19/05/2026
জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।
মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুলের গেটের উল্টোদিকে আগে একটি বিশাল অশ্বত্থ গাছ ছিল। সেই গাছের নিচে বসে আপন মনে বাঁশী বাজাচ্ছে ১৭ বছরের একটি যুবক, সঙ্গে সমবয়স্ক কয়েকজন বন্ধু বিভোর হয়ে শুনছে সেই সুর। কখন যে সন্ধে হয়ে গেছে কারুর খেয়াল নেই। হটাৎ একজন বলে উঠল - "মানিক বাড়ি যা, তোর দিদি মনে হয় এতক্ষনে খোঁজা-খোঁজি শুরু করে দিয়েছে।" ... সম্পূর্ণ প্রবন্ধের লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়া হল।
19/05/2026
মাস্টারমশাই নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন নিকুঞ্জবিহারী মাইতি। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় নন্দীগ্রাম হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক হিসেবে। পরবর্তীকালে অধিক বেতনের আকর্ষণীয় চাকরি ত্যাগ করে তিনি কলাগেছিয়ায় প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এই শিক্ষাব্রতী নেতা বহুবার কারাবরণ করেন। দেশের স্বাধীনতা লাভের পর ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ-এর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর অন্যতম ঐতিহাসিক অবদান ছিল শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রথমবার নারীদের জন্য প্রকৌশল শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা। তাঁর উদ্যোগেই দুই ছাত্রী সেখানে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন।
এই মহান শিক্ষাবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজনায়কের জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
জয় হিন্দ 🇮🇳
অরিন্দম ভৌমিক।
10/05/2026
১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের পর কোন এক সময়ে দাসপুর গ্রামটি থানায় পরিণত হয়। দাসপুর এর একশো পঞ্চাশ বছর আগেও সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল। বরদার জমিদার শোভা সিংহের (১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) পত্তনিদার বঙ্গরাম চৌধুরী সহ সিংহ, নন্দী, পাল প্রমুখ পদবীধারী সোনার বেনে, গন্ধবেনে, তাঁতি প্রভৃতি জাতি অন্যত্র থেকে এসে এখানে বসবাস করতে থাকে। ব্যবসায় সূত্রে এই পরিবারগুলো ক্রমে সমৃদ্ধতর হয়ে উঠে। বলতে গেলে দাসপুরের শিল্প সংস্কৃতির বীজ এরাই বপন করেছিলেন। দাসপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা লিপি যুক্ত সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গোপীনাথজীউর পূর্বমুখী একরত্ন মন্দিরটি সিংহরা প্রতিষ্ঠা করেন।
লিংক -
১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত দাসপুরের সিংহদের ‘গোপীনাথ’ মন্দিরে টেরেকোটা | Terracotta in the 'Gopinath' temple of the Singha fami
১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত দাসপুরের সিংহদের ‘গোপীনাথ’ মন্দিরে টেরেকোটা ।
09/05/2026
মেদিনীপুরের মুকুটে নতুন পালক। পক প্রণালী জয় করলেন আফরিন জাবি 🇮🇳
Afrin Jabee crossed the Palk strait, within the timings 7 hours 10 minutes.
29/04/2026
দুম দুম দুম মূহুর্মুহু গুলির শব্দ। দেহরক্ষীরা কিছু বোঝার আগেই ধুলায় লুটিয়ে পড়লেন পেডি।
১৯৩১ সালের ৭ই এপ্রিল। সন্ধ্যায় জেলা স্কুলের শিক্ষা প্রদর্শনীতে এসেছেন অত্যাচারী জেলাশাসক জেমস পেডি। বিমল দাশগুপ্ত ও জ্যোতিজীবন ঘোষ ওৎ পেতেই ছিলেন। গুলি চালিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে সরে পড়লেন বিপ্লবীরা। কেউ ওদের পিছু নেওয়ার সাহস পেল না। কেবল ছোট্ট একটি ছেলে 'বিমলদা' বলে চিৎকার করে উঠেছিল। বিমলের নাম এইভাবেই রটে গেল। এই দুঃসাহসিক ঘটনায় স্তম্ভিত হল ব্রিটিশ শক্তি, বিস্মিত হল সমগ্র দেশ। আশা ও উদ্দীপনায় আর একবার জেগে উঠলো দেশের তরুণ শক্তি।
২৭ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্য, বিমল গুপ্ত ছদ্মনামে বিচারক গার্লিককে (দীনেশ গুপ্ত ও রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন) আলিপুর জর্জ কোর্টের কক্ষের মধ্যেই গুলি চালিয়ে হত্যা করেন এবং পটাশিয়ম সায়্নাইড মুখে ঢেলে নেন। তার পকেটে কাগজ পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিলো "ধ্বংস হও; দীনেশ গুপ্তকে ফাঁসি দেওয়ার পুরস্কার লও" ইতি - বিমল গুপ্ত। পেডির হত্যার ব্যাপারে পুলিস বিমল দাশগুপ্তকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তিনি ছদ্মনাম নিয়ে নিজের জীবনের বিনিময়ে বিমল দাশগুপ্তকে রক্ষা করেন। পুলিস দীর্ঘদিন তাঁর প্রকৃত পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি শনাক্তকরণের সময় কানাইলালের মহীয়সী মাতা কাত্যায়নী দেবীও তাঁর দেহকে অস্বীকার করে বলেন "এ তাঁর কানু নয়"।
ক্লাইভ স্ট্রীটে অত্যাচারী ভিলিয়ার্স সাহেবের হত্যার ভার আবার দেওয়া হয় বিমল দাশগুপ্তকে। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ সালে তিনি ভিলিয়ার্সকে গুলি করেন তার অফিসে ঢুকে। পকেট থেকে সায়ানাইড বের করার আগেই ধরা পড়ে যান।
এই মহান বিপ্লবীর জন্মদিনে জানাই শত কোটি প্রণাম।
জয় হিন্দ 🇮🇳