেন্স লাইন আজীবন মনে রেখে দেবে ।

কলমে : কুশল ( Admin )

05/10/2020

#পৃথিবীতে_অসম্ভব_বলে_কিছু_হয়_না

ফুটবলকে কেউ কেউ বলে থাকে‌ প্যাশনের খেলা , ভালোবাসার খেলা , হৃদয়ের খেলা তাছাড়া এই খেলার সাবেক উপাধি তো রয়েছেই “খেলার রাজা”। এগুলো ছাড়াও ফুটবল “ দ্য মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল গেম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ”। মাথার দৌড় যেখানে শেষ হয়ে যায় , কাটাকুটি করা কয়েকটা সাদা ট্যাক-টিক্যাল পাতা যখন নিজেদের সর্বস্ব খুইয়ে সাইড লাইনে নিজেদের নশ্বর শরীরকে ভাসিয়ে হাল ছেড়ে দেয় , স্ট্রাইকারের স্কোরিং বুটের উইনিং রানটা বোধহয় সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় । বাস্তবের এই রঙ্গমঞ্চে থাকে না কোনো পূর্বরচিত চিত্রনাট্য ,থাকে না কোনো সিনেমার মতো রিটেক দেবার সুযোগ । তাই তো ফুটবলের আবেগটা গ্লিসারিন দিয়ে বার করা দু'ফোঁটা নোনা জলের মেকি পৃথিবীর থেকে সহস্র আলোকবর্ষ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা নিখাদ বিশ্বসম।

‌‌ '১৮-'১৯ এর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যায়াক্স এবং টটেনহ্যাম এর মধ্যে সংঘটিত হওয়া সেমি ফাইনাল ম্যাচটি যথেষ্ট বর্ণনার ই দাবি রাখে । ৩০ শে এপ্রিল টটেনহ্যাম এর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম লেগের ম্যাচ । দু'দলের খেলোয়াড়দের চোখের কোণে চিকচিক করছিল স্বপ্ন আর বুক বাধছিল আশাতে । গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে অ্যায়াক্স এর পারফরম্যান্স ছিল চোখের পড়ার মতো । বিগত বছরের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ, রোনাল্ডোর জুভেন্টাস দলকে প্রতিযোগিতার বাইরে করে দেওয়া “জায়ান্ট কিলার” দল অ্যায়াক্স এবং অপরদিকে প্রথমবার ফাইনাল খেলার আশায় বুক বাধা দল টটেনহ্যাম । ঘরের মাঠে প্রথম লেগের টটেনহ্যামকে বড্ড অগোছালো লেগেছিল , সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ই ভ্যান ডি ভিক এর করা গোলে অ্যাওয়ে ম্যাচে (১-০) এগিয়ে গিয়ে ঘরের মাঠের কাজটা সোজা করে রেখেছিল অ্যায়াক্স।

কিন্তু চাওয়া আর পাওয়া শব্দদুটি একে অন্যের পরিপূরক হলেও এদের মধ্যে দুরত্ব বিস্তর । মানুষের জীবনের সাথে ভাগ্য ওতো- প্রোত ভাবে জড়িত । যার সাথে যেদিন সহায় থাকে , সেদিন স্বয়ং ঈশ্বর ও তাকে টলাতে পারে না। সেমি ফাইনালের ফিরতি ম্যাচ ৮ই মে জোয়ান ক্রুয়েফ এরিয়ানা তে অনুষ্ঠিত হয় । ঘরের মাঠে অ্যায়াক্স শুরু থেকেই দাপট বিস্তার করতে থাকে , যেন তারা জিততেই এসেছে । তাছাড়া অ্যাওয়ে ম্যাচে একটি গোলের সুবিধা তো রয়েছেই । ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিট বয়সেই ডি বক্সে ভেসে আসা একটি বলে হেড করে সেমি ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ (১-০) করে দেন ডি লিট । ম্যাচের বয়স যখন ৩৫ মিনিট বাঁ পায়ের শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করে জিয়াস , ম্যাচ তখন (২-০)। টোটাল হিসেব করলে (৩-০)। কিন্তু ফুটবল যে হিসেব নিকেশের সীমানার উর্দ্ধে । তখন বোধহয় স্বয়ং টটেনহ্যাম ক্লাবের সমর্থকদের ও বিশ্বাস করতে কুন্ঠা বোধ হবে । মানুষের জীবনে দুর্ভাগ্য অনেক সময়ে শেক্সপিয়ারের নাটকের মতোই মোক্ষম সময়ে নেমে আসে । খেলার দ্বিতীয়ার্ধেই ৫৫ মিনিটে একটি গোল শোধ করে লুকাস মৌরা । আবার ৫৯ মিনিটেই হঠাৎ করে চলে আসা একটি সুযোগ থেকে ম্যাচ (২-২) করে দেয় ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় লুকাস মৌরা । এরপর ই নড়ে চড়ে বসে অ্যায়াক্স দল , তে কোনো মূল্যেই ভুলের মাশুল দিতে রাজি ছিলেন না তারা । ম্যাচ তখন অ্যায়াক্স এর পাল্লায় (৩-২) । কিন্তু আরেকটি অ্যাওয়ে গোল তুলতে পারলেই কেল্লা ফতে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়ে এক্সট্রা টাইমে ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে । তখন ঘড়িতে প্রায় ৯৪ মিনিট আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন টটেনহ্যাম কোচ মৌরিনিও পোচেনটিনো ও । সাইড লাইনে মুখের চিবানো চুইনকাম টাকেও ফেলে দিয়েছেন হাতাশায় । স্বপ্নের এত কাছে এসেও স্বপ্নকে হয়তো এবারের মতো ছোঁয়া হলো না টটেনহ্যাম এর । কিন্তু ভাগ্যবানের বোঝা তো ভগবানে বয় , ৯৫ মিনিট অতিক্রান্ত হয়ে কিছু সেকেন্ডে ডি বক্সে পাওয়া একটি বলকে গোলে ঠেলে আত্মহারা হয়ে পড়েন সেই হ্যাট্রিক ম্যান লুকাস মৌরা । ফাইলান স্কোর( ৩-৩) ।

হতাশায় মাটিতে নিমজ্জিত হয়ে যায় অ্যায়াক্স ডিফেন্ডাররা আর আনন্দে আত্মহারা হয়ে মাটিতে মাথা নত করে কাঁদতে থাকেন কোচ মৌরিনিও পোচেনটিনো । যেন নতজানু হয়ে সেই অদৃশ্যে আত্মগোপন করে থাকা ঈশ্বরকেই প্রণাম জানালেন তিনি । কিছু কিছু গল্প রূপকথার দুই মলাটের বন্দীত্ব দশা ত্যাজ্য করে বাস্তবের রূক্ষ মাটিতে নেমে আসে তাদের জাদুকাঠির পরীক্ষার জন্যে , আমরা মোটা চোখে শুধু ফলাফল দেখতে পাই । পরদিন ব্রিটিশ মিডিয়ার নামকরা এক সংবাদপত্র হেডলাইনটি দেয় যথার্থ -
‌ “No pen could produce drama like this ” ।

শুধু এই নাটকের চরিত্র গুলো বাস্তব , আর ঘটনা গুলো জীবন্ত ।

কলমে : কুশল ( Admin )

05/10/2020

স্বপ্নকে এইভাবেই ছুঁতে হয়

সাল ১৯৯৭ , আর্সেনাল আর ইউনাইটেড স্বপ্নের দৌড় দৌড়াচ্ছে । ইংলিশ ফুটবলের দু'জন চিরস্মরণীয় পরিচালকের সময় একদিকে ওয়েঙ্গার আর অন্য দিকে ইউনাইটেড বস। ইউনাইটেড সাম্রাজ্যে তখন রাজত্ব করছে ডেভিড বেকহ্যাম ,পল স্কোলস , রায়ান গিগস , গ‍্যারি নেভেল ,অ‍্যান্ডি কোল এর মতো নক্ষত্ররা ।

ইংল্যান্ডের কিংস্টন হাল চিরকালই শান্ত শহর ,যা কিনা বন্দর শহর বলেই প্রসিদ্ধ । ওয়েলস এর বাসিন্দা কোভানের ঘরে জন্ম হয় এক শিশুর । মায়ের সাথে নাম মিলিয়ে কোভান পুত্র সন্তানের নাম রাখলেন ড‍্যানিয়েল জেমস । তখন বোধহয় স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারেনি একদিন তার ছেলে 'The Theatre of Dreams ' এ লাল জার্সিতে খেলার সুযোগ পাবে । এরপর কেটে যায় অনেকগুলো দিন স্কুলজীবনেই পড়ার পাশে পাশেই ফুটবল জীবনে হাতেখড়ি হয় জেমসের।

সাল ২০০৬ , বিশ্বফুটবলে দাঁপাচ্ছে ইউনাইটেড এর রোনাল্ডো-রুনি জুটি । বার্সেলোনা জন্ম দিয়ে দিয়েছে লিও মেসির । যখন সারা বিশ্ব ব‍্যস্ত এদের নিয়ে একান্ত নিঃশব্দেই হাল সিটিতে অভিষেক হয় জেমসের । একটানা অনেক বছর হয়ে গেছে হাল সিটির হয়ে খেলা।

সাল ২০১৪ , ইউনাইটেড ছেড়েছে ইউনাইটেড বস । প্রয়োজনীয় সঙ্গীর অভাবে ধুঁকছে রুনি , রিয়ালে স্বপ্নের দৌড় দৌড়াচ্ছে রোনাল্ডো । কৈশোর এ পা রাখা জেমস হাল সিটি ছেড়ে যোগ দেয় সোয়ানসি সিটিতে । সোয়ানসি সিটির হয়ে একের পর এক গোল বিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে করে যাচ্ছে জেমস । বিশ্বের কাছে সে তখনও অপরিচিত নাম ।

সাল ২০১৮ , বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার ম‍্যাচে ওয়েলস এর হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় জেমসের । সেদিন সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ৫৮ মিনিট মাঠে খেললেও ১-০ গোলে হার মানতে হয় তাকে ।

সাল ২০১৯ , ইউনাইটেড ছেড়েছে মরিনহো , ইউ সি এল এ যোগ‍্যতা অর্জনে ব‍্যর্থ ইউনাইটেড , ফুটবলারদের হতাশা জনক পারফরম্যান্স , অনেক গুলো প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গেছে নতুন কোচ সোলসার এর উপর । এমন সময় ইউনাইটেড এ স্বপ্নের জার্সি গায়ে পড়ার সুযোগ পায় বছর ২১ এর জেমস। গতকাল তার পরবর্তী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ৮১ মিনিটে চেলসির ডিফেন্স ছিঁড়ে বল বিপক্ষের নেটে ঠেলে দিলো জেমস। গ‍্যালারিতে বসে থাকা স‍্যার অ‍্যালেক্স ,যিনি ফুটবল মাঠে হাজার হাজার প্রতিভার জন্ম দিয়েছেন । তিনিও কাল এই তরুণ তুর্কিকে দেখে হাসির মাধ্যমেই হয়তো মনে মনে বলতে চাইছিলেন -

'And Miles to go before I sleep '

কলমে : কুশল ( Admin )
তারিখ : ১২ ই আগস্ট , ২০১৯

05/10/2020

ৃদ্ধ_সম্রাটের_বন্দীদশার_গল্প

"Pele is the greatest player in football history, and there will only be one Pele in the world."

– Cristiano Ronaldo.

আমার লেখার হেডলাইনটা দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন ফুটবল মাঠে ডিফেন্ডার দের দু: স্বপ্ন ছিলেন যিনি,তাঁকে বন্দী করবে এমন সাধ‍্যি কার । কিন্তু একজন যোদ্ধার থেকে তরবারি কেড়ে নেওয়া ,আর একজন ফুটবলার এর গোল স্কোরিং বুটটা চিরকালের জন্যে শো কেসে তুলে রাখার মধ্যে কোনো ফারাক হয় না। কালের নিয়মে সাম্রাজ্য চিরকালই উত্থান পতনের মুখ দেখে, তেমনি পরিবর্তন হয় রাজসিংহাসনও ।

অবসরের অন্তরাল থেকেই তিনি ২০০২ এর বিশ্বকাপে হয়তো রোনাল্ডিনহোর মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা চাই এক আর পাই আরেক । রোনাল্ডিনহো তাঁর প্রত‍্যাশা পূরণে ব‍্যর্থ হলেন। কালের নিয়মে যেন জলছবির মতোই হাওয়ায় হারিয়ে গেলেন।

২০১৪ এর বিশ্বকাপে লজ্জাজনক হারের পর তিনি হয়তো কোনো অন্ধকার ঘরে বসে চোখের জল ফেলেছিলেন ,তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয় দেশের জন্যে। ঠিক যেমনটা কারাগারে বন্দী শাহাজাহান ফেলেছিলেন তাজমহলের দিকে তাকিয়ে। তেমনি ২০১৬ এর অলিম্পিকে প্রথম বারের জন্যে সোনা জিতল তাঁর দেশ , শেষ পেনাল্টির পর সারা বিশ্ব দেখেছিল অধিনায়ক নেইমারের চোখের জল,দেখেনি পেলের হাসিটা। আজ হয়তো এই ব্রাজিল কে দেখে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন ও নিজের সময়ে বারবার ফেরত যেতে চাইবেন । সর্বোপরি বলে রাখি , সার্থক জনম আমার আমার দেশের মাটি এই সম্রাটের পদধূলি ধন‍্য। 🇧🇷

কলমে : কুশল ( Admin )

05/10/2020

ীর_বল_উন্নত_মম_শির

কিছু কিছু মানুষের চালিকাশক্তি কাজী নজরুলের উপরিউক্ত লাইনের ই মতন হয় । পর্তুগালের নির্জন , নি:তরঙ্গ মিয়া শহরে জন্ম নেওয়া ছেলেটি যে একদিন একছত্র সেনাপতি হয়ে লাল বিপ্লব পুনঃরুদ্ধারের বিদ্রোহে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে ,তা কতজনই বা আন্তাজ করতে পারে । ধসে পড়া একটা বিরাট সাম্রাজ্য , একদিন যারা বিশ্বে দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে যোগ্য সেনাপতির মগজাস্ত্রের জোরে । কালের নিয়মে , ফুল যতই আকর্ষণী আর সুগন্ধি হোক না কেন , ঝরে তাকে যেতেই হয় কোনো এক বসন্তে নতুনের আগমনের জন্যে।

পর্তুগাল থেকে বহু সহস্র ক্রোশ দূরে ইংল্যান্ডের ওল্ড ট্রাফোর্ড বিগত অনেক বসন্তই নিরাশায় কাটিয়েছে। রাজার মুকুট ত্যাগ করে , বন্দীদশার দাসত্বের জীবন ই কবে থেকে নিয়তি করে নিয়েছে তারা । যে মানুষ কৈশোরে গলা ফাটাতো রেড ডেভিলদের জন্যে যৌবনে আজ ও হয়তো সবার চোখের আড়ালে তার চোখেও চিকচিক করে ওঠে , যে মানুষ যৌবনে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছে প্রৌঢ় জীবনে সেও হয়তো বিছিন্ন হয়ে গেছে আবেগের সাথে, যে ছেলেটা শুধু ভালোবাসা আর ইতিহাস আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইছে , ইউনাইটেড এর প্রতিটা পরাজয় তারও হৃদয়ে যেন চাবুকের ন্যায় আচরণ করে । আসলে, ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া যায় , মুছে দেওয়া যায় না।

মুষড়ে পড়া এই সাম্রাজ্যের কাছে '২০ সালের ২৯ শে জানুয়ারি তারিখটার মর্ম‌ সেদিন ক'জনই বা বুঝেছিল। ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় গোটা জাতির দাসত্বের জীবন ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই । নেতৃত্বে মাঝ মাঠের নম্বর জার্সি। মাত্র এক মাসেই লাল বিপ্লবের ভেঙে যাওয়া শিরদাঁড়া সোজা করে লড়াই করবার সাহস দেখিয়েছে সে , হতাশায় নিমজ্জিত থাকা মানুষগুলোর চোখে ফ্যারিস্তা হয়ে হৃদয়ে স্বপ্নের ঝুলি রোপন করেছে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ ।

৮ ই মে ,২০১৩ সালে যারা লাল জার্সিটাকে চোখের জলে শেষবারের মতো চুম্বন করে সযত্নে আলমারির এক কোণায় তুলে রেখেছে , আজ তো তাদের ফের ধূলো ঝেড়ে পড়ার দিন । শিকল ভেঙে , দাসত্বের জীবন ভুলে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছে সেনাপতি ।তবে এবার বাইরে থেকে পরামর্শ দিয়ে নয় , নিজেই নেমে লড়াই করবে সেনাপতি । আঁধার কাটিয়ে আজ আলোয় ফেরার দিন । ব্রুনো , এই লাল বিদ্রোহের স্পার্টাকাস তুমি । রোমান সাম্রাজ্যের মতোই আজ ফের অহংকারীদের গর্ব খর্ব করার দিন । তোমার গ্ল্যাডিয়েটরাও তরবারি উচিয়ে তৈরি । মাঠের লড়াইটা তুমি লড়ে যাও, শত কোটি গলা বাইরে থেকে আজ ফের গর্জন করবে স্বপ্নের রঙ্গমঞ্চে । মাঠে এইভাবেই ফুল ফুটিয়ে যাও। মাঠের বাইরেও ৭৮ বছরের বৃদ্ধ যোদ্ধার রিমলেস চশমা ঠাসা মলিন চোখদুটোও তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখে , পাতা ঝরার মরশুমেও তুমি তাঁর চোখে বটবৃক্ষে ফুটে ওঠা সেই নতুন ফুলের কুঁড়ি , তাঁর স্মিত হাসিতে তুমি রাতের বি:ধ্বংসী ঝড়ের পর দিনের প্রথম আলো।

এইভাবেই লড়ে যাও যোদ্ধা , যতবার তুমি বল পায়ে মাঠে ছুটবে ততবার লাল বিপ্লবীরা এই আশায় সুর বাঁধবে -
“ We shall overcome ;
... We shall overcome someday."

কলমে : কুশল ( Admin )

05/10/2020

‘ অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো.....’

"Three years of excuses and it's still crap ... ta-ra Fergie."

উপরিউক্ত লাইনগুলো একটি ব্যানারের , যেটি ১৯৮৯ তে ম্যাচ হারার পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রদর্শন করে ইউনাইটেড এর সমর্থকেরা স্যার অ্যালেক্স চ্যাপম্যান ফার্গুসন এর বিরুদ্ধে ,তাঁকে শুনতে হয়েছিল ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি ও । সন্তান যদি কখনও ভুল করে তখন যেমন তার পিতা হাত ছেড়ে দেয় না , ঠিক তেমনভাবেই খাদের কিনারা থেকে ২৬ বছরের গৌরবের রাজত্বের আজ তিনি ইউনাইটেড সমর্থকদের ‘ মনের মানুষ ’। ‘ইউনাইটেড বস’ এর যাত্রাপথের সূচনাটি ছিল এরকমই কন্টকময়।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের একজন সাহায্যকারী আলেকজান্ডার বোস্টন ফার্গুসন ও তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ এর দ্বিতীয় সন্তান এর নাম তাঁর ঠাকুমা রাখেন অ্যালেক্স । শৈশব থেকে ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল অ্যালেক্স ফার্গুসন এর এবং তাঁর মা তাঁকে সবসময় উৎসাহিত করতেন , যা পরবর্তীতে স্যার অ্যালেক্স তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন। তাঁর মা তাঁকে শিখিয়েছিলেন , জীবনে কর্তব্যের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না । তাই হয়তো '৮৭ তে মাতৃবিয়োগের যন্ত্রণা ও তাঁকে লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি।

১৯৭৪ এ ফুটবলার হিসেবে তিনি নিজের সিনিয়র কেরিয়ার শেষ করার পর ইস্ট স্ট্রিলিংশায়ার এর ম্যানেজার হিসেবে নিয়োজিত হন। এরপর তিনি সেন্ট মিরেন ও আবেনডিন এর ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হন । ১৯৮৫ তে তিনি স্কটল্যান্ডের জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হন ও তাঁরই নেতৃত্বে স্কটল্যান্ড দল '৮৬ এর বিশ্বকাপ এর যোগ্যতা অর্জন করে। স্কটল্যান্ড দলের নিয়োজিত ম্যানেজার জোক স্টেইনের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ছন্নছাড়া দলের দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত দক্ষ হাতে পরিচালনা করেছিলেন। এরপর ১৯৮৬ তে যোগ দিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলে।

তবে শুরুটা এত স্বচ্ছ ছিল না ইউনাইটেড এর সফল ম্যানেজার এর।তিনি প্রাথমিকভাবে চিন্তিত ছিলেন যে নরম্যান হোয়াইটসাইড , পল ম্যাকগ্রা এবং ব্রায়ান রবসনের মতো অনেক খেলোয়াড়ই বেশি পরিমাণে মদ্যপান করেছেন এবং তাদের ফিটনেসের মাত্রা দেখে হতাশ হয়েছিলেন, তবে তিনি পরিচালনা করেছিলেন খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বাড়াতে এবং ইউনাইটেড একাদশতম স্থানে এসে শেষের দিকে টেবিলের উপরে উঠেছিল, যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২১ তম (নীচ থেকে দ্বিতীয়) ছিলেন। সেই মরশুমে সেটাই ছিল ইউনাইটেড এর প্রাপ্তি। তাঁর প্রথম ম্যাচেই অক্সফোর্ড এর কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় ইউনাইটেড। ১৯৮৭–৮৮ মরশুমে, ফার্গুসন স্টিভ ব্রুস , ভিভ অ্যান্ডারসন , ব্রায়ান ম্যাকক্লেয়ার এবং জিম লেইটন সহ বেশ কয়েকটি বড় স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু তা সত্বেও ওই মরশুমে ১২ টি ম্যাচ ড্র করে হাতাশার মুখে পড়তে হয় স্যার অ্যালেক্সকে। ১৯৮৯-৯০ এর মরশুমে তাঁর দল চির প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৫-১ গোলে হারতেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি শুনতে হয় তাঁকে । কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা চলতে থাকে ‘ইউনাইটেড বস’ কে বোর্ড এর তরফ থেকে । ঠিক করা হয় দ্বিতীয় রাউন্ডে ফর্মে থাকা টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত নটিংহ্যাম এর কাছে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেড এর হার প্রায় নিশ্চিত এবং সেইসঙ্গে বরখাস্ত করা হবে অ্যালেক্স ফার্গুসন কে , কিন্তু ফুটবলের লজিকটা , সমীকরণ গুলো বোধহয় একটু আলাদাই হয় । মাঠের জবাব মাঠে নেমেই দিতে হয় । সেদিনের ওল্ড ট্রাফোর্ড ফেরায় নি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে, অপ্রতিরোধ্য নটিংহ্যাম ১-০ গোলে পরাজিত হল ইউনাইটেড এর কাছে। সেইসঙ্গে তিনি শুধু নিজের চাকরিই বাঁচালেন না , স্যার ম্যাট বাজবি এর পর শুরু করলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর নবজাগরণের অধ্যায়। সেই বছর ই ক্রিস্টাল প্যালেস কে ১-০ গোলে হারিয়ে এফ এ কাপ জেতে ইউনাইটেড ।

তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে ,তিন বছরেই চাকরি থেকে প্রায় বরখাস্ত হয়ে যাওয়া একটা লোক সগৌরবের সাথে ২৬ বছর শাসন করেছেন রেড ডেভিল সাম্রাজ্য। জন্ম দিয়েছেন একাধিক নতুন প্রতিভার। ১৩ টি প্রিমিয়ার লিগ, ৫ টি এফ এ কাপ ও ২ টি চ্যাম্পিয়ন লিগ সহ মোট ৩৮ টি টফ্রি জিতেছেন তিনি । এমনকি ২০১০ সালে ইউনাইটেড এর পূর্ববর্তী সফল ম্যানেজার স্যার ম্যাট বাজবি এর রেকর্ড কেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি । ‘ তারা তারা ফারগি ' থেকে ইউনাইটেড এর ‘ পিতা ’ হয়ে ওঠার গল্পটা এইরকমই। আজ হয়তো পৃথিবীর কোনো এক কোণে যে যোদ্ধা নিজেকে অন্ধকারে লুকিয়ে ফেলার কথা ভাবছে , হতে পারে স্যার অ্যালেক্স এর প্রারম্ভিক জীবন এর গল্পটা তার কাছে অজানা। জীবন দ্বিতীয় সুযোগ প্রত্যেকেই দেয় , শুধু স্যার অ্যালেক্স এর মানসিকতা নিয়ে ফিরে আসতে হয় । ঠিক অনেকটা তাঁর নিজেরই উক্তির মতন -

“You learn more from defeats than you do from victories.”
– Sir Alex Ferguson

কলমে : কুশল ( Admin )

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Kolkata
700011