28/07/2026
একটা লম্বা রেলস্টেশন। স্টেশনজুড়ে অনেকগুলো বেঞ্চ।
প্রথম বেঞ্চে বসে থাকে শৈশব।
সেখানে মা-বাবার হাত শক্ত করে ধরা থাকে।
ভয় কম থাকে। দায়িত্বও কম থাকে।
তারপর একসময় উঠে যেতে হয়।
দ্বিতীয় বেঞ্চে আসে বন্ধুরা।
হাসি থাকে। স্বপ্ন থাকে। অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে,
"আমরা সারাজীবন একসাথে থাকব।"
কিন্তু যখন ট্রেন আসে, কেউ আগে উঠে যায়। কেউ অন্য স্টেশনে নেমে যায়।
আবার একা একা হাঁটতে হয়। এরপর আসে আরেকটা বেঞ্চ।
সেখানে ভালোবাসা অপেক্ষা করে।
কেউ পাশে বসে ভবিষ্যতের গল্প বলে।
কেউ বলে, "আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যাব না।"
কিন্তু সব গল্প শেষ পর্যন্ত একইভাবে শেষ হয় না।
কিছু মানুষ মাঝপথেই নেমে যায়।
কিছু সম্পর্ক শুধু একটি স্টেশন পর্যন্তই টিকে থাকে।
জীবন থেমে থাকে না। স্টেশনে আরও অনেক বেঞ্চ আসে।
কাজ। সংসার। সন্তান। দায়িত্ব। অর্জন। ব্যর্থতা।
প্রতিটি বেঞ্চে কেউ না কেউ কিছু সময়ের জন্য পাশে বসে।
তারপর আবার উঠে চলে যায়।
অনেক বছর পরে, স্টেশনের একেবারে শেষ প্রান্তে একটা বেঞ্চ থাকে।
সেখানে বসে মানুষ প্রথমবার বুঝতে পারে,
এই পুরো যাত্রায় সে আসলে কাউকে ধরে রাখতে পারেনি।
ধরে রাখার কথাও ছিল না। সবাই নিজের নিজের ট্রেনে উঠেছে।
নিজের নিজের গন্তব্যে গেছে। ঠিক তখনই...
ধীরে ধীরে আরেকজন এসে সেই শেষ বেঞ্চে বসে।
সে বেশি বলে না। শুধু পাশে বসে থাকে।
কারণ এত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার পর,
মানুষ আর নিখুঁত কাউকে খোঁজে না।
হয়তো সেই মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী।
হয়তো হতে পারে মানুষটি একজন পুরোনো বন্ধু।
হয়তো আপনার কোনো পরিচিত ব্যক্তি।
হয়তো এমন একজন, যার সঙ্গে আপনার রক্তের সম্পর্কও নেই।
কিন্তু সে থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত। জীবন আমাদের এভাবেই শেখায়,
সবাই আপনার সঙ্গে পুরো পথ হাঁটবে না।
অনেকেই শুধু কয়েকটা স্টেশন পর্যন্ত সঙ্গী হবে।
তাই মাঝপথে কেউ চলে গেলে তাকে দোষ দেবেন না।
হয়তো তার গন্তব্য সেখানেই ছিল। শুধু একটি আশা রাখুন,
যখন আপনি জীবনের শেষ বেঞ্চে গিয়ে বসবেন,
তখন যেন অন্তত একজন মানুষ আপনার পাশে নীরবে এসে বসে বলে,
"এত দূর তো একসাথে এসেছি। বাকি পথটুকুও একসাথেই বসে থাকি।"