24/06/2021
ডাঙার মানুষ আজ কোমর ভাঙা মানুষের পাশে, অক্সিজেন সিলিন্ডার কাঁধে নিয়ে দৌড়চ্ছে ছাত্র-যুব-বৃদ্ধ, পাড়ায় পাড়ায় বসেছে কমিউনিটি কিচেন, জাত, ধর্ম, বর্ণ ভুলে মানুষ আজ মানুষের জন্যে।শুধু শ্রেণীচেতনা নয় বিপদ সচেতনতাতেই আজ দুয়ারে মানুষ।রাজনীতির লাল, নীল, সবুজ রং ভুলে শুধুই কালো মাথার লালহৃৎপিন্ডের মানুষ, অসংগঠিত মানুষের এক জাতীয় সংগঠন, লাল নয় সবুজ মনের স্বেচ্ছাসেবক, বিপণন নয় আপন করে নেওয়ার অস্ফুট স্লোগান "প্রাণের পাশে প্রাণ, তারপর ত্রাণ"।
আত্মশাসনের কড়াকড়িতে আটকে নেই হাত বাড়ানোর পুরনো অভ্যাস, আন্তর্জাতিক বিধি নিষেধ সঙ্গী করে এগিয়ে চলে মানব মিছিল। কোভিডকে যুঝে, পা এর মাপ বুঝে ধীর অথচ নিশ্চিত গতিতে এগোচ্ছিল সমুদ্র উপকূলবর্তী কৃষি ও মৎস্যজীবি মানুষ।আচমকা যশ এসে মাটিয়ে শুইয়ে দিলো এই লড়াকু জোশের মানুষগুলোকে।পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় কোনো মানুষ হয়তো মৃত্যুর মুখে পড়েনি কিন্তু বাদ যায়নি বাড়িঘর, গরু, ছাগল, চাষ আরো কতকিছু।অস্থায়ী আশ্রয় থেকে ফিরে সব দিশেহারা। আগামী এক বছর জীবিকাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে যশের দিকপরিবর্তন।
সুন্দরবন বদ্বীপের একটি ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপ ঘোড়ামারা। একসময়ের ১৩ বর্গ কিমি ক্ষয়ে ক্ষয়ে এখন ৫ বর্গ কিমিরও কম। জনসংখ্যা ৪০ হাজার থেকে কমে ৫ হাজার। যশের ধ্বংসলীলায় ঘোড়ামারা আজ সবহারা। মাটির বাড়ির পাশাপাশি ইটের বাড়িও লন্ডভন্ড, পানের বরজ থেকে চাষের জমি সব লবনাক্ত, ত্রিপলের তলায় মানুষ, গরু, ছাগল এর শান্তিপূর্ণ সহবস্থান।পুকুর থেকে বাড়ির উঠোন সব জলের তলায়, বিদ্যুৎবিহীন ঘোড়ামারা দ্বীপে মেঘলা আবহাওয়ায় সৌরবিদ্যুৎও নিস্তেজ, কেরোসিন লম্ফোই একমাত্র আলোর দিশারী। কাকদ্বীপে শুকনো ডাঙায় রান্না করা খাবার ভটভটি নৌকোয় পাড়ি দিয়ে অভুক্ত মানুষের মুখে তুলে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকের দল।
৫০০০ লোকের পাশে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই সেনেট (সোশ্যাল এঞ্জিনিয়ারিং এন্ড এডভান্সড টেকনিক্যাল এডুকেশন) এর, তাও স্বল্প ক্ষমতায় স্থানীয় হাই স্কুলের একজন মাস্টারমশাই এর পরামর্শে ৩০০ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো ছাতু, মুসুরডাল, গুঁড়ো দুধ, সোয়াবিন, গুড়, সর্ষের তেল, গুঁড়ো মশলা, বিস্কুট ইত্যাদি। গিয়ে শুনলাম আলু, পেঁয়াজ, সবজি কিছুটা দিতে পারলে ভালো হতো, ওরা এবার রান্না করে খেতে চায়।
কলকাতা থেকে যাওয়ার রাস্তা খুব ভালো, ডায়মন্ডহারবার হয়ে গঙ্গাসাগরের দিকে লট নং ৮ বা এল সি ডি গেট দিয়ে ভটভটি নৌকোয় পৌঁছে যাওয়া যায় এই দ্বীপে, খুবই মনোরম পরিবেশ, অনুরোধ করবো বন্ধুরা পারলে একবার ঘুরে আসুন, দেখে আসুন ঘোড়ামারা দ্বীপটি।
19/03/2020
08/03/2018
04/09/2017
21/08/2017