CricinFo Bangladesh

CricinFo Bangladesh

Share

মাঠ এবং মাঠের বাইরে টাইগারদের সমর্থন?

09/09/2019

হ্যাঁ যেমনটা হওয়ার কথা সেটাই হয়েছে!.

বার বার আলোচিত সমালিচিত ক্রিকেটার সেই রশিদ খানই আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছে বিশ্ব রেকর্ড____যা ইতিহাসে আরো কারো নেই!..💪💪🤔

১) সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে জয়লাভ!

২) নেতৃত্বের অভিষেকেই ১১ উইকেট!

৩) নেতৃত্বের অভিষেকেই ফিফটি!
৪) নির্বাচিত হয়েছেন প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচও!!

টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে এই কীর্তি ইতিহাসে নেই আর কারও!

রশিদ খানঃ-_আমি আমার ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরষ্কার আমার বন্ধু নবিকে উৎসর্গ করলাম..🏆🎖🎖

08/09/2019

হ ভাই 😊 ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে

06/09/2019

সাকিব কে ফুল দিয়ে প্রপোজ করলো তার এক ভক্ত!

তবে খেলার মাঠে এগুলো কাম্য নয় ,

03/09/2019

কাপ্তান😍😍😍😍😍

01/09/2019

পুত্র সন্তানের বাবা হলে স্পিড স্টার রুবেল হোসাইন,
রুবেল ভাই পুরাই হ্যাপি

অভিনন্দন রুবেল ভাই ও ভাবি 😊

30/08/2019

⏩⏩⏩⏩অভিষেক ম্যাচ ডে⏪⏪⏪⏪

এই প্রথম বারের মত মাঠে নামবে প্রান প্রিয় গ্রুপ, (টিম ক্রিকইনফো বাংলাদেশ)😍
রানা ভাইকে ক্যাপ্টেন করে প্রথম বারে মতো ব্যাটে বলে লড়াই করবে প্রিয় গ্রুপ😘

প্রিয় টিমের পতিপক্ষ (টিম Ctf",)

(টিম ctf) তুলনা মুলক (টিম ক্রিকইনফোর) থেকে অনেক শক্তিধর ও ভারসাম্য তারকা সমৃদ্ব অভিজ্ঞতা সম্পুর্ন একটা দল__মাঠে তারাই রাজত্ব দেখাবে!!

তবে ক্রিকইনফো'র অধিনায়ক( রানা,)তার নিজ দল নিয়ে আত্ববিশ্বাসি!!.
অভিষেক ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চান তিনি"

অধিনায়ক বলেন, ঃ

"ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, যদি আমরা নিজেরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারি মাঠে তাহলে জয় আমাদের হবে."

আর হ্যা নিজ দল (টিম ক্রিকইনফো) এর জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ চেয়েছেন অধিনায়ক রানা!!.🤲

আপনারা সবাইকে আমাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্যে মাঠে আসার আমন্ত্রন রইলো!
খেলা আগামীকাল শুক্রবার বেলা ৩ টা__ টঙি এস্তেমা মাঠে!!

অভিষেক ম্যাচ কে কেন্দ্র করে ১৫ সদস্য দল ঘোষনা করেছে টিম ক্রিকইনফোর ম্যানেজমেন্ট কমিটি মাহফুজুর রহমান ও মুন্না ভাই!.

স্কোয়াড এ যারা যারা আছেনঃ

১.রানা (অধিনায়ক)
২.অভি
৩.ঈমন
৪.আল আমিন
৫.সজিব
৫.মামুন
৭.বাপ্পি
৮.আসাদ
৯.আকাশ
১০.বাবু
১১.সিহাব
১২.মাহমুদ
১৩.মানিক
১৪.ফাহিম
১৫.জাহিদ

😍😍ইনশাআল্লাহ 😘😘😘😘😞😌💪💪💪

10/05/2019

…………………ব্রেকিং নিউজ………………

বিসিবির আয়োজনে বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশের টি-টোয়েন্টি অথবা ওয়ানডে সিরিজ!🤘🤘

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বড় পরিসরে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)!!🇧🇩🇧🇩

আর ম্যাচ দুটি হবে বিশ্ব একাদশ আর এশিয়া একাদশের মধ্যে.🇧🇩🤔

আজ ৯ মে বৃহস্পতিবার বিসিবির একটি সূত্র এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন!
এই দুটি ম্যাচ আগামী বছরের ২০২০ মার্চে ১৯ এবং ২০ তারিখে হওয়ার কথা রয়েছে!
তবে এখনও ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি!!

এ ব্যাপারে বিসিবির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তাব তৈরি করে পাঠিয়েছি!
যাতে করে আমরা বিশ্ব একাদশ এবং এশিয়া একাদশের মধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি আয়োজন করে সেরা খেলোয়াড়দের পেতে পারি!!✊💪💪

এদিকে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনও এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন!😱
তবে ম্যাচ দুটি কোন ফরমেটে হবে কিংবা কারা কারা থাকবেন সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি!!

এ ব্যাপারে পাপন বলেন, ‘আগামী বছর আমরা বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন এবং দেশের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করব!!
আমরা এমন কিছু করতে চাইছি যাতে,
বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারি!!

তাহলে আর দেরি কেন.?
সাজিয়ে ফেলুন আপনার মনের মতো বিশ্ব একাদশও- এশিয়ার একাদশ..??

বিদ্রঃ এশিয়ার প্রতি দেশ থেকে ২জন করে খেলোয়াড় নিতে পারবে.??

দেখাযাক কার একাদশ বেশি সুন্দর হয়.??


দুই দলেরই একাদশ সাজাতে হবে আপনাকে.?

05/05/2019

#পোড়া_লাশ -১ম পর্ব

-গভীর রাতে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকবেন না!কারো নজর লেগে যেতে পারে!

মোবাইলে শুধু এটুকু মেসেজ এসেছে।একটা প্রাইভেট নাম্বার থেকে। কে পাঠিয়েছে,কেন পাঠিয়েছে তা জানিনা!
আর আমি গভীর রাতে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকি এটা লোকটা জানলো কেমন করে?
বিড়বিড় করতে করতে আবারো বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম।কেমন একটা নিশ্চুপ পরিবেশ।কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশটা উত্তাল হয়ে উঠলো।বাজারের মন্দিরের দিক থেকে একটা গরু ডাকার আওয়াজ আসছে।যেন গরুটিকে কেউ পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছে।ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল।সামনের দিকে ঝুঁকে রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখি আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনে একটা মহিলা দাঁড়িয়ে।তার হাত ধরে আর একটা ছোট বাচ্চা।মহিলার চুলগুলো মুখের উপর দিয়ে সামনে ছড়ানো।পাশের বাড়ির গেটের দিকে তাকাতেই দেখি একই চিত্র।আমার মাথা সেই সময় কাজ করছিলো না।সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে না ঘুমিয়ে রাত জাগার কারনে আমার হ্যালুসিনেসন হতে পারে।এটা ভেবে আমার রুমে চলে আসলাম।।
সকালে এক কাপ কফি হাতে করে বেলকনিতে যেতেই নীচে অনেক মানুষের আনাগোনা দেখতে পেলাম।দেখি ভ্যানে করে একটা মানুষের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।ঘটনা পরিষ্কার করে বোঝার জন্য নীচে নেমে গেলাম।
একটা মহিলাকে জিজ্ঞাসা করতেই বলে উঠলো,

-আপা,আপনি বাইরের মানুষ।দুদিন হলো ঘরভাড়া নিছেন।এগুলো শুনে খামাখা ভয় পাবেন।তারচেয়ে বরং না শোনাই ভালো।

-তবুও আপা,বলেন না!

-রাতে কি আপনি গরু ডাকার আওয়াজ শুনেছেন?

-হ্যাঁ, রাত দুটোর দিকে!

-রাস্তার দিকে তাকাইছিলেন নাকি?

-হুম,রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি প্রতিটা ঘরের সামনে একজন মহিলা ও একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে আছে।

-আপা, বলেন কি?আপনার তো দেখি খুব সাহস।আর খবরদার দাঁড়াবেন না ওখানে!

-এই লাশের সাথে এগুলোর সম্পর্ক কি সেটাতো বলবেন!

-প্রতি অমাবস্যার রাতে ওই মন্দিরটার দিক গরু ডাকার আওয়াজ আসে।আর পরেরদিন সকালে মন্দিরের বটগাছের তলাতে একটা লাশ পাওয়া যায়।একটা নগ্ন,পোড়ানো লাশ ওখানে পড়ে থাকতে দেখা যায়।কিন্তু কোনো ছাই বা কিছু দেখতে পাওয়া যায় না।আজ দুই বছর হলো মন্দিরটাতে এভাবে লাশ পাওয়া যায়।কেউ সাহস করে গরু ডাকার আসল রহস্য বের করতে পারে নাই।একদিন আমরা সবাই মিলে বের হতে যাবো তখনি গেটের সামনে একটা মহিলা ও একটা বাচ্চা ভুত দেখি সবাই।মহিলার মুখ এতোটাই বিভৎস ছিল যা বলে বোঝাতে পারবো না আপনাকে।সেই থেকে কেউ আর সাহস করে এগোই না।

মহিলার কথা শুনে আমার গলা শুকিয়ে আসলো।একে তো নতুন এলাকা।তারপরে এইরকম অভিজ্ঞতা হবে জীবনেও ভাবতে পারিনি।বাড়ির কাছে হলে মা কে আমার কাছে রাখতাম, কিন্তু এটা তো অনেক দূরে।

.
সকালের নাস্তা করে অফিসে চলে আসলাম।কাজে মন বসাতে পারছিলাম না।সেটা দেখে আমার একজন কলিগ আমাকে বললো,

-সুমনা তোমাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে।নতুন বাসার জন্য কোনো সমস্যা হচ্ছে?

-না মাহিম।আমি অন্য একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত।আচ্ছা, আপনার বাসা কোথায়?

-আপনার বাসা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে।
কিন্তু কেন বলেন তো?

-না মানে,আমার বাসার পাশের মন্দিরটাতে গতকাল একটা লাশ পাওয়া গেছে জানেন আপনি?

-এটা আর নতুন কি?আমি এখানে ৬ মাস আছি।ছয় মাসে ছয়টা লাশ পাওয়া গেছে শুনেছি।পুলিশ কতবার যে অভিযান করেছে।কিচ্ছু পায় না,কোনো প্রমাণ মিলে না হত্যার।সবাই ধারণা করে মন্দিরে যেসব মানুষের লাশ পোড়ানো হয় সেই লাশগুলো পরে প্রতিশোধ নিচ্ছে।

-আচ্ছা,লাশগুলোতো ছাই হচ্ছে না।শুধু তেলে ভাজা মাংসের মতো করে পুড়িয়ে মারা হয়।আমার কেমন যেন লাগছে বিষয়টা!

-অফিসে মন্দিরের কথা আলোচনা করে নিষেধ।তবুও আপনাকে বললাম,বেশি মাথা ঘাটিয়েন না। প্রথমত নতুন জায়গায় এসেছেন, দ্বিতীয়ত মেয়ে মানুষ হয়ে এসবে নাক গলানোর দরকার নেই।ভয় পাবেন খালি খালি।

...

অফিস থেকে বাড়িতে এসে সেদিন গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়ে এলাকাটা দেখে নিলাম ভালো করে।মন্দিরটা একেবারে এলাকার শেষের দিকে।৪০০ বছর আগেকার পুরোনো মন্দির।অনেক জনপ্রিয়।তাই সাহস করে হয়তোবা প্রশাসন কিছু করতে পারে না।মন্দিরের ওপাশটাতে শুধু মাঠ আর মাঠ।শ'দুয়েক বাড়ি এই এলাকায়।

বিষয়টা নিয়ে ভাবছি,তখনি সেই প্রাইভেট নাম্বার থেকে একটা ম্যাসেজ।
-আজ রাতে দাঁড়িয়ে থাকবেন।আপনাকে দেখার অনেক ইচ্ছা জাগছে।

অপরিচিত কোনো জিনিস যদি সারপ্রাইজ হয়ে লাইফে আসে তাহলে সেটা দেখার প্রবল ইচ্ছে সবার মধ্যেই কাজ করে।আমার মধ্যেও করতেছিল।তাই আমি সেদিনও বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম।কিন্তু একটু লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করলাম।সেটাতে সাকসেসফুল হলাম আমি।একটু পরেই দেখি মাথায় টুপি পড়া একটা ২৭/২৮ বছরের যুবক আমার বেলকনির দিকে বারবার তাকাচ্ছে।রাস্তার আলোতে যতটুকু দেখাগেলো তাতে অপরিচিত মনে হলো।এবার আমি সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।কিছুদূর গিয়েই লোকটা একটা বাড়িতে ঢুকে গেলো।

এভাবে প্রায় ২০ দিন মত আমিই লোকটাকে ফলো করলাম।প্রতিদিন লোকটা ওই বাড়িতে ঢোকে,ঠিক রাত ২ টাতে।

লোকটাকে জানার জন্য আমি একটা শুক্রবারে ওই বাড়িটাতে চলে গেলাম।যেখানে প্রতিদিন অপরিচিত লোকটা ঢোকে।বাসার কলিংবেল চাপতেই একটা বয়স্ক মহিলা বের হয়ে আসলো।

-আসসালামু আলাইকুম আন্টি।

-ওয়ায়ালাই কুমুস সালাম।মা তুমি কে?

-আন্টি আমি ওই পাশের বিল্ডিংয়ের ভাড়াটিয়া।আজ ২৫ দিন যাবত এসেছি।

-আমার কাছে কিছু দরকার?

-আন্টি,মানে আপনার কি ২৭/২৮ বছর বয়সী কোনো ছেলে আছে?

-কেন মা?

-না মানে একটু জানতে চাচ্ছিলাম।প্রতিদিন আমি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকি।তাকে এই বাড়িতেই ঢুকতে দেখি।তাই জানতে চাচ্ছিলাম।

-তুমি নিশ্চিত যে সে এই বাড়িতে ঢোকে?

-হ্যাঁ, আন্টি।আমি নিজের চোখে দেখেছি।

-কিন্তু মা,আমার ছেলে তো আরো ৭ মাস আগে মারা গিয়েছে।
আমি এই বাড়িতে একা থাকি!

-কিহ,তাহলে আমি কাকে এই বাড়িতে ঢুকতে দেখি।আমাকে ম্যাসেজ দেয় কে?

-তা তো জানিনা মা।তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।

..

নতুন একটা জায়গায় এসে এভাবে একের পর এক ধাক্কা খাবো তা জীবনেও ভাবতে পারিনি।নিজেকে সামলে নিয়ে আন্টির থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।।বাসায় এসে মাহিমকে ফোন করে আমার বাসায় আসতে বললাম।

-কি হয়েছে সুমনা?

মাহিমকে সব খুলে বললাম।সে আমাকে রাগ করলো।আমি এই বিষয়টাতে মাথা ঘামাচ্ছি, তাই নাকি আমার সাথে এমনটা হচ্ছে।
আমি মাহিমকে ম্যাসেজ দেখাতে গেলাম।কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো মোবাইলে একটা ম্যাসেজ ও দেখতে পেলাম না।আমাকে কিছু সময় স্বান্তনা দিয়ে মাহিম চলে গেলো।

আবারো আরেকটি অমাবস্যার রাত চলে আসলো।সেদিন নীচের বাসার সবাই এসে আমাকে সতর্ক করে দিয়ে গেলো।এইরাতে যেন বারান্দায় না যাই আমি।
রাতে ফেসবুকিং করতে করতে কখন যে রাত ১ টা বেজে গেছে খেয়াল করিনি।হঠাৎ সেই ভয়ংকর শব্দ।মনে হচ্ছে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছে।পরিবেশটা কেমন ভয়ংকর হয়ে গেলো।ভয়ে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল।কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম।কোনোমতেই দু'চোখের পাতা এক করতে পারছিলাম না।ভয়ংকর এক রাত পার করার পরে সকালে উঠে যথারীতি একটা লাশ পাওয়ার খবর শুনলাম।এবার আর ভয় না পেয়ে লাশের কাছে চলে গেলাম।একদম বীভৎস অবস্থা।
মাথার ভিতরে শুধু এই ঘটনা ধুরতে থাকলো।আবারো সেই আগের মতো কোনো কাজে মন বসাতে পারছিলাম না।এবার অফিস থেকে তিনদিনের ছুটি নিলাম।ছুটি নিয়ে সোজা চলে গেলাম থানায়।

থানার ওসিকে মন্দিরের লাশের কথা জিজ্ঞাসা করতেই আমার কথা পাশ কাটিয়ে যেতে লাগলো।কোনোভাবেই সে আমার সাথে এই কথা বলতে প্রস্তুত নয়।আমি থানা থেকে বিষন্ন মনে বের হয়ে আসছিলাম।তখন এক মহিলা কনস্টেবল আমাকে ডাক দিলো।তার কাছে যেতেই বললো,

-আপনি মন্দিরের লাশের ব্যাপারে শুনতে চাচ্ছেন কেন?

-এই ভয়ংকর মৃত্যু আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।আমি এর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখতে চাচ্ছিলাম।

-আমি আপনাকে দেখাতে পারি,যদি আপনি কাউকে না বলেন?

এরকম ভালো মানুষ পাওয়া মুশকিল।তাই তাকে বললাম,

-কি যে বলেন,আপনি আমার উপকার করবেন।আর আমি সবাইকে বলে দিবো,তা হয়?

তিনি আমাকে সন্ধ্যার পরে একটা জায়গায় আসতে বললেন।
যথাসময়ে তিনি চলে আসলেন,আমাকে সবগুলো লাশের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখালেন।আশ্চর্য্য হলেও এটা সত্য যে লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।না আছে কোনো হাতের ছাপ।শুধু আগুনের তাপের সাহায্যে তাদের হত্যা করা হয়েছে।এ পর্যন্ত ৮ টা লাশ পাওয়া গেছে।সবগুলো একই।

-আপনার লাশগুলোর পরিচয় বের করতে পেরেছেন?

-হ্যাঁ, সবগুলো লাশের পরিচয়ই আমরা বের করেছি।সবাই ২০/২২ বছরের যুবক।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে ৮ জন মারা গিয়েছে তারা সবাই একই কলেজে পড়ালেখা করতো।

-কি বলেন এসব?

-আর তারা একে অপরের বন্ধু ছিল।তাদের এই বন্ধুমহলে আর ২ জন আছে।১০ জনের বন্ধুত্ব ছিল,এখন সেখান থেকে ২ জন আছে।

মাথাটাতে অসহ্য যন্ত্রণা করছিলো। মাহিমকে ফোন দিলাম,যাতে এসে আমাকে নিয়ে যায়।মাহিমকে এবারো সব বললাম।মাহিম আমাকে একটা কথা বললো,যেটা শুনে আমি বেশি আতংকিত হয়ে পরলাম।
অমাবস্যার রাতে যে মহিলাকে বাচ্চাসহ দেখা যায় সেই মহিলা আরো একবছর আগে মারা গিয়েছে।

চলবে...........

05/05/2019

৮ বছরের বাচ্চা মেয়েটির চেকাপ করার পর যখন ডাক্তার, আরিফ সাহেবকে বললেন, "ওহ মাই গড! আপনার মেয়েতো প্রেগনেন্ট।" কথাটা শুনে আরিফ সাহেব রিতীমত হতভম্ব হয়ে গেলেন। এটা কী করে হলো! একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে এই কাজ কে করবেন! তার বাড়িতে তিনি ছাড়া আর কোনো পুরুষ নেই। ডাক্তার সাহেব নিজেও বেশ চমকে গিয়েছেন রিপোর্টটা দেখে। তার এই পুরো জীবনে এত অল্প বয়সের কোনো মেয়েকে তিনি প্রেগনেন্ট হতে দেখেননি। এছাড়া মেয়েটার বয়সঃন্ধী শুরুর বয়সই হয়নি এখনও। কিন্তু চেকাপে তার পেটে স্পষ্ট একটা বাচ্চার ভ্রূণ দেখা যাচ্ছে। যার বয়স কম করে হলেও ৫-৬ মাস। ভ্রূনটির মানব আকৃতির মতোই হয়ে গেছে। অথচ বাচ্চা মেয়েটির পাকস্থলী দেখে কিছুই টের পাওয়া যায় না বাইরে থেকে। এই পাকস্থলীতে এই ভ্রূণের অস্থিত্ব থাকা অসম্ভব। কিন্তু রিপোর্ট এটাকেই প্রমাণ করতে চাইছে। তাই ডাক্তার আরও কয়েকবার চেকাপ করলেন। না, তার কোনো ভূল হয়নি। আসলেই মেয়েটির গর্ভে একটি সন্তান রয়েছে।
সন্তান না হলেও কিছুতো একটা মানব আকৃতির আছেই তার গর্ভে।

মেয়েটার নাম মাইশি। মাইশির বাবা আরিফ সাহেব ডাক্তারের কথা শুনে বেশ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে রইলেন। মাইশি ৩-৪দিন ধরে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কোনো খাবার মুখে দিচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পরপর অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই আরিফ সাহেব তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। যদিও সমস্যাটা অনেক বছর ধরেই মাইশির সাথে ঘটছে। আর ডাক্তার কী আজব কথা বলছে! তাই আরিফ সাহেব বেশ উত্তেজিত হয়ে ডাক্তারকে বলতে লাগলেন, আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন ডাক্তার? এইটুকু একটা বাচ্চা মেয়ে সম্পর্কে এমন অদ্ভুত কথা বলতে আপনার মুখে বাজল না! এর চেহারা দেখে আপনার কী মনে হয় এর গর্ভে এতবড় একটা সন্তান থাকবে? আর থাকলে তা শরীরের বাহিরের অংশ জানান দিবে না?

ডাক্তার সাহেব মুখ গোমড়া করে রইলেন। এর উত্তর তার কাছেও নেই। এমন অদ্ভুত ব্যাপার তিনি এর আগে কখনই দেখেন নি বা শুনেননি। সন্তান ধারণের ক্ষমতার জন্য মেয়েদের একটা নির্দিষ্ট বয়স রয়েছে। সেটা ১২ এর উপরে। কিন্তু মেয়েটার বয়স মাত্র ৮। তিনি নির্বাক। আরিফ সাহেবও বেশ রেগে উত্তেজিত হয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করলেন। বাড়িতে ফিরে এসে মাইশিকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে চুপচাপ তার মাথার পাশে বসে রইলেন তিনি। মাইশির অসুস্থতা আগের মতই আছে। কিছুই খেতে চাচ্ছে না। কিছুদিন ধরেই প্রচন্ড জ্বর মেয়েটার। সামান্য জ্বর থেকে রোগটা বড় হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে একটা সুস্থ মস্তিষ্কের ডাক্তার এমন অদ্ভুত কথা কী করে বলতে পারেন! আরিফ সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইমরান হোসেন। খুব বড় ডাক্তার তিনি। পরিবার নিয়ে গেছেন বিদেশে বেড়াতে। আজই তার দেশে ফেরার কথা। তাকে এই বিষয়ে জানানো দরকার। আরিফ সাহেব ইমরান হোসেনকে কল করে জানতে পারেন তিনি গতকালের ফ্লাইটেই দেশে ফিরেছেন। মাইশির অসুস্থতার কথা শুনেই তিনি বলেন এখনই তিনি আসবেন।

আধা ঘন্টার মধ্যেই ইমরান তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আরিফ সাহেবের বাড়িতে উপস্থিত হলেন। মাইশি বিছানায় শুয়ে আছে। ইমরান কিছুক্ষণ মাইশিকে পরীক্ষা করে বলেন,তেমন কিছুইতো হয়নি। সামান্য জ্বর আর শরীরটা দুর্বল। কয়েকটা ভিটামিন খাওয়াতে হবে। এছাড়া ভালো কিছু খাবার খাওয়ালেই সে সুস্থ হয়ে যাবে। আরিফ সাহেব ডাক্তার ইমরানকে নিয়ে মাইশির ঘর থেকে বের হলেন। ইমরানকে চেকাপ করার পর সেই ডাক্তারের বলা সব কথা খুলে বললেন। ইমরান কথাটা শুনে হতভম্ব হয়ে বড় বড় চোখ করে আরিফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বেশ রেগেই বললেন, কোন ছাগল এমনটা বলেছে! একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এই ধরণের রসিকতার কোনো মানে হয়! আরিফ সাহেব ডাক্তারের নাম বলতেই ইমরান বেশ অবাক হয়। এই ডাক্তারকে ইমরান চেনে। সে ইমরানের চেয়েও সিনিয়র ডাক্তার। এবং শহরে তার বেশ খ্যাতি রয়েছে। তিনি অকারণে এইরকম অদ্ভুত একটা কথা কখনও বলবেন না।

ইমরান আরিফ সাহেবের বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে সোজা চলে গেলেন ডাক্তার ইলিয়াসের চেম্বারে। যেখানে মাইশিকে চেকাপ করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে মাইশি সম্পর্কে সব কিছু জানতে চাইলেন ইমরান। ডাক্তার ইলিয়াস তাকে মাইশির সমস্ত রিপোর্ট দেখালেন। ইমরান রিপোর্টটা দেখে পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। রিপোর্টে মাইশির গর্ভে স্পষ্ট একটা ভ্রুণের অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। সাধারণত মাতৃগর্ভে ভ্রুণের বয়স ২৪-২৬ সপ্তাহ হলে ভ্রূণ এমন আকৃতি হয়।
ইমরান বিস্ময়ভরা কন্ঠে ইলিয়াসকে বলল:
-ওহ মাই গড! একটা ৮ বছরের বাচ্চা মেয়ের গর্ভে এত বড় একটা ভ্রূণের অস্তিত্ব কী করে থাকতে পারে? এছাড়া মেয়েটাকে আমি মাত্র পরীক্ষা করে এলাম। তার শরীর দেখতে একেবারে স্বাভাবিক।
-আমিও কিছুই বুঝতে পারছি না। এইরকম বিরল কেস আমি এর আগে কখনও দেখিনি।
-এইটা কী টিউমার হতে পারে না?
-এতবড় একটা টিউমার হলে শরীরের বাহিরে তা জানান দিত অবশ্যই।
-মেয়েটাকে বাহির থেকে দেখতে তো স্বাভাবিক লাগে। তার কোনো বড় ধরণের রোগ থাকলেও বোঝার উপায় নেই। কিন্তু আপনি হঠাৎ এতকিছু বাদ দিয়ে মেয়েটার পাকস্থলী চেক আপ করতে গেলেন কেন? আমি বোঝাতে চাচ্ছি, আপনার কেন মনে হলো মেয়েটের পেটে কোনো রোগ থাকতে পারে?
-আসলে আমি মেয়েটাকে স্বাভাবিক ভাবেই চেক আপ করছিলাম। মেয়েটা প্রচন্ড জ্বরে একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। হঠাৎ সে ঘোরের মধ্যেই বলতে শুরু করল তার পেটের ভেতর থেকে নাকি অনেকদিন ধরেই কিছু একটা প্রচন্ড আঘাত করে, তাকে খুচায়। আমি বেশ অবাক হলাম। কৌতুহল বসতই চেকাপ করলাম। আর এইরকম অদ্ভুত একটা জিনিস দেখলাম।

ডাক্তার ইলিয়াস এবং ডাক্তার ইমরান বেশ কিছুক্ষণ নীরব ভাবে বসে রইলেন। এরপর ডাক্তার ইলিয়াস ইমরানের কাছে মাইশির পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। এবং তিনি কী করে আরিফ সাহেবকে চেনেন তাও জানতে চাইলেন। ইমরান এবার বেশ উত্তেজনার সাথেই বলতে আরম্ভ করলেন।

আরিফ আমার কলেজ বন্ধু। সেখান থেকেই তার সাথে আমার গভীর বন্ধুত্ব। আরিফ ২২ বছর বয়সেই শম্মী নামের একটা মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের বিয়ের পরের ৮ বছর কোনো সন্তান হয় না। শম্মী বা আরিফ যে কেউ হয়তো বন্ধা ছিল। তবে এবিষয়ে আরিফ আমাকে কিছুই বলেনি। একটা বাচ্চা সন্তানের জন্য যে তাদের মধ্যে হাহাকার ছিল তা বেশ বুঝতে পারতাম। আমি কয়েক বার বললাম চেকাপ করাতে। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। কিন্তু আরিফ আমাকে এড়িয়ে যেত। সে যে অন্য কোথাও আমাকে না জানিয়ে চেকাপ করাতো তা আমি টের পেয়েছিলাম। তাই আর এই বিষয়ে তাকে বেশি ঘাটাতাম না। বিয়ের ৯ বছরের মাথায় মাইশির জন্ম হয়। তারপরে তাদের সংসার বেশ আনন্দের সাথেই কাঁটতে থাকে। মাইশির বয়স যখন ৩ তখন শম্মীর গর্ভে আরও একটি সন্তান আসে। কিন্তু সেই সন্তান আর পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি। ভ্রুণের বয়স যখন ৬ মাস তখন হঠাৎ একদিন শম্মী আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যার কথাশুনে ডাক্তার ইলিয়াস বেশ চমকে উঠেন। বিস্মীত কন্ঠে বললেন, গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যা করলেন কেন তিনি? ইমরান কিছুটা শান্তস্বরে উত্তর দিল, সেটা আমি জানি না।
এই বিষয়ে আমি আরিফকে কিছুই কখনও জিজ্ঞেস করিনি। সেও কিছু বলেনি কখনও। শম্মী কোনো আত্মহত্যার নোট রেখে যায়নি। তার লাশটা সিলিংএ ঝুলে ছিল। পুলিশ সন্দেহ করে আরিফ তাকে শ্বাসরোধ করে মেরেছে। আরিফকে তারা ধরেও নিয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ পরে এমনিতেই ছেড়ে দেয় তাকে। আরিফের স্ত্রীর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই তাকে ঘাটাতে থাকে। তাই তাদের সবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সে। একমাত্র আমিই এবিষয়ে তার কাছে কিছুই জানতে চাইতাম না। তাই এখনও তার সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে।

ডাক্তার ইলিয়াস বেশ মনোযোগ দিয়েই ইমরানের কথা শুনলেন। ইমরান সেই রিপোর্টগুলো নিয়ে ইলিয়াসকে বিদায় জানিয়ে তার চেম্বার ত্যাগ করেন। এবিষয়ে যেকোনো সহায়তা লাগলে ডাক্তার ইলিয়াস তাকে সহায়তা করবেন, এই বিষয়েও ইমরানকে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ডাক্তার ইমরান তার চেম্বারে ফিরে আসেন। একটা আট বছরের বাচ্চা মেয়ের এই অবস্থা তাকে বেশ ভাবাচ্ছে। তার উপর মেয়েটা তার খুব পরিচিত। রিপোর্টগুলো বেশ ভালো করে দেখলেন ইমরান।দেখার পর আরিফ সাহেবকে কল করে মাইশিকে নিয়ে একবার তার চেম্বারে আসতে বললেন।

আরিফ সাহেব এবং মাইশি ডাক্তার ইমরানের চেম্বারে আসলেন। ইমরান, আরিফকে বসিয়ে রেখে মাইশিকে
নিয়ে গেলেন চেকাপের জন্য। মাইশিকে চেকাপ রুমে গিয়ে তার কাছ হতে জানতে চান, আচ্ছা মা মাইশি, তোমার পেটে কী কোনোরকম যন্ত্রনা হয়? মাইশি শান্ত স্বরে উত্তর দিল, মাঝেমধ্যে খুব যন্ত্রণা হয়। মনে হয় কেউ পেটের ভেতর থেকে খোচাচ্ছে। আবার মনে হয় পেটের ভেতর কিছু একটা নড়ছে।

ডাক্তার ইমরান মেয়েটার চেকাপ করালেন। চেকাপ করার পর রিপোর্ট দেখে আবার একবার বিষম খেলেন। ডাক্তার ইলিয়াসের রিপোর্ট ভূল না। ইমরানের রিপোর্টেও স্পষ্ট ৬ মাস বয়সের একটা ভ্রুণের অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এটাতো অসম্ভব। এইটুকু একটা বাচ্চা মেয়ে। ইমরানের মাথায় কিছুই আসছেনা।

তিনি মাইশিকে রুমে বসিয়েই আরিফ সাহেবের কাছে যান। আর সব কিছু গুছিয়ে বলেন। বলেন তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। দুটো জায়গায় একই ভূল কিছুতেই হতে পারে না। নিশ্চই মাইশির পেটে কোনো গন্ডগল রয়েছে। এখন অপারেশন করা ছাড়া আর কোনো গতি নেই। আগামীকালই তিনি ডাক্তার ইলিয়াসকে সাথে নিয়ে অপারেশন করতে চান। আরিফ সাহেব বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। ডাক্তার ইমরান তাকে আশ্বস্ত করেন, তার কোনো ভয় নেই। মাইশির কিছুই হবে না। আরিফ সাহেব মাইশিকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।

মাইশি বিছানায় ঘুমাচ্ছে। তার ঘুমন্ত চেহারা দেখে মনে হবে এই পৃথিবীতে
তার চেয়ে সুখী মানুষ আর কেউ নেই। আরিফ সাহেব মুগ্ধ দৃষ্টিতে মাইশির মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। মেয়েটার মুখটা হয়েছে মায়ের মতোই। হঠাৎ শম্মীর কথা মনে হতেই তার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। এটা কান্নার পুর্বলক্ষণ। তার অশ্রুজল যেন শম্মীকে নিয়ে তার সমস্ত স্মৃতিগুলোকে একত্রিত করছিল। তাদের সংসারের কত কষ্টের পর মাইশি এল তাদের জীবনে। কত আনন্দেই না কাটছিল তাদের সেই দিনগুলো। মাইশির যখন ৩ বছর বয়স তখন তাদের জীবনে আরও একটি আনন্দের সংবাদ এল। শম্মী আবার মা হতে চলেছে। আরিফ সাহেবের আনন্দ দেখে কে! কিন্তু এই সংবাদের পর থেকেই যেন তাদের সংসারে অন্ধকার নেমে এল। শম্মী কেমন গম্ভীর হয়ে গেল। হঠাৎ হঠাৎ মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে চেচিয়ে উঠত। হঠাৎ একদিন আরিফ সাহেবকে শম্মী বলেছিল, চলোনা আমাদের একটা মেয়েতো আছেই। আর সন্তানের কী প্রয়োজন। গর্ভে যে আছে তাকে গর্ভপাত করে ফেলি। কথাটা শুনে আরিফ চমকে উঠেছিল। শম্মীর কাছ থেকে এমন কোনো কথা তিনি আসাই করেননি। শম্মীকে বেশ বকলেন তিনি। গর্ভের সন্তানকে নিয়ে শম্মীর দুঃশ্চিন্তা যেন বেড়েই চলেছিল। আরিফ এটা আঁচ করতে পারছিল। কিন্তু এর কারণ বুঝতে পারছিল না। বুঝতে চাইছিলও না। শম্মীর এই ইচ্ছাগুলোকেই অনেক হালকা ভাবে নিলেন তিনি। এতেই ঘটল
অঘটন। একদিন অফিস হতে বাড়িতে ফিরতেই দেখলেন বাড়ির বড় গেটটা খোলা। তিনি বাড়িতে ঢুকতেই মাইশির কান্নার শব্দ পেলেন ঘরের ভেতর থেকে। দ্রুত ঘরে ঢুকতেই দেখলেন মাইশি মেঝেতে বসে বসে কাঁদছে। সিলিংএ শম্মীর ঝুলন্ত লাশ। জিহ্বা বেরিয়ে রয়েছে। বড় বড় চোখ গুলো যেন তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। এই মৃত্যুর কারণ আর আরিফ সাহেবের জানা হয় নি। এরপর থেকেই তার জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। মাইশি বড় হলো। কিন্তু তাকে ঘিড়ে অনেকগুলো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে গেছে। মাইশি এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক হতে পারেননি। শম্মী মারা যাওয়ার পর এই বাড়ির সব কাজের লোক ভয়ে পালিয়ে যায়। চলে যাওয়ার পেছনে তাদের অদ্ভুত কথাশুনে আরিফ বেশ অবাক হয়। কাজের লোকেরা বলে তারা নাকি রোজ রাতে অনেকগুলো কালো ছায়া দেখে। সবগুলো ছায়াই শম্মীর গলায় তাদের সাথে কথা বলে। তাদের নাকি চলে যেতে বলে এই বাড়ি ছেড়ে। আরিফের এই কথা বানোয়াট ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। শম্মী যদি মৃত্যুর জগৎ থেকে ফিরেও আসে। তবুও সে প্রথমে দেখা করবে তার সাথে বা মাইশির সাথে। এদেরকে ভয় দেখানোর কোনো মানেই হয়না। নতুন যেসকল কাজের লোক রাখা হয় তারাও এই একই কথা বলে। তারাতো আর শম্মীকে চিনত না। তাই বলতো, অনেকগুলো কালো ছায়া একটাই মেয়ের কন্ঠে তাদের বলত, চলে যাও এই বাড়ি ছেড়ে। আর কোনো উপায় না পেয়ে কাজের লোক এই
বাড়িতে নিষিদ্ধ হলো। আরিফ সাহেব নিজের অফিস ছাড়লেন। যেহেতু নিজের বাড়ি এবং ব্যাংকে বেশ মোটা অংকের টাকা রয়েছে তাই তাকে আর তেমন কষ্ট করতে হয়নি। একটা ব্যবসা দাড় করান এবং নিজেই মাইশিকে বড় করে তুলেন। তবে ছোটবেলা হতেই মাইশি হঠাৎ হঠাৎ এমন অসুস্থ হয়ে যায়। টানা অনেকদিন জ্বর থাকে, মাইশি কিছু খেতে পারে না। শরীর দুর্বল হতে থাকে। একাই ঠিক হয়ে যায় বিধায় এই বিষয়ে তেমন মাথা ঘামায় না আরিফ সাহেব। তবে এই প্রথম এর জন্য ডাক্তারের চেম্বারে মাইশিকে নিয়ে গেলেন তিনি। আর তার বন্ধু ডাক্তার সহ আরেক ডাক্তার কী অদ্ভুত তথ্য দিলেন তাকে। কাল নাকি মাইশির অপারেশন হবে। আরিফ সাহেব বেশ চিন্তায় রয়েছেন। মাইশিকে এবিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। একটা বাচ্চা মেয়ে বুঝবেই বা আর কী!


পরেরদিন বিকালে শহরের একটা বড় হাসপাতালে নেওয়া হলো মাইশিকে। এই হাসপাতালে ডাক্তার ইমরান এবং ইলিয়াস উভয়েই অপারেশনের কাজ করে থাকেন। মাইশিকে অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আরিফ সাহেব চিন্তিত মুখ নিয়ে অ.টির বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলেন। ঘন্টা খানেক পর ডাক্তার ইমরান এবং ইলিয়াস গম্ভীর মুখে অ.টি থেকে বের হলেন। আরিফ সাহেব দ্রুত তাদের কাছে গেলে ইমরান বলেন, চিন্তা করো না বন্ধু। মাইশির কিছু হয়নি। আমরা পরীক্ষা করে কিছুই খুঁজে পেলাম না। তবে এর শেষ দেখে ছাড়ব আমরা। তোমার মেয়ের কিছুই হবে না। সে অচেতন হয়ে আছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরবে। এখনই তাকে বের করা হবে। কালকেই তুমি নিয়ে যেতে পারবে তাকে।

ইমরান এবং ইলিয়াস দুজনের মুখেই মাক্স পড়া। তাদের চোখ ভয়ংকর রকমের লাল। এই চোখ আর ইমরানের অদ্ভুত চাঁপা কন্ঠের কথা শুনে বেশ চমকে যান আরিফ সাহেব। তারা যেন একটা ঘরের মধ্যে রয়েছে। আর অপারেশনের পরের দিন পেশেনকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবে এটা শুনেও তিনি বেশ অবাক হলেন। ইমরান এবং ইলিয়াস তাকে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। অচেতন মাইশিকে বেডে স্থানান্তর করা হলো। সারারাত সে চোখ খুলেনি। আরিফ সাহেব সারারাত তার বেডের পাশেই জেগে ছিলেন। শেষরাতে চোখ লেগে যায় তার। সকালে মাইশির ডাকে তার ঘুম ভাঙে। বাবা, পেটে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। কেউ যেন ভেতর থেকে খোচাচ্ছে। আরিফ সাহেব চমকে ঘুম থেকে উঠেন। মাইশির অপারেশনের কাপড় সড়িয়ে পেট দেখে তিনি বেশ অবাক হন। পুরো পেটে অপারেশনের কোনো চিহ্ন নেই। এরইমধ্যে হাসপাতালের একজন নার্স এসে ভয়ংকর একটা সংবাদ শুনালেন। যা শুনে আরিফ সাহেবের হৃদপিন্ড যেন থেমে যেতে চাইছে। পায়ের নিচ হতে মাটি সড়ে যাচ্ছে। তার বন্ধু ডাক্তার ইমরান এবং ডাক্তার ইলিয়াস দুজনেই নাকি গতরাতে আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন। ..........................................................................


. . . . . . চলবে ..........


#ওঁ_আসবেই


smell of love

(copied)

[ Nice, next, f না লিখে গঠনমূলক মতামত দিন বা সমালোচনা করুন।

Photos from CricinFo Bangladesh's post 29/04/2019

টাইগার শুয়েবের বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তাভাবনা!!

শুধু বিশ্বকাপ না---প্রতি টুর্নামেন্টেই দলের কাছে ভালো কিছু চাই!

আর সপ্নতো দেখি আমি সবসময় যে---একদিন আমরাও বিশ্বকাপ ঝিতবো!!😍
আর সপ্নটা নতুন ভাবে দেখতেছি না!
যখন থেকে ক্রিকেট খেলা বুঝি,, ক্রিকেট খেলা দেখি,,,সাপোর্ট করতে শুরু করি!
তখন থেকেই এই সপ্ন আমার যে,, একদিন আমরাও ওয়াল্ড কাপ ঝিতবো!.😍😍

২০১৫,,,২০১৭,, এই সালের বড় বড় টিমকে হারানোর দ্বারাটি যদি অব্যাহত থাকে,, আর আল্লাহ যদি চাহেন তাইলে এবারের বিশ্বকাপ আমাদের করে নিবো ইনশাআল্লাহ!!

বিসিবির সাথে আমার কথা হয়েগেছে অলরেডি!
যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে আমিও এবার আমার দেশের, লাল সবুজের পথাকা টি উড়াতে চাই ইংলান্ডের মাঠিতে!!🇧🇩🇧🇩🚩🇦🇮

শুধু আমি না,, আমার আরো ৩ বন্ধু,
১) সুধির (ইন্ডিয়া)
২) চাচা (পাকিস্তান)
৩) গায়ান (স্রীলংকা)
এদের সাথেও আলাপ হয়েছে!
সবকিছু ঠিক থাকলে আর আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রাখলে আমরা ৪ জনই থাকছি এবারের বিশ্বকাপেঃ____ক্রিকেট ভক্ত টাইগার শুয়েব.♥

29/04/2019

আর মাত্র ৮ দিন বাকি!!
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রতিটি ম্যাচের স্কোর এবং নিউজ জানতে আমাদের পেজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন।

27/04/2019

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগের মূল ক্রিকেটার মুশফিক!

যদি বাংলাদেশের মধ্যে শুধু মাত্র খাঁটি ব্যাটসম্যান হিসেবে কাওকে দেখা হয়---তাহলে বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান একমাত্র মুশফিকুর রহিম!!

ছোটখাট গড়নের অধিকারি হলেও তাঁর ভেতর অনেক উদ্যম রয়েছে!
উইকেটের চারপাশে খেলতে সক্ষম সে!!
___-বললেনঃ- মোহাম্মদ ওয়াসিম পাকিস্তান..♥

-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম!
ব্যাট হাতে উইকেটের চারপাশে খেলার সামর্থ্য রাখা মুশফিকুর রহিমে তাই বাজি ধরেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ওয়াসিম!

গত এশিয়া কাপেও বাংলাদেশ দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে ব্যাট হাতে মোক্ষম ভূমিকা রেখেছিলেন মুশফিক!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংসের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৯ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেছিলেন এই ডানহাতি!💪

স্পিন কিংবা পেস, যে কোন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দুর্দান্ত মুশফিক!
তাই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগের মূল ক্রিকেটার হবেন মুশফিক!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ মুশফিককে নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে ১৮ টেস্ট এবং ২৫ ওয়ানডে খেলা মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন,

‘যদি শুধু মাত্র খাঁটি ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখা হয় তাহলে বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম!
ছোটখাট গড়নের অধিকারি হলেও তাঁর ভেতর অনেক উদ্যম রয়েছে---উইকেটের চারপাশে খেলতে সক্ষম সে!!
স্পিনার এবং পেসারদের সে দুর্দান্ত স্লগ সুইপ খেলে!!

‘তবে পেসারদের বিপক্ষে স্কয়ার অব দ্য উইকেটে সে অনেক বেশি শক্তিশালী!
ব্যাক ফুটে দারুণ খেলে, সামনেও তাঁর সামর্থ্য দুর্দান্ত.👌👌
স্পিনারদের তো এমনিই ভালো খেলে.👍👍 বাংলাদেশের জন্য মুশফিকুর রহিম হবে তাঁদের মূল ক্রিকেটার ব্যাটিং বিভাগে!!

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Doha?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Doha