21/04/2026
জন্ম সিদ্ধ ঠাকুর শ্রী শ্রী বালক ব্রহ্মচারী ও রাম নারায়ণ রাম:
জন্ম সিদ্ধ ঠাকুর শ্রী শ্রী ঠাকুর বালক ব্রহ্মচারী এক মাত্র বেদ প্রচারক গুরু। যার মতবাদ হলো ,আমাদের মতবাদ বেদ ভিত্তিক সাম্যবাদ। ঠাকুর প্রচার করেছে মহানাম রাম নারায়ণ রাম। ৫৪০বছর আগে মহাপ্রভু চৈতন্য দেব প্রচার করেছিলের মহানাম হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে। তার ত্রয়োদশ উত্তরপুরুষ ( জন্ম বৃত্তান্ত থেকে পাওয়া) ঠাকুর বালক ব্রহ্মচারী সেই ৩২ অক্ষর মহানাম কে পরিমার্জিত করে প্রচার করলেন মহাকাশের মহানাম রাম নারায়ণ রাম। যার ক্ষমতা অসীম।
এবার এই মহাকাশের মহানাম রাম নারায়ণ রাম এর ব্যাখ্যা করব।
শ্রী শ্রী ঠাকুর বালক ব্রহ্মচারী তার মহানামে রাম কথাটি দুবার উচ্চরণ করেছেন, কেন? এই রাম কি মহামুনি বাল্মীকি বিরচিত রামায়ণের অযোধ্যা রাজা দশরথের পুত্র। ঠাকুর বলছে রাম যদি দশরথের পুত্র হয়, তবে মুসলমান ধর্মের লোকেরা বলবে এত হিন্দুদের দেবতা , আমি কেনো রাম নাম নেবো,আল্লার নাম নেবো, খ্রিস্টানরা বলবে আমি যিশুখ্রিস্টের নাম নেবো,ফলে সাম্প্রদায়িক সৃষ্টি হবে। ঠাকুর বলছে এই রাম রাজা দশরথ এর পুত্র নয়। এই রাম মহাকাশ, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড , যেখান থেকে আমরা এসেছি। যেখান থেকে বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সকলে এই জগৎ সংসারে সদস্য। সুতরাং এই রাম সকলের, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নাই, এই রাম হিন্দুদের কাছে ঈশ্বর,মুসলমানদের কাছে আল্লা, খ্রিস্টানদের যাচ্ছে যীশু। আর নারায়ণ, এই নারায়ণ হিন্দুদের দেবতা নারায়ণ নয়। এই নারায়ণ আমাদের শরীর , যেখানে আমার অবস্থান, যার দ্বারা আমি নিজেকে প্রকাশ করছি। সকল জীবের একটি নারায়নরূপে শরীর আছে। সুতরাং এই নারায়ণ সকল ধর্মের লোকের জন্য। যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ তথা জীব যখন মারা যাচ্ছে তখন নারায়নরূপী শরীর ত্যাগ করে মহাকাশে ফিরে যাচ্ছে, রামে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এক শিষ্য তার গুরু কে বলছে, কোথা থেকে এসেছি আমি, কোথা যাব আমি, জানি না কোনো কিছু বালেদাও স্বামী।
শিষ্যের এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের ঠাকুর তার মহানাম রাম নারায়ণ রাম এ দিয়েছে। রাম নারায়ণ রাম, রাম মানে মহাকাশ, নারায়ণ মানে দেহ, অর্থাৎ মহাকাশ থেকে আমার আসা, দেহরূপে পৃথিবীতে বাস করা, আবার মৃত্যুর পর এই দেহ ত্যাগ করে মহাকাশে যাওয়া।
এই কারণে জন্ম সিদ্ধ ঠাকুর শ্রী শ্রী বালক ব্রহ্মচারী তার মহানামে রাম নারায়ণ রাম , রাম কথা দুবার ব্যবহার। রাম নবমীর রাম হিন্দুদের দেবতা, রাম নারায়ণ রাম এর রাম সকল ধর্মের সকল জীবের।
03/04/2026
ঈশ্বর তত্ত্ব ও শ্রী রাম চন্দ্র:
বৈদিক মতে সূর্য্য ঈশ্বর, তিনিই সব কিছুর সৃষ্টি কর্তা। তিনি বিভিন্ন যুগে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। কখন রাম কখন কৃষ্ণ কখন আল্লা ইত্যাদি।
বিষুবমিলন প্রতি ৭২ বছরে ১ ডিগ্রি উত্তর দিকে সরে যায়। এই ভাবে ১৩ ডিগ্রি ২০ মিনিট অতিক্রম করতে বিষুবমিলনের সময় লাগে ৯৬০ বছর। এই ৯৬০ বছর কে বৈদিক মতে এক যুগ ধরা হয়। প্রতি যুগ কে ঈশ্বরের একটি নতুন নাম দেওয়া হয়। এই ভাবে যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরের নাম পরিবর্তন হয়। এইবার বলি এই ১৩ ডিগ্রি ২০ মিনিট এল কোথা থেকে।
এই মহাকাশে ২৭ টি নক্ষত্র মন্ডলী আছে, যাদের নাম অশ্বনি, ভরণী, কৃতিকা..... রেবতী ইত্যাদি। যারা জ্যোতিষ তারা জানে এই নক্ষত্রগুলোর কথা, যাদের অবস্থান ১৩ ডিগ্রি ২০ মিনিট করে। এই ১৩ ডিগ্রি ২০ মিনিট অতিক্রম করতে বিষুবমিলন এর ৯৬০ বছর লেগে যায়। এবং নতুন যুগের সৃষ্টি হয়।
রাম যখন জন্ম হয় তখন বিষুবমিলন রাহিনী নক্ষত্রে হয়। তখন ঈশ্বরের নাম ছিল রাম। এর পরে বিষুবমিলন হয় কৃতিকা নক্ষত্রে তখন ঈশ্বরের নাম হয় কৃষ্ণ এই ভাবে ঈশ্বরের নাম পরিবর্তন হতে থাকে। এই কারণে অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র যখন জন্ম হয় তখন মহামুনি বৈশিষ্ট্য পুত্রের কুষ্টি দেখে অবাক হন, কারণ এই কুষ্টি সাধারণ মানুষের হতে পারে না ( পরে কুষ্টির বিশ্লেষণ করব, কেন সাধারণ মানুষের না), এই সন্তান স্বয়ং ঈশ্বর মানুষ রূপে ধরাধামে এসেছে। তাই মহামুনি তার নাম রাখে রাম, শ্রী রাম, যার জন্ম সনাতন তথা হিন্দুরা রাম নবমী বলে মহোৎসব করে।
সুতরাং রাম নবমী যে রামের পূজা হয়, সে একজন মানুষ, ঈশ্বর নয়। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় সূর্য্য।
27/03/2026
শ্রীরাম ঈশ্বর না মানব নাকি কাল্পনিক চরিত্র:
শ্রী রাম চৈত্র মাসে শুক্লা পক্ষে নবমী তিথিতে বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জন্ম গ্রহণ করেন। তার জন্ম দিনটিকে রাম নবমী বলে সনাতন তথা হিন্দুরা উৎসব করে। হিন্দুরা সকলে শ্রীরাম কে ভগবান রূপে শ্রদ্ধা করে ও পূজা করে।
রাম কি সত্যি ভগবান , নাকি মানুষ নাকি কাল্পনিক চরিত্র, কারণ হিন্দু পৌরাণিক মাতে ত্রেতা যুগে রামের আবির্ভাব ঘটে। ত্রেতা যুগের আয়ুষ কাল ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার বছর। তারপর শুরু হয় দ্বাপর যুগ যার আয়ুষ কাল ৮ লক্ষ ৬৪ হাজার বছর। ত্রেতা যুগের শেষের দিকে শ্রীরাম জন্ম গ্রহণ করে তার পূর্বে ওই ত্রেতা যুগে বামন ও পরশুরাম এর আবির্ভাব ঘটে। রাম বেঁচে ছিল ১১ হাজার বছর, তাহলে আনুমানিক ৮ লক্ষ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার বছর পূর্বে শ্রী রামের জন্ম হয়।
মহা কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ মহা কাব্য থেকে পাওয়া জন্ম কুষ্টি থেকে জ্যোতির্বিদরা তার জন্ম তারিখ বের করেছে আনুমানিক ৫১১৪ খ্রীষ্ট পূর্বব্দে ১০ জানুয়ারি। আধুনিক সফটওয়ার অনুযায়ী ৫৬৭৪ খ্রীষ্ট পূর্বব্দে ৩;৪;৫ ওই ফেব্রুয়ারি। শ্রী রাম চন্দ্রের এখন তার বয়স ৭১৩০ অথবা ৭৭০০ বছর।
গাণিতিক হিসাব হিন্দু পৌরাণিক শ্রী রাম চন্দ্র ও মহা কবি বাল্মীকি বিরচিত রামায়ণে মহা কাব্যের প্রধান চরিত্র রাম চন্দ্র এক ব্যক্তি নয়। রামায়নের রাম চন্দ্র কলি যুগে জন্ম গ্রহণ করে। আর এই রামের জন্ম দিনটিকে হিন্দুরা রাম নবমী হিসাবে পালন করে।
তাহালি কি বলব রাম ভগবান নয় এক জন মানুষ যে কৃত কার্যে জন্য আমাদের কাছে ভগবান রূপে পূজিত হয়, যেমন হয় শ্রী রামকৃষ্ণ, চৈতন্য দেব, বামক্ষেপা প্রমুখ মনিষীগণের মতো।
ক্রমশ.......