29/04/2026
জীবন কিছু মানুষের হাতে রাজদণ্ড তুলে দেয়, আর কিছু মানুষের পায়ে বেঁধে দেয় ঘুঙুর। রাজদণ্ডের ভার যেমন ক্ষমতার প্রতীক, তেমনি ঘুঙুরের শব্দও এক অদৃশ্য শৃঙ্খলের প্রতিক। যারা ঘুঙুর বাঁধা পায়ে নাচতে থাকেন, তারা শুধুমাত্র নৃত্যশিল্পী নন, তারা আগুন, যে নিজেকে জ্বালিয়ে রাখেন সবসময়।
তার জীবন আসলে অনবদ্য এক সাধনা। শরীরকে শিল্পে রূপ দেন, ব্যথাকে সৌন্দর্যে রূপান্তরিত করেন। এবং প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি ভঙ্গিমায় এক জীবনের গল্প বলে যান, হয়তো একটি না বলা ইতিহাস, না বলা আনন্দ অথবা যন্ত্রণা, ত্যাগ বা একাকীত্ব। সবকিছু একসঙ্গে মিশে থাকে।
একজন নৃত্যশিল্পীর পায়ের তলায় যে ক্ষত জমে, তা সবার চোখে পড়ে না। দর্শকরা দেখেন সৌন্দর্য। ভুলের সমালোচনা, কিংবা প্রসংশা। বাকি থেকে যায় অনেক কিছু। সত্যি জীবন যখন পায়ে ঘুঙুর বেঁধে দেয়, তখন নাচ আর শুধু আনন্দের বিষয় থাকে না, হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার, টিকে থাকার, কখনোবা অস্তিত্বের লড়াই।
নৃত্যশিল্পীদের ধৈর্য আসলে ভীষণ, তারা এক মুহূর্তের জন্য থামতে পারেন না। থামলেই শিল্পী মরে যায়, থামলেই অন্ধকার হয়ে যায়, থামলেই ফাঁকা।
তারা নাচেন। তারা ক্লান্ত হয়ে, ক্ষত নিয়ে, সমালোচনা কে গিলে খেয়ে তারা নাচতে থাকেন কারণ তাদের শরীর চিরকালীন নৃত্যরত, এটাই তাঁদের বিশেষ গুণ।
আজ নৃত্য দিবসের প্রাক মুহূর্তে তাদের প্রতি কুর্ণিশ, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা রইলো। ভালো থাকুন পৃথিবীর সব নৃত্যশিল্পীরা।
12/03/2026
04/03/2026