25/08/2026
#গল্প
#অজানা_অপেক্ষায়_আমি_আসবো_ফিরে
#পর্ব :১১
#বিসাদের_ঘরে_প্রাণের_ছোঁয়া
আজ ২৫ শে নভেম্বর, রহমান ভিলার দেওয়ালে দেওয়ালে আনাসের বিয়ের আলোক সজ্জায় সেজে উঠেছে।। কিন্তু আর্জার মনে তখনও সেই পুরানো অমাবস্যা। সে নিজেকে পাথরের মত শক্ত করে শুধু সংসারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিল। পর পুরুষের ছায়া এড়িয়ে চলা আর্জা এখন আরো বেশি খামোশ,আরো বেশি অন্তমুখী। রান্নাঘরের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ এক জোড়া হাত আর্জাকে জাপটে ধরল। ___"ফুপি"__ডাক শুনেই আর্জার কলিজাটা মোচর দিয়ে উঠলো,,, তাকিয়ে দেখল তার আদরের রিদওয়ান। আর মেন গেটের দিকে তাকাতেই দেখল আহানা, ও আজাহার দাঁড়িয়ে আছে। যে আহানা ও আজাহারের ওপর অভিমানে সে দীর্ঘ দুই বছর নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল আজ তাদের দেখে আর্জার চোখের বাঁধ ভেঙ্গে গেল। কিন্তু এই আনন্দ কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?
কারণ এই একই ছাদের নিচে এখন আজাহার আহানা ও আরাফ তিনজনই মুখোমুখি হতে চলেছে____যাদের ঘিরে আর্জার জীবনের ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছিল।
#অভিমানের_বাঁধ_!
দুইটা বছর!! দুইটা বছর আমি একটা জ্যান্ত লাশের মত এই বাড়িতে দিন কাটিয়েছি , কারোর ওপর অভিমানে কারো ওপর ঘেন্নাই নিজেকে দেওয়াল বন্দী করে রেখেছিলাম। আজ যখন প্রাণপ্রিয় ভাতিজা রিদওয়ান এসে ফুপি বলে জড়িয়ে ধরল মনে হল আমার সব পাথর হয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো আবারো গলে জল হয়ে যাচ্ছে। আহানা ভাবি এসেছে.... এসেছে সেই মানুষগুলো যারা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
কাল আনাসের গায়ে হলুদ বাড়িতে খুশির জোয়ার। কিন্তু এই খুশির ভিড়ে যখন আজাহার আর আরাফ মুখোমুখি দাঁড়াবে তখন কি লুকানো সত্যগুলো আড়াল থাকবে?
যেখানে বড়রা মিথ্যের জাল বনে সম্পর্কের নাম বদলে দেয় সেখানে ছোটদের নিষ্পাপ মন ঠিকই চিনে নেয় আপন মানুষকে।।
রিদওয়ান যখন আঙ্কেল বলে আরাফের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল তখন তাদের সাজানের সব মিথ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। আর্জা বুঝতে পারলো যাকে ভাসুর বলে ভেবে দূরে ঠেলেছে সেই তার আরাফ যাকে সে হারিয়েছে প্রায় দুই বছর আগে কিন্তু যন্ত্রণা শেষ এখানে ছিল না, বাড়ির গুমট পরিস্থিতি মাঝে যখন সাদিক তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকলো। তখন আর্জা নিজেকে আরও একবার তুচ্ছ মনে করলো। আহানা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো,, যে আর্জাকে রাজপুত্রের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল সে আজ অন্যের ভাগ করা সংসারে এক কোনে পড়ে থাকা এক নিছক আসবাবপত্র। আহানার এই একটি প্রশ্নে___আর্জা তুমি এত কিছু সইছো কিভাবে?? আর্জার জমানো সব পাথর যেন এক নিমিষেই জল হয়ে যেতে চাইলো।
#পর্ব :১২
#ঝিলের_প্রিয়_বন্ধুর_কোলে_মাথা_!
সন্ধ্যার হালকা অন্ধকারে ঝিলের শান্ত জলরাশি তখন একাকিত্বের সাক্ষী হয়ে আছে। তখন ঝিলের শানের উপর বসে আহানার কাঁধে মাথা রাখতেই আর্জার ভেতরের বাঁধ ভেঙে গেল। দুইটা বছর সে এই কষ্টের পাহাড় একা বইয়ে বেরিয়েছে আজ নিজের মানুষকে পাশে পেয়ে সেই এক অবুঝ শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
আহানা শুধু আলতো করে আর্জার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।আর্জা যখন ভিজে গলায় জিজ্ঞাসা করল___সেদিন আসলে কি হয়েছিল?? তখন চারপাশটা যেন আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল,,, আহানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করল সেই বিভর্স স্মৃতির কথা__আজাহার শুধু তার স্ত্রীকে মারধর বা হুমকি দিয়েই থামেনি সে আর্জার প্রতি তার অন্ধ ভালবাসাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। আহানা যখন দেখল আজাহার নিজের বোনের জন্য হাউমাউ করে কাঁদছে তখন সে বুঝতে পারলো এই মিথ্যেটা আজহার কেন বলছে। কিন্তু সেই ভালোবাসা যে আর্জার জীবনকে নষ্ট করে দেবে তা কি আহানা সেদিন বুঝতে পেরেছিল? মানুষের ভালোবাসা মাঝে মাঝে বিষের মতো নীল হয়ে যায়
ঝিলের ধারে আহানা ভাবির কাঁধে মাথা রেখে যখন দুই বছরের জমানো কান্নাগুলো সপে দিলাম তখন মনে হল বুকের ভেতর থেকে একটা পাথর নেমে গেছে।
কিন্তু সত্যিটা যখন জানলাম তখন পৃথিবীটা আরো একবার থমকে গেল,,, দাদা আমাকে ভালোবাসতো বলেই কি আমার জীবনের স্বপ্নগুলো কে জ্যান্ত কবর দিল? ভাবিকে মেরে হুমকি দিয়ে যে নাটকটা সাজিয়েছিল তখন তার নাম কি সত্যিই ভালোবাসা ছিল?
আজ সব জেনেও আমার হাত-পা বাঁধা। আমি এমন এক মোহনায় দাঁড়িয়ে আছি যেখান থেকে ফেরা যায় না আবার সামনে যাওয়ার কোন পথও খোলা নেই।😔
ঝিলের পাড়ে বসে আজ সত্যের শেষ পর্দা টুকুও সরে গেল আহানা যখন জানালো যে আজাহার ও এক ষড়যন্ত্রের শিকার ছিল তখন আর্জার মনে হল গোটা পৃথিবীটাই যেন এক বিশাল মিথ্যা। অথচ এই মিথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তার জীবনের দুইটা বছর ছাই হয়ে গেছে।
আহানা যখন আমাকে ডিভোর্সের প্রস্তাব দিল উত্তরে___আমি জানালাম-----এই খামোশি এখন আমার একমাত্র বন্ধু তখন ঝিলের বাতাসটা ও যেন ব্যথাই ভারী হয়ে উঠল। আর্জা যখন রহমান ভিলাতে ফিরল দেখলো তার নামমাত্র স্বামী সাদিক তার নিজের পরিবার নিয়ে হাসি মুখে গল্পের মত্ত। নিজের বাড়িতেই আর্জা আজ এক অনাহুত অতিথি,, যার ত্যাগের খবর কেউ জানেনা.....!!
#তিন__কবুল_
তিনটি "কবুল" কি সত্যিই জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে? যার সাথে দুই বছর কোন কথা হয়নি যাকে স্বামী বলে মানতে না পারলেও একটা মিথ্যে বন্ধনে জড়িয়ে আছি, আজ তাকেই নিজের চোখের সামনে অন্য কারো সংসারে সুখি হতে দেখছি।
আহানা ভাবি মুক্তি নিতে বলেছিল কিন্তু আমি তো নিজের ইচ্ছাতেই এই মৌনতাকে আপন করে নিয়েছি, আমি লড়তে চাই না... আমি শুধু দেখতে চাই ভাগ্য আমাকে কোন শেষ সীমানায় নিয়ে দাঁড় করাই।
"আরাফ" সবটা শুনে চলে গেল।
সে কি পারবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাকে তুলে নিতে? নাকি রহমান ভিলার এই হাসা হাসির ভিড়ে আমার অস্তিত্ব চিরতরে হারিয়ে যাবে??
#অজানা_অপেক্ষায়_আমি_আসবো_ফিরে
এই গল্পের পরবর্তী পর্ব পেতে চাইলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন আর আমার বাকি পর্বগুলো আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। প্লিজ আমাকে সবাই সাপোর্ট করবেন আপনাদের একটু সাপোর্টে আমার অনেক বড় পাওয়া
#ধন্যবাদ /শ্রোতা বন্ধুরা