08/10/2026
স্কুলের স্যারের সঙ্গে ম্যাডামের প্রেম! আর তাতেই কি ধুলোয় মিশল স্কুলের সম্মান? শিক্ষকের প্রেমের জেরে এবার ধুন্ধুমার কাণ্ড খোদ স্কুল প্রাঙ্গণেই—ছাত্রছাত্রীদের রোষের মুখে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শিক্ষকের স্কুটি!
কোচবিহারের মাথাভাঙা এক নম্বর ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পানিগ্রাম হাই স্কুলে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্কুলেরই এক সহকর্মী শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে বাংলা শিক্ষক মুরতাজা আল আমিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ল ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।
“স্কুলের বদনাম হচ্ছে, লজ্জা পাচ্ছি!”
বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের অভিযোগ, স্কুলের দুই শিক্ষকের সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষের কাছে স্কুলের সম্মান ও সুনাম ধুলোয় মিশেছে। দশম শ্রেণির এক ক্ষুব্ধ ছাত্রের বক্তব্য, “একটা অন্যায্য ঘটনার কারণে বিভিন্ন জায়গায় স্কুলের পরিচয় দিতে গিয়ে আমাদের লজ্জা পেতে হচ্ছে। যেখানে আগে গর্ব করে স্কুলের নাম বলতাম, এখন তা বলতে পারছি না। আমরা চাই উনি আর এই স্কুলে পা না রাখুন এবং ওঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
একই সুর একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর গলাতেও—“ওঁর জন্য গোটা স্কুলের বদনাম হচ্ছে। হয় উনি থাকবেন, নয়তো আমরা কেউ আর স্কুলে আসব না!”
বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাংলা শিক্ষক স্কুলে পৌঁছতেই পরিস্থিতি চরম আকার নেয়। তাঁকে ঘিরে ধরে পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভ এতটাই উগ্র রূপ নেয় যে, শিক্ষক যে স্কুটিতে চড়ে স্কুলে এসেছিলেন, সেটিকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক লাথি-ঘুষি মেরে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা এসে শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করেন এবং পড়ুয়াদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
“সবটাই গুজব ও ভিত্তিহীন” দাবি শিক্ষকের
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন। তিনি স্পষ্ট জানান, “এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। পরিকল্পিতভাবে একটি ভুয়ো গুজব ছড়ানো হয়েছে, আর সেই গুজবে কান দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা অহেতুক এমন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এই অভিযোগের কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই।”