01/09/2026
১৯২৪ সালের আজকের দিনে হাওড়ার ব্যাঁটরায় জন্মেছিলেন ভারতীয় ফুটবলের এই দিকপাল। ১৯৪০ সালে হাওড়া ইউনিয়নের হয়ে ফুটবল জীবন শুরু করে ১৯৪২ সালে ভারতের জাতীয় ক্লাব মোহনবাগানে ফুটবলার হিসেবে যোগদান করেন, প্রায় উনিশ মরশুম তিনি মোহনবাগানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯৫০-৫৫ এই সময়ে অধিনায়ক হিসাবে দল কে নেতৃত্ব দেন।তাঁর নেতৃত্বে ক্লাব ডুরান্ড কাপ পেয়েছে পাঁচ বার। আইএফএ শিল্ড ছ’বার।
ক্লাবের প্রতি অসীম ভালোবাসার প্রতিদান হিসাবে তিনি এই উনিশ বছরে মাত্র ১৯ টাকা মোহনবাগান থেকে পারিশ্রমিক নেন। ১৯৫৩-৫৪ মরশুমে সন্তোষ ট্রফির বাংলার জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে চার বার সন্তোষ ট্রফি পেয়েছে বাংলা।১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ভারতের ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন, তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯৫১ সালে এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনা জয়, ভারতের ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এশিয়ান চারদলীয় টুর্নামেন্টে পরপর চার বছর (১৯৫২-৫৬) ভারত তাঁর অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৫৩ সালে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের বার্ষিক প্রকাশনায় তাঁকে বিশ্বের সেরা দশজন অধিনায়কের একজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। খালিপায়ে রুখে দিয়েছেন দেশ-বিদেশের স্ট্রাইকারদের। দলের দুর্গ শৈলেন মান্নার ট্যাকল অতিক্রম করে এগোনো প্রতিপক্ষের কাছে ছিল দুরূহ ব্যাপার। এমন ডিফেন্ডারকে তাঁর সারা জীবনে এক বারের জন্যও রেফারির কার্ড দেখতে হয়নি। এটাও বিশ্ব ফুটবলে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। শুধু ট্যাকলই নয়, বিশেষ পারদর্শী ছিলেন ফ্রি-কিক মারায়। অসাধারণ দক্ষতায় বল স্যুইং করাতেন। খেলতেন লেফ্ট ব্যাকে। দু’পা সমান চলত তার। তাঁর দূরপাল্লার জোরালো শট বিপক্ষ অনুমানই করতে পারত না। তবে ফ্রি-কিক মারতেন ডান পায়ে।সাফল্য ও স্বীকৃতির এত প্রাপ্তির মাঝেও অনুশোচনার কাঁটা বিদ্ধ করেছে শৈলেন মান্নাকে। ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পেয়েও ভারতীয় দলের না যাওয়া, ১৯৪৮-এর লন্ডন অলিম্পিক্সে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলেও পেনাল্টি মিস করা তাঁকে বার বার যন্ত্রণা দিয়েছে। সেই অলিম্পিক্সে ভারত প্রথম ম্যাচেই ফ্রান্সের কাছে ১-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ভারতের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন এস রামন। প্রথম পেনাল্টি মিস করার পর শৈলেন মান্না ভয়ে আর দ্বিতীয় পেনাল্টি পেয়েও মারতে যাননি। মহাবীর প্রসাদ মারেন এবং তিনিও নষ্ট করেন। হারলেও ভারতের খেলা দেখে সে দিন মুগ্ধ হয়েছিলেন লন্ডনের হাজার হাজার দর্শক। অবাক হয়েছিলেন ভারতীয়দের খালিপায়ে খেলতে দেখে। ‘রাজকুমারী’ এলিজ়াবেথ, তাঁর বোন মার্গারেট এবং স্বামী ফিলিপকে নিয়ে খেলা দেখতে এসেছিলেন। শোনা যায়, এলিজ়াবেথ শৈলেন মান্নার পা ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলেন তা সত্যিকারের রক্তমাংসের পা কি না।১৯৬০ সালে তিনি তাঁর বুটজোড়া তুলে রাখেন এবং ফুটবল জীবনের ইতি ঘটান। পরবর্তীকালে ১৯৬১ ও ১৯৬৮ সালে ভারতের জাতীয় দলের কোচ হন এবং মোহনবাগান এর কোচ হন।
সাফল্যের মতো শৈলেন মান্নার স্বীকৃতি প্রাপ্তিও উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০০০ সালে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিচারে পেয়েছেন একশো বছরের সেরা ফুটবলারের সম্মান, ‘ফুটবলরত্ন’ উপাধি। মোহনবাগানের প্রথম রত্ন ছিলেন শৈলেন মান্না,২০০১ সালে মোহনবাগান ক্লাব তাঁকে মোহনবাগান রত্ন প্রদান করে ।
কিংবদন্তির জন্মদিনে সকল ফুটবলপ্রেমী মানুষের পক্ষ থেকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য..💚❤️