18/05/2025
#ক্রিকেটের_ইতিহাসে_আজকের_দিনে 🏏
১৮ ই মে, ১৯০৫।
ইটালির সিসিলির প্রাচীন বন্দর-শহর ক্যাটানিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানেই শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল তাঁকে, শস্যক্ষেত্রের আগুনের লেলিহান শিখার পাশে পড়ে ছিল তাঁর নিথর দেহ। তিনি— ব্রিটিশ আর্মির পদাতিক রেজিমেন্ট ‘দ্য গ্রিন হাওয়ার্ড-’ এর ক্যাপ্টেন। রাতের অন্ধকারে শত্রুপক্ষের উপর আক্রমণ শানানোর আগে বরাবরের মতোই ফুরফুরে ছিলেন তিনি। শস্যখেতের মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের বাহিনী নিয়ে। ঝাঁক ঝাঁক গুলির মাঝে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া বাহিনীর সবাইকে একত্র করে বলতে থাকেন 'কিপ গোয়িং, কিপ গোয়িং।' নিজেই সামনে থেকে তাঁর বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন অকুতোভয় এই ক্যাপ্টেন, হঠাৎ একটি গোলা এসে বিঁধল বুকে। বুক থেকে রক্ত ঝরছে গলগল করে, কিন্তু তখনও তিনি বলে চলেছেন, 'কিপ গোয়িং মাই ফ্রেন্ডস...কিপ গোয়িং'!
শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হল ক্যাপ্টেনের বাহিনী আর আহত অবস্থাতেই ক্যাপ্টেন ধরা পড়লেন জার্মান বাহিনীর হাতে। শেষবার তাঁকে দেখা গেল সহযোদ্ধার বাহুডোরে। ধীরে ধীরে ঢলে পড়ছেন মৃত্যুশয্যায়। পরে জানা যায়, ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ইতালির কাসের্তার একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। বয়স তখন মাত্র ৩৮!
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যে বীর ক্যাপ্টেনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, যদি বলি কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ছিল তাঁর প্রিয় 'খাদ্য'! মানে টেস্টে তিনি ডন ব্র্যাডম্যানকে সবথেকে বেশী — আট বার আউট করেছিলেন, বিশ্বাস হচ্ছে না নিশ্চয়ই? ভাবছেন মজা করছি! কিন্তু না। এই ঘটনা আসলে সত্যি!
তিনি দ্য গ্রেট হেডলি ভেরিটি, ইয়র্কশায়ার এবং ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা বাঁ-হাতি স্পিনার, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে 'পারফেক্ট-টেন' (সবথেকে কম রানে দশ-উইকেট) -এর মালিক, যিনি জন্মগ্রহণ করেন আজকের দিনে। যুদ্ধ প্রাণ নিয়েছিল, কিন্তু টেস্টে সবচেয়ে বেশি বার ব্র্যাডম্যানকে আউট করার তাঁর সেই কৃতিত্ব আজও অমলিন। যেমন অমলিন ১৯৩১ সালে হেডিংলির মাঠে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে এক ইনিংসে তাঁর ১০ রানে ১০ উইকেট, যা সর্বকালের একমাত্র হ্যাটট্রিক সহকারে দশ-উইকেট। অবশ্য এটি প্রথম নয়, সেই মরশুমে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় দশ-উইকেট, এর আগে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ঐ মাঠেই ৩৬ রানে দশ-উইকেট নিয়েছিলেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হতেই ভেরিটির বয়স ২৫ বছর পেরিয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে মাত্র বছর দশেকের মতো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে পেরেছিলেন। আর তাতেই ১৪.৯০ গড়ে ৭৮ ম্যাচে ১৯৫৬ টি উইকেট ছিল তাঁর ঝুলিতে। প্রতি ৪২ বলে একটি উইকেট নিয়েছেন। কাউন্টিতে ভেরিটির মরশুম প্রতি গড় উইকেট ছিল ১৮৫, টানা তিন মরশুমে দু'শোরও বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাট হাতেও যথেষ্ট সাবলীল ছিলেন তিনি, ১ টি সেঞ্চুরি ও ১৩ টি হাফ-সেঞ্চুরি সহ ৫৬০৩ রানের মালিক তিনি।
যুদ্ধের কারণে টেস্ট ক্রিকেট অবশ্য ভেরিটির সেরাটা পায়নি, ৪০ টি টেস্টে নিয়েছেন ১৪৪ উইকেট। যার মধ্যে ছিল কেরিয়ার বেস্ট, ১৯৩৪ সালে, বিশ শতকে লর্ডসে ইংল্যান্ডের একমাত্র অ্যাশেজ জয়ে ১০৪ রানের বিনিময়ে ১৫ উইকেটের মতো চমকপ্রদ পারফরম্যান্স (প্রথম ইনিংসে ৭/৬১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮/৪৩, সেরা বোলিং)। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মতো টেস্টে ব্যাট হাতে ততটা সফল না হলেও ৩ টি হাফ-সেঞ্চুরি সহ ৬৬৯ রান ছিল তাঁর। সর্বোচ্চ ৬৬ নট আউট।
ভেরিটি মাঠের ভেতরে ও বাইরে পরিচিত ছিলেন আপাদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবে। ক্রিকেটে যেমন নায়ক ছিলেন, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রেও বীর ছিলেন । ১৯৩৭ সালে, বিশ্বযুদ্ধের দামামা যখন বাজতে শুরু করেছে, তখন থেকেই যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেন ভেরিটি। মিলিটারি, অস্ত্র-শস্ত্র, যুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং বিশ্বযুদ্ধের কারণে ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ আর্মির পদাতিক রেজিমেন্ট 'দ্য গ্রিন হাওয়ার্ড' - এ যোগ দেন ক্যাপ্টেন হিসেবে। চার বছর যুদ্ধ করেছেন অসম সাহসিকতায়। ১০ ই জুলাই ১৯৪৩ সালে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক হামলার অংশ হিসেবে পা রাখেন ইতালিতে। জার্মান ক্যাম্পে হামলা চালানোর সময় আহত হন এবং টানা ১২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা যান ৩১ শে জুলাই।
আজও ইংলিশ টিম যখন মাঠে নামে, ইংরেজ অধিনায়ক জো রুট কি তাঁর টিমকে বলেন ভেরিটির শেষ কথাটি, 'কিপ গোয়িং...কিপ গোয়িং'? কারণ হেডলি ভেরিটি যে শুধুমাত্র কোনও নাম নয়, হেডলি ভেরিটি — ইংরেজদের অনুপ্রেরণা!
[ভালো লাগলেও সঙ্গে থাকুন 🌟]
17/05/2025
Hello Guys! Should I come back?
07/07/2023
😊
ভক্ত নই। অন্ধভক্তও নই। জন্মদিনে প্রশংসা করার কোনো দায় ও নেই। তবু কিছু কথা বলতে ইচ্ছে হলো। তাই বলা।
মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাঁকে ঘিরে আবেগ, উন্মাদনা, উচ্ছ্বাসের বন্যা বইবে আজ সারাদিন ধরে। কারণ আজ তাঁর ৪১ তম জন্মদিন। আবার কিছু মানুষ স্বভাববশত নাকি কান্না কাঁদবেন। সবটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মানুষটা, যাকে ঘিরে এতকিছু তাঁকে কি এসবকিছু ছোঁয়? নাহ্। তিনি বরাবরের মতই নির্লিপ্ত। মানুষের তাঁকে ঘিরে এত বাঁধভাঙা উন্মাদনার মধ্যেও কি করে এতটা অনাসক্ত থাকেন তিনি? উত্তরটা তাঁর স্মিতহাস্যের রহস্যের মতোই অজানা।
কিন্তু যারা প্রশ্ন তোলেন তাঁকে ঘিরে এই সীমাহীন আবেগের দিকে তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটা প্রশ্ন, আচ্ছা কেন হবে না বলুন তো? দেশটাকে তিন খানা আইসিসি ট্রফি এনে দেওয়া মানুষটাকে ঘিরে এইটুকু হবে না? এই তো এবার রে রে করে আসবেন যে ধোনি একা কাপ জিতেছিল? বাকি ১০ জন কি ঘাস কেটেছিল? আপনি কি প্রশ্ন করবেন মশাই একসময় এ প্রশ্ন অবিরাম অনাবরত আমি করতাম। যারা আমায় চেনেন তারা জানেন। কিন্তু আজ আমি উত্তরটা খুঁজে পেয়ে গেছি। কিছু প্রশ্ন আমি সাজিয়ে দিচ্ছি সেগুলো নিজেকে করে উত্তরগুলো খোঁজার চেষ্টা করুন। যদি না 'যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা' ধরণের মানসিকতার বশবর্তী হয়ে থাকেন তাহলে উত্তরগুলো আপনিও খুঁজে পাবেন।
নাহ্ ধোনি একা বিশ্বজয় করেননি কোনোভাবেই। বাকি ১০ ভারতীয়র সম্মিলিত সমবেত প্রচেষ্টাতেই ভারতবর্ষ বিশ্বসেরা হয়েছে। এবিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। থাকতে পারেনা। কিন্তু ২০০৭, ২০১১ যে দল নিয়ে ধোনি বিশ্বসেরা হয়েছেন তার থেকে ভালো এগারো পরবর্তীকালে অন্য কোনো ক্যাপ্টেন পাননি বলছেন? মাত্র দুদিন আগের কথা। প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টস বলেছেন যে, ৮৩ 'র বিশ্বকাপে কপিল দেবের নেতৃত্বে যে ভারতীয় দল তাঁদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে সেই দলের মধ্যে নাকি সেরকম কোনো মালমশলা ছিল না বিশ্বকাপ জেতার মতো। ভাগ্যক্রমে জিতেছিল তারা। এখন একটা কথা ময়দানে বহুল প্রচলিত যে একজন অধিনায়ক নাকি ততটাই ভালো যতটা ভালো তার দল। সে তো অবশ্যই। কিন্তু উল্টোটাও তো সত্য যে একজন অধিনায়ক তখনই সফল যখন তিনি তার বাকি খেলোয়াড়দের থেকে তাদের সেরাটা নিংড়ে নিতে পারেন। এগারোজনকে একসূত্রে গেঁথে গড়ে তুলতে পারেন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী একটা গোটা আসমুদ্র হিমাচল। নিজের দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন — এসো, ঝাঁপাও, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দাও, আমরাও পারি সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দাও।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মবিশ্বাসটা ভীষণ জরুরী জানেন তো। পোটেনশিয়ালিটি থাকলেও আপনি সফল হতে পারবেন না যদিনা নিজের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসটা আপনি খুঁজে পান যে আপনিও পারবেন। কপিলদেব ৮৩ -র দলে সেই আত্মবিশ্বাসটা জাগাতে পেরেছিলেন তাই তিনি বিশ্বজয় করতে পেরেছিলেন। আর মহেন্দ্র সিং ধোনিও যেটা খুব ভালোভাবে পারেন এবং আজও করে চলেছেন। তা সে ২০০৭ -এ শেষ ওভারে যোগিন্দার শর্মার হাতে বল তুলে দেওয়াই হোক বা ১১ -তে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ওপরে নিয়ে আসা হোক বা ১৩ -র চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ১৮ তম ওভারে ইশান্ত শর্মাকে নিয়ে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। ব্যর্থ হলে কিন্তু সব দায় ধেয়ে আসতো তাঁর দিকেই। তাহলে সফলতার শিকিভাগ তিনি পাবেন না কেন?
এখনও এই বছর ৪১-এর ধোনিও ডেভন কনওয়ে, তুষার দেশপান্ডে, রাজবর্ধন হাঙ্গারেকরদের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছেন। ২০১৮, ২০২১, ২০২৩ -এই তিনবছর চেন্নাইয়ের দল দেখুন। কোনো বড়ো নাম নেই। তবু এই ভাঙাচোরা দল নিয়ে চেন্নাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ব্যাট হাতে তাঁর অবদানই নেই সেরকম। যতই হোক বয়স তো হচ্ছে। ব্যাট হাতে আর টাইমিং হয়না আগের মতো। কিন্তু মাহিভাই জানে তার খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা বার করে নিতে। মাহিভাই ভরসা জোগায় উইকেটের পেছনে থেকে। আত্মবিশ্বাস জোগায়। লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা জাগায়।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে স্বয়ং ভগবান অস্ত্র হাতে ধরেননি। তবু পুরো মহাভারতের নায়ক তিনিই। আজকের ধোনিও ঠিক তাই। এতটুকুও অত্যুক্তি হবেনা। নাহলে সুনীল গাভাস্কার বলতে পারেন যে আইপিএলে খেলার সুযোগ যদি পেতেন তাহলে ধোনির দলে খেলতে চান শুধুমাত্র এটা দেখার জন্য যে ক্যাপ্টেন কুল কীভাবে দলটাকে চালনা করেন। বিরাট কোহলি থেকে রোহিত শর্মা ক্যাপ্টেন বদলেছে, বদলেছে সময়, বদলেছে খেলোয়াড়রা, বদলেছে ক্রিকেট। কিন্তু বদলায়নি ভারতীয় দলের আইসিসি ট্রফির খরা! সেই শেষ ২০১৩ সালে। তারপর আর কই? বাস্তবটা তো মানতেই হবে। কোহলি-রোহিতরা যে দল পেয়েছেন তাদের মধ্যে মাল-মশলা নেই বলছেন? তাহলে হচ্ছে না কেন? হচ্ছে না কারণ উইকেটের পেছনে ধোনি নামক মানুষটা নেই, যে এগারোজনকে সহকর্মী নয়, বন্ধুত্বের বন্ধনে বাঁধতে পারবেন।
আর হয়তো কটাদিন। কতগুলো দিন তা কেউ জানেনা। তিনি আচমকাই ইতি টানবেন। হঠাৎ করেই নেমে দাঁড়াবেন কপিধ্বজ থেকে। তাই যেকটা দিন তিনি আছেন মুহূর্তগুলো শুধু উপভোগ করুন। অনুভব করুন। ব্যাট হাতে নেমে কখনো শূণ্য রানে আউট হয়ে ফেরেন বা কখনো একটা দুটো বাউন্ডারি দেখা যায় তাঁর ব্যাট থেকে আবার বেশীরভাগ সময় তো নামেনই না। তবু তাঁকে একঝলক দেখার জন্য নিমেষে শেষ হয়ে যায় চেন্নাই ম্যাচের টিকিট, জাদেজাকে শুনতে হয় আউট হওয়ার আবেদন! ড্রেসিংরুম থেকে যখন তিনি বেরিয়ে আসেন মাঠে কান পাতা দায়। তিনি না নামলে মুখভার জনতার। সবটাই কি আর এমনি এমনি? এমনি এমনিই এতখানি আবেগ? আবেগ দিয়ে ক্রিকেট কেন কোনো খেলায় খেলা যায়না। কিন্তু এই আবেগ টুকুই তো সম্বল। নাহলে সবটাই গুরুত্বহীন।
ভেবে দেখবেন কথাগুলো ঠিক বললাম না ভুল। অবশ্য ভেবে দেখবার দায় কারোর নেই। ঠিক যেমন তাঁর ব্যাট ঝলসে উঠুক বা না উঠুক তাতে এত কোটি কোটি মানুষের কিছু যায় আসেনা। ঠিক যেমন সমালোচনা হোক বা প্রশংসা তাতে ধোনিরও কিছু যায় আসেনা। এসবকিছুর অনেক অনেক উর্দ্ধে তিনি। কানে কানের, হাতে ট্যাটু আর চাপদাড়ির যুগে কাঁচা-পাকা দাঁড়ি, স্মিতহাসি মুখে নিয়ে এক সাধক তিনি। তিনি কখন থামবেন সেই নিয়ে চিন্তা নাই বা করলেন। থাক না। 'এমনি ক'রেই যায় যদি দিন যাক না!'
শুভ জন্মদিন ক্যাপ্টেন কুল ♥️
✍🏻 কলমে শুভম দে
05/07/2023
Indian Cricket Team T20I squad vs Windies Cricket : Ishan Kishan (wk), Shubman Gill, Yashasvi Jaiswal, Tilak Varma, Surya Kumar Yadav (VC), Sanju Samson (wk), Hardik Pandya (C), Axar Patel, Yuzvendra Chahal, Kuldeep Yadav, Ravi Bishnoi, Arshdeep Singh, Umran Malik, Avesh Khan, Mukesh Kumar.
Surprisingly no Rinku Singh, Ruturaj Gaikwad in the squad!
05/07/2023
ুটবল_জয়_হে 🇮🇳
সন্ধ্যেটা শুরু হয়েছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজ -কে দিয়ে। মার্টিনেজ কে? তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তা বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক এসেছেন ভারতীয় উপমহাদেশ ভ্রমণে। যার মধ্যে আজকের সন্ধ্যায় তিনি ছিলেন তিলোত্তমার প্রাণকেন্দ্র হয়ে। সদ্য বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার কে হাতের কাছে পেলে তাকে ঘিরে উন্মাদনা যে উতলে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু হায়! এই উন্মাদনার সিকিভাগও যদি গুরপ্রীত সিং সান্ধু, সুনীল ছেত্রী, উদান্তরা পেত তাহলে হয়তো আজকে ভারতীয় ফুটবলের চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো!
নীল-সাদা জার্সি গায়ে ফেসবুক টাইমলাইন না ভরিয়ে টাইমলাইন যদি ভেসে যেতো নীলের নিলীমায় তাহলে জিততো ভারতীয় ফুটবল। কিন্তু যাইহোক সব দায় তো আর সমর্থকদের নেই। দায় কর্মকর্তাদেরও নেই। আসলে দায় যে কার তার উত্তর কারো জানা নেই। কোন অজানা কারণে ফ্যানকোড আর ডিডি স্পোর্টস পায় সম্প্রচারের দায়িত্ব তার সমাধান স্বয়ং শার্লক হোমস এলেও করতে পারতেন না।
তা সে যাইহোক আজ না হয় নাই বা হলো এসব বঞ্চনার কথা। আজ বরং হোক শত বঞ্চনা সত্ত্বেও এগারো ভারতীয়র অদম্য লড়াইয়ের কথা, এক সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর চোখ বন্ধ করে করজোড়ে পরম শক্তিমানের উদ্দেশ্যে প্রার্থনার কথা, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ভরা সন্ধ্যাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া এক নীলঘূর্ণির কথা।
ফিফার ক্রমতালিকায় কুয়েত যতই পিছনে থাকুক না কেন যারা মোটামুটিভাবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলাগুলি দেখছিলেন তারা সকলেই জানেন সাম্প্রতিক কালে কীরকম ছন্দে রয়েছে দলটা। তা ফাইনালে এহেন কুয়েত কে যে হেলায় হারানো যাবে না তা বোঝাই গিয়েছিল আর হলও তাই। নির্ধারিত সময়ে ১৪ মিনিটের মাথায় কুয়েত প্রথম গোল করে এগিয়ে যায়। নাক সিটকানো বাঙালি তাদের বিশ্ব ফুটবল প্রীতির স্বপক্ষে অজুহাত পেয়ে গিয়েছিলই কি সব হিসেব গোলমাল করে দিয়ে ৩৯ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। রক্ষণভাগে অন্যতম ভরসার নাম আনোয়ারকে হারিয়েও চলতে থাকে লড়াই। নির্ধারিত সময় ফুরিয়ে পার হয়ে যায় অতিরিক্ত সময়। লড়াই তবুও চলছে। ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটের দিকে। সেখানেও পাঁচ রাউন্ডের পর ফলাফল ৪-৪। মহেশ নাওরেম স্কোর ৫-৪ করলেন বটে কিন্তু শেষ ভরসা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। সেভ করতেই হবে। শরীরটাকে শূণ্যে ভাসিয়ে ছুঁড়ে দিলেন বছর একত্রিশের সান্ধু। কুয়েতের স্বপ্ন চুড়মার করে আটকে গেল খালেদ হাজিহার শট দীর্ঘাকায় শরীরটাই। ফলাফল ৫-৪। নবমবারের জন্য দক্ষিণ এশিয়া সেরার শিরোপা উঠলো ভারতীয় ফুটবলের মস্তকে। কিন্তু কী লাভ? কী লাভ শরীরটাকে শূণ্যে ভাসিয়ে দিয়ে? নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে? ২০২৩ -এ এখনও অবধি অপ্রতিরোধ্য ফুটবলের ময়দানে সুনীলদের লড়াই কিন্তু কি মূল্য আছে এই লড়াইয়ের?
'আমাদের এমিলিয়ানো' গোছের ক্যাপশানের সাথে সান্ধুর ছবি পোস্ট? এই মূল্য? কিন্তু কেন এই তুলনা? কেন সুনীল, সান্ধু, নাওরেমরা স্বমহিমায় নিজেদের তুলনা নিজেরা হতে পারবেন না? মেসি, রোনাল্ডোদের থেকে সুনীল কীসে কম যে তুলনা টানা হবে? সান্ধুর গুরুত্ব কেনই বা মার্টিনেজের সাথে তুলনার মাপকাঠিতে পরিমাপিত হবে?
কিন্তু কি জানেন সান্ধুরা এতকিছু ভাবেন না। আসলে যারা সর্বহারা, যাদের হারানোর আর কিছুই নেই তারাই এইভাবে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে শরীরটা শূণ্যে ভাসিয়ে দিতে পারে, শেষ অবধি মরিয়া হয়ে লড়াই করতে পারে। ঘুমন্ত দৈত্যরা জেগে অনেকদিনই উঠেছে। শুধু আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। আপনি মত্ত থেকেছেন নীল-সাদায় বা হলুদ-সবুজ বা সাদা-কালোর রঙিন ফুটবল দুনিয়ায়। আপনার চোখে পড়েনি নীল বিপ্লব। যে নীল বিপ্লব ঘটিয়েছে সুনীলরা। নীরবে-নিঃশব্দে। আর 'ওলে ওলে আর্জেন্টিনা' -র সুর ছাপিয়ে আপনার কান অবধি পৌঁছায়নি ছাব্বিশ হাজারের কান্তিরাভার সমবেত কন্ঠে —
"বন্দে-মা-তরম্" -এর সুর...🩵
✍🏻 কলমে Subham Dey
03/07/2023
❤️
'আনন্দ' সিনেমার সেই বিখ্যাত সংলাপটার কথা আমরা সবাই জানি। যেখানে রাজেশ খান্না বলেছিলেন, 'বাবুমশাই, জিন্দেগি লম্বি নেহি বড়ি হোনি চাহিয়ে।' জীবনটা তো একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধ নিরন্তর। আর এই প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ এক করে দেয় জীবনের সাথে খেলার ময়দানকে। জন্ম-মৃত্যু, হার-জিত সবটাই যেন একসূত্রে গাঁথা। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। এ জীবন অনিশ্চিয়তার। খেলার মাঠও অনিশ্চিয়তার। যেখানে কিছুই থাকেনা, থেকে যায় শুধু লড়াইখানি। যে লড়াই মানুষকে জীবনের থেকেও বড়ো করে তোলে। বড়ো, অনেক বড়ো। জীবন-মৃত্যু, হার-জিত যার কাছে অতি নগণ্য।
'ফাইন্ডিং নিমো' (Finding Nemo - Animated film) সিনেমার একটা সংলাপ আমার খুব পছন্দের। যেখানে ডোরি নিমোকে বলছে, “When life gets you down, do you wanna know what you've gotta do? Just keep swimming!” আহা! কত বড়ো জীবন দর্শন। সত্যিই তো তাই। জীবনের লাগাম তোমার হাতে নেই। তুমি চালনা করতে পারবেনা এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। কিন্তু তোমার হাতে আছে শুধুমাত্র লড়ে যাওয়া। প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়া। ক্লান্ত হয়ে পড়বে, হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করবে। কিন্তু থেমে গেলে চলবেনা। থামলেই জীবন জিতে যাবে তোমার বিরুদ্ধে। তাই শুধুমাত্র লড়ে যেতে হবে। লড়াই, লড়াই, লড়াই। ক্ষিদ্দা বলেছিলেন না, "ফাইট কোনি ফাইট।" এই তো জীবন। এই লড়াইটায় বেঁচে থাকা।
খেলার মাঠেও ঘটে যায় এরকম কতশত লড়াই। যা একসূত্রে মিলিয়ে দেয় জীবন যুদ্ধের সঙ্গে ক্রীড়াযুদ্ধ -কে। মাথায় চোট পাওয়ায় সেদিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন তাঁর এক সতীর্থ — ফিল হিউজ। নাহ্ হিউজ আর ফিরে আসেননি। প্রাণঘাতী বাউন্সার কেড়ে নিয়েছিল হিউজের জীবন। কিন্তু তিনি এলেন। তিনি নাথান লিঁয়। অজি শিবিরের বহু যুদ্ধের নায়ক। লিঁয় শুধু এলেনই না, তিনি লড়াইও করলেন। যদিও তাঁর চোট পায়ে। তবুও খোঁড়া পা নিয়েই চললো লড়াই। টিকে থাকার। অস্তিত্বের। কী হতো তিনি না এলে? তেমন কিছুই না। গত বৃহস্পতিবারের পর থেকেই তো তাঁকে দেখা যাচ্ছে ক্রাচ হাতে। দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্টের দ্বিতীয় দিন পায়ের কাফ মাসেলে চোট পেয়েছিলেন। অজি বোর্ড পরে জানায় এখন রিহ্যাবে পাঠানো হবে তাঁকে। তার মানে সবাই ধরেই নিয়েছিল যে তিনি এই ম্যাচে কেন পুরো সিরিজেই আর খেলতে পারবেন না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচের চতুর্থ দিন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ উইকেটে লর্ডসের সিঁড়ি বেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নামতে দেখা গেল তাঁকে। ক্রিকেটের মক্কা তখন অবাক হয়ে দেখছে তাঁর এই অদম্য লড়াই। অসীম শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে উঠেছে লর্ডস। বিপক্ষ ইংল্যান্ড অভিভূত! যন্ত্রনায় ছটফট করছেন তবুও ছুটলেন সতীর্থ স্টার্কের সিঙ্গেলের উদ্দেশ্যে। স্টুয়ার্ট ব্রডকে বাউন্ডারিও মারলেন। পারছেন না, তবু তিনি ছাড়বেন না। ক্যামেরা বারবার তাক করছে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের দু-হাত দিয়ে ঢেকে রাখা মুখের দিকে। অজি ড্রেসিংরুম একরাশ গর্ব ও সম্ভ্রম নিয়ে দেখছে তাদের সতীর্থের এই হার না মানা লড়াই। লর্ডস তথা বিশ্ব ক্রিকেট স্বাক্ষী হয়ে থাকলো সাতাশ মিনিটের এক অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের। করতালি তে মুখরিত হয়ে উঠলো হোম অফ ক্রিকেট। "গ্যারি...গ্যারি..." শব্দব্রহ্মে বোঝা ভার এটা ইংল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়া। অন্তিম উইকেটে অস্ট্রেলিয়া জুড়লো ১৫ রান। যার মধ্যে লিঁয়র ১৩ বলে ৪ রানের ইনিংসটা ঢুকে পড়লো ক্রিকেটের লোকগাথায়। শুধু ক্রিকেটের কেন? বলা ভালো জীবনযুদ্ধের লোকগাথায়। জীবনের জয়গাথায়।
আগেই বলেছি জীবন-মৃত্যু, হার-জিত সবটাই জীবনের অঙ্গ। মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। লিঁয়র এই দুঃসাহসিক লড়াই অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেবে কিনা তা সময় বলবে। কিন্তু জয় হোক বা হার তা কোনোভাবে স্পর্শ করতে পারবে কি এই মহাকাব্যিক লড়াইকে? এ লড়াই বেঁচে থাকার। টিকে থাকার। ভেসে থাকার। অস্তিত্ব রক্ষার। এ লড়াই মানুষকে Larger than life -করে তোলে। এ লড়াই মিলিয়ে দেয় ইতিহাসের পুরু, মহাভারতের অভিমুণ্য, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শংকর থেকে জীবন বিপন্ন করে মানবতার স্বার্থে লড়ে যাওয়া নীরজা ভানোট, বিক্রম বাত্রা, সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণনদের সঙ্গে ক্রিকেটের ম্যালকম মার্শাল, অনিল কুম্বলে, গ্রেইম স্মিথ, যুবরাজ সিং, নাথান লিঁয়দের। এ লড়াইকে কুর্ণিশ জানায় ইতিহাস। এ লড়াইকে কেড়ে নিতে পারে না সময়ের করালগ্রাস। এ লড়াইয়ে হেরে যেতে যেতেও কানের কাছে ভেসে ওঠে শন মেন্ডেসের সেই বিখ্যাত গান,
"Help me, it's like the walls are caving in
Sometimes I feel like giving up
But I just can't
It isn't in my blood!"
✍🏻 কলমে Subham Dey
20/06/2023
হাসেন নবীন...🩵
রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব--হাসে অন্তর্যামী।
ভারতীয় ক্রিড়াক্ষেত্রে ঠিক এভাবেই নীরবে নিভৃতে হাসেন সাদা পাজামা পাঞ্জাবী ও সাদা চুলের একজন মানুষ। নাহ্ মানুষ বললে ভুল হবে, মানুষের থেকেও যিনি একজন মহীরুহ। যে মহীরুহর নাম শ্রী নবীন পট্টনায়ক। কোনো প্রচার নেই, কোনো হোর্ডিং নেই, নেই মিডিয়ার লাইমলাইট তবু সবকিছুকে ছাপিয়ে দেবতা যেন ঐ বছর ৭৬ -এর বৃদ্ধ মানুষটি। কেন জানেন? বলতে গেলে শেষ হবেনা। শুধু একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই...
২০১৮ সালে সাহারা যখন ভারতীয় হকি দলের স্পন্সর হিসেবে সরে গেল, এগিয়ে এসেছিল এই মানুষটির নেতৃত্বাধীন ওড়িশা সরকার। প্রথমবার কোনো জাতীয় দলকে স্পনশর করে কোনো রাজ্য সরকার। স্বাক্ষরিত হয় ১৪০ কোটির চুক্তিপত্র হকি ইন্ডিয়ার সঙ্গে। তখন তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যা করার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের তা তাঁর সরকার কেন করছে? উত্তরে কি বলেছিলেন জানেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী? কোনোরকম রাজনীতি না করে, অতিরিক্ত ক্রেডিট না নিয়ে তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, "Someone has to take responsibility." কেন্দ্র কিছু দেয়না -র কাঁদুনি ছেড়ে ২০২৩ হকি বিশ্বকাপের জন্য রাউড়কেল্লায় তৈরী হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হকি স্টেডিয়াম — বিরসা মুন্ডা আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়াম। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় ফুটবল দলের জন্য ঘোষণা করেছেন ১ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কারের। আমাদের পোড়া বাংলায় বা ভারতবর্ষের অন্য কোনো রাজ্যে এসব ভাবতে পারবেন?
পুরাণ অনুসারে প্রভু জগন্নাথ ভোজন করেন শ্রীক্ষেত্র পুরীতে। আজ সেভাবেই ওড়িশাও রসদ জুগিয়ে চলেছে ভারতীয় ক্রীড়ার দুনিয়ায়। ক্রিকেটের আধিপত্যে যে দেশ ভুলতে বসেছিল অন্য সব খেলার সোনালী ইতিহাস ওড়িশা নতুন পথ অক্সিজেন জুগিয়েছে সেই সমস্ত খেলাকে। শুধু হকি নয়, অন্যান্য সব খেলার জন্য ওড়িশার ১৫ টি জেলা জুড়ে আছে ১৬ টি স্পোর্টস হোস্টেল। সুন্দরগড়ে আছে ক্রিড়া অ্যাকাদেমী ও হাই-পারফরম্যান্স সেন্টার যেখানে সবধরণের খেলার উঠতি তারকাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। রিলায়েন্স, ডালমিয়া সিমেন্ট, জেএসডাব্লিউ ইত্যাদি কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছে নবীন পট্টনায়কের সরকার ফুটবল, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি খেলার জন্য।
"জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে" -র সাথে সাযুজ্য রেখে আজ রথযাত্রার দিন শুধু এটাই প্রার্থনা করি প্রভু জগন্নাথের কাছে যে নবীন পট্টনায়কের হাত ধরে ওড়িশা যেন এভাবেই নয়ন পথবর্ত্তী হয়ে থাকে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে। আর সস্তার রাজনীতি ও সংকীর্ণ বিরোধীতার কাঁটাতার অতিক্রম করে আসমুদ্র হিমাচলের ক্রীড়া আঙিনায় সদর্পে এগিয়ে চলুক ওড়িশার বিজয়রথ।
জয় জগন্নাথ 🙏🏻
✍🏻 কলমে Subham Dey
13/06/2023
"Pressure is something which I love to take" বক্তা বছর একুশের তরুণী ভারতীয় অলরাউন্ডার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। লোকে বলবে কি দুঃসাহস দেখেছো! পুঁচকে মেয়েটা বলে কি! আরে বাবা ক্রিকেটটা কি আর মেয়েদের খেলা? তা সে যতই বিসিসিআই একখানা উইমেন্স আইপিএল করে ফেলুক না কেন। ভারতবর্ষ তো আছে ভারতবর্ষেই। যেখানে বছরে কন্যাভ্রূণ হত্যার সংখ্যাটা দশ লক্ষ তো খাতায়-কলমে!
তা সে যাইহোক, তবুও এদেশের মেয়েরাও স্বপ্ন তো দেখছে আর স্বপ্ন বাস্তবায়িতও করছে। ঠিক যেমন দেখেছিলো বছর বারোর বেঙ্গালুরুর মেয়েটা। শুরুটা হয়েছিল আশা-আশঙ্কার দোলাচলে আর দুরু দুরু বুক নিয়ে। কিন্তু সঙ্গে অর্জুন দেবের মতো গুরুরা থাকলে দুর্গম পথচলাও যে সহজ হয়ে যায়। আর এখন সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল পেতে শুরু করেছেন শ্রেয়াঙ্কা। কিন্তু কে এই শ্রেয়াঙ্কা পাটিল? কেনই বা দিনভর তাকে নিয়ে এত হইচই? যদিও অনেকেই হয়তো নামটাই শোনেনি!
হংকংয়ের মাটিতে বসেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) পরিচালিত উইমেন্স এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের আসর। আর সেখানে প্রথম ম্যাচেই আয়োজক দেশ হংকংয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের আঙিনায় সদর্পে নিজের আগমন ঘটিয়েছে কর্ণাটকের শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
বিপক্ষ দল যতই হংকং হোকনা কেন তবুও তো দেশের জার্সি গায়ে প্রথম বড়ো কোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ আর সেখানে কিনা প্রথম বলেই উইকেট! মাত্র তিন ওভার বল করেই ভারতীয় এ দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকারী! সর্বাধিক ডট বলের পরিসংখ্যানও তাঁর নামের পাশে! বোলিং ফিগার ৩-১-২-৫! ভাবা যায়?
কিন্তু এসব চাপ আমার আপনার কাছে। শ্রেয়াঙ্কার কাছে চাপ-টাপ কিস্যু না। বরং এই যে তিনি চাপ নিতে পারার মতো জায়গায় পৌঁছেছেন সেটাকেই সৌভাগ্যের বলে মনে করেন! মহিলা ক্রিকেট সম্পর্কে যারা একটু আধটু খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে শ্রেয়াঙ্কা পরিচিত নাম। এবারের মহিলা আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলেছিলেন বিরাট কোহলি ভক্ত শ্রেয়াঙ্কা। তখনই তিনি যে লম্বা রেসের ঘোড়া এই ভবিষ্যৎবাণীটা করেছিলেন আরসিবিতে তাঁর সতীর্থ বিখ্যাত অজি অলরাউন্ডার এলিসি পেরি। তা তিনি যে ভবিষ্যৎ পড়তে খুব একটা ভুল করেননি তার প্রমাণ আজ দিয়ে দিলেন শ্রেয়াঙ্কা।
বরাবরই নির্ভীক শ্রেয়াঙ্কা। ওপেনার বা টপ অর্ডার ব্যাটিং বা বোলিংয়েও ওপেন করাটা ঠিক পছন্দ নয় তাঁর। তিনি চান ফিনিশ করতে। ভারতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ফিনিশার হয়ে উঠতে। সাফল্যের জন্য খিদে থাকাটা ভীষণ জরুরী বলে মনে করেন শ্রেয়াঙ্কা। তাই তো কীরকম নির্দ্বিধায় বলতে পারেন "Don’t be satisfied with what you have achieved. There’s a lot more to do. Always try to improve, no matter what."
সবে তো শুরু, শ্রেয়াঙ্কা পাটিল keep running girl and keep shining like a star 🩷
✍🏻 কলমে শুভম দে
13/06/2023
Oh! My Captain
নেই কোনো পিআর -এর চিন্তা, নেই লাইট-ক্যামেরার ঝলকানি, না কোনো বডিগার্ড, না কোনো আতিশয্যের ঘনঘটা। তিনি ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয়। ক্রিড়াপ্রেমীরা বলেন, ক্যাপ্টেন, লিডার, লিজেন্ড। কিন্তু তিনি নির্দ্বিধায় কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীর হাতে ফুচকা খান। জামাইষষ্ঠীতে পুরোদস্তুর বাঙালি সাজে আম-কাঁঠাল-দই ও খান আবার দেশের হয়ে ৮৬ খানা গোল করে রেকর্ডের পাতাতেও ঢুকে যান। কিন্তু এসব নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। এই ৩৮ বছর বয়সেও তিনি দেশের জন্য একটা গোল করতে পারলেই খুশি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য বড় স্ক্রিনে নাম ভেসে ওঠে। ঐ কয়েকটা সেকেন্ডই তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, দেশের জন্য কিছু একটা করতে পেরেছেন তিনি। আচ্ছা কতখানি প্রচারের আলো বিমুখ হলে এরকম কথা বলা যায় বলতে পারেন?
আর সোনম? সোনমও কতখানি সহজ, সরল, সবসময় বন্ধুর মতো মিশে থাকেন সুনীলের সাথে। আসলে প্রত্যেকটা সম্পর্ক তো এরকমই হওয়া উচিৎ। বাৎসল্যে পরিপূর্ণ। স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ। যেখানে ভারতীয় ফুটবল অধিনায়কের স্ত্রী হয়েও খোলা রাস্তায় আমার আপনার মতো ফুচকা খাওয়া যায়, খাইয়ে দেওয়া যায় স্বামীকে। আসলে সোনমের কাছে সুনীল তো হাজবেন্ড কম বন্ধু বেশী। সম্পর্কগুলো তো এরকমই অনাবিল সারল্যে ভরে যাওয়া উচিৎ।
আজও যখন ভানুয়াতুর রক্ষণভাগকে মনে হচ্ছিল দুর্ভেদ্য, ম্যাচটা এগোচ্ছিল অবশ্যম্ভাবী গোলশূন্য ড্র -এর দিকে ঠিক তখনই ৮০ মিনিটের মাথায় ভানুয়াতুর অপ্রতিরোধ্য ডিফেন্সকে খানখান করে অবতীর্ণ হলেন সেই বরাবরের পরিত্রাতা সুনীল! শুভাশীষের ক্রস থেকে বাঁ পায়ের অনবদ্য ফিনিশে ভারতকে পৌঁছে দিলেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে। কিন্তু এরকম বিশ্বমানের গোল করার পরেও কতটা নিরুত্তাপ, শান্ত তিনি। আলতো করে বলটা কুড়িয়ে নিয়ে সন্তান আগমনের ইঙ্গিত করে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিলেন সোনমের দিকে, প্রত্যুত্তরে গর্বিত সোনমও হাততালির মাঝে ফিরিয়ে দিলেন ভালোবাসার চুম্বনখানি। যেন এক অবিস্মরণীয়, নিখাদ ভালোবাসার মুহূর্ত ফুটে উঠল ওড়িশার কলিঙ্গ স্টেডিয়াম জুড়ে। যে মুহূর্তে শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল, যে প্রত্যেকটা সোনম ডিজার্ভ করে একজন সুনীল আর সুনীলরা সোনমদের। ভারতীয় অধিনায়কের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। কোথায় সেটা মিডিয়া স্টেটমেন্ট দিয়ে জানাবেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটা করে অ্যানাউন্স করবেন তা না কতখানি সহজভাবে সে খবর জানিয়ে দিলেন এই দম্পতি। এতটুকু বাড়তি নেই কোথাও। নেই লোকদেখানো প্রচার। সবটুকু যেন আমার আপনার মতনই সাধারণ।
আসলে সুনীলের কাছে, "Life has been nothing short of a dream." এই প্রচারসর্বস্ব দুনিয়াই এরকমই থাকুন ক্যাপ্টেন, মাটিতে পা রেখেও যে ওড়া যায় তা প্রমাণ করে দিয়েছেন আপনি...❤️
✍🏻 কলমে Subham Dey
07/06/2023
- Both India & Australia wearing black armbands to pay respect to the lives lost in the Coromandel Express accident.
Read here: Team India's road to the final 👇
https://omsportsgalaxy.blogspot.com/2023/06/indias-road-to-wtc-final-2023.html